আসিফ মহিউদ্দিনের ফেসবুক টাইম লাইন ঘুরে ঘুরে বেশ কিছু লেখা পড়লাম তার। কিছু ভিডিও দেখলাম যেখানে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেস্টা করেছেন। আসিফ মহিউদ্দিনের লেখা এবং ভিডিও গুলোর মাধ্যমে তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছেন ধর্ম বলতে কিছুই নেই। আর ধর্ম বলে যদি কিছু থেকে থাকে তাহলো মানব ধর্ম। তার মতে আল্লাহ কিংবা ঈশ্বর বলে কিছু নেই; এসব মানুষের সৃষ্টি! 


ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করে আসিফ মহিউদ্দিনের লাভ কী, বিষয় গুলো পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন এবং তিনি তার যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে ধর্ম থেকে বা সৃষ্টিকর্তার ধারণা থেকে মানুষকে সরিয়ে আসলে কোথায় নিতে চাইছেন। ধর্ম সে মানুষ নিজে সৃষ্টি করুক আর তা সৃষ্টিকর্তা দ্বারা পরিপূর্ণ জীবন বিধান হিসেবে প্রাপ্ত যা ই হোক না কেন ধর্ম কখনো মানুষের অকল্যাণ বয়ে আনেনি। মহাবিশ্ব সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে আজ আবধি মানুষ সব থেকে যে প্রভাবশালী প্রভাবক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে আদর্শিক জীবন-যাপনে অভ্যস্ত হয়েছে তা অবশ্যই ধর্ম। ধর্ম আছে বলেই আজও পিতার সাথে কন্যার, মাতার সাথে পুত্রের, ভাইয়ের সাথে বোনের সম্পর্ক গুলো এতো পবিত্র। 

যে মানব ধর্ম বলে চিৎকার করে আজ নাস্তিক প্রমাণ করে নিজেকে সর্বোচ্চ পন্ডিত ভাবতে শুরু করেছেন কিছু মানুষ; তারা আসলে ভুলেই গিয়েছে শৈশব থেকে কৈশর পর্যন্ত ব্যক্তি ভালো মন্দ, সত্য-মিথ্যা বিবেচনা করে সমাজ অস্বীকৃত সকল কর্মকান্ড থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে একজন সমাজ স্বীকৃত ইতিবাচক চিন্তা চেতনা সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ার প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে দেয় এই ধর্মই। ধর্ম থেকেই মানবতার প্রাথমিক জ্ঞান নিয়ে সেই ধর্মীয় গন্ডির বাইরে একজন ব্যক্তি যেতেই পারে। কিন্তু আসল বিপত্তি ঘটে ঠিক তখন যখন মানবতার মত স্পর্শকাতর বিষয়কে পুঁজি করে নিজের মতাদর্শ অন্যের মাঝে যখন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে পাচার করার প্রয়াস চালানো হয় ঠিক তখন। যেখানে অধিকাংশ মানুষ ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর আস্থা রেখে শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপনে ব্যস্ত সেখানে তৃতীয় কোন পক্ষ যদি এই ধর্মীয় বিশ্বাসকে মিথ্যা প্রমাণের চেস্টায় নিয়োজিত থেকে বিজ্ঞানকে পুঁজি করে এই ধর্মীয় বিশ্বাস মিথ্যা প্রমাণের চেস্টা করে বিপত্তিটা ঠিক তখনই ঘটে। 


ধর্ম অবশ্যই বিশ্বাসের মতো একটি বিমূর্ত ধারনার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। এই বিমূর্ত বিশ্বাসের উপরের আস্থা রেখে শত শত বছর ধরে মানুষ মসজিদ, মন্দির, গীর্জার উপর আস্থা রেখেই শান্তিপূর্ণ জীবন ধারণে অভ্যস্থ হয়ে উঠেছে। ঠিক তখন যদি ধর্মের উপর বিশ্বাস হারানো ব্যক্তি ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ গুলোর আস্থাপূর্ণ বিশ্বাসের উপর নেতিবাচক উক্তির মাধ্যমে আঘাত হানে বিপত্তিটা তখন বড় আকার ধারণ করে। আপনি ধর্মে বিশ্বাসী নয় এটা একান্ত আপনার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু ধর্মহীন হয়ে নিজের যাচ্ছেতাই উক্তি ধর্মে বিশ্বাসী মানুষ গুলোর উপর চাপিয়ে দেওয়ার অর্থই হলো আপনি হয়তো আপনার কথায় প্রভাবিত মানুষটি আপনার দল ভারি করবেন নতুবা ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করার কারণে সে বা তারা বিপ্লবী হয়ে উঠবে এটাই স্বাভাবিক। 


একটা বিষয় মাথায় রাখা উচিৎ বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে কোন বিষয়ের উপর যদি কোন ব্যক্তির আস্থা অর্জিত হয়ে যায় তা রক্ষায় ব্যক্তি জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত থাকে। তাই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করার কোন বিশেষ প্রয়োজন আছে বলে আমার মনে হয় না। ধর্ম কখনো কোন ব্যক্তির ধ্বংসাত্মক কাজ সমর্থন করেনি। এখন কোন ধর্মীয় ছত্রছায়ায় আবস্থানরত কোন ব্যক্তি যদি কোন ধ্বংসাত্মক কাজ করে থাকে তাহলে এ দায় ধর্মকে দেওয়ার সুযোগ নেই; এ দায় সম্পূর্ণভাবে ব্যক্তির নিজের। 


ধর্মে ব্যাখ্যায় অনুপ্রাণিত হয়ে সামাজিক মঙ্গল যারা সাধণ করে তারাই প্রকৃত ধার্মিক। আবার অন্য দিকে ধর্মের অপব্যাখ্যা করে যারা সমাজে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করে অশান্তির সৃষ্টি করে তারা আর যা ই হোক কখনো ধার্মিক হতে পারে না। এই বিবেচনায় যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে সমাজে অশান্তি করছে তারা যেমন অপরাধী; ঠিক তেমনি যারা ধর্মের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ধর্ম সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করে মানুষকে অশান্তিপূর্ণ কর্মে উস্কে দিচ্ছেন আমার দৃষ্টিতে তারাও সমান অপরাধী।

 

লেখকঃ

আসিফ তালুকদার
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,  শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ।