মাননীয় নেত্রী, জাতির পিতা যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিল সে ছাত্রলীগ আজ এক অসহায় যৌবন অতিক্রম করছে। অসহায় যৌবন বলছি এই অর্থে যে ছাত্রলীগের লক্ষ-লক্ষ নেতা-কর্মীরা এই যৌবনের তাপে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে রুখতে রাজপথে যতোটা সক্রিয়; নিজেদের অধিকারের প্রশ্নে তারা ঠিক ততোটাই নিষ্ক্রয়।

 

মাননীয় নেত্রী, লক্ষ লক্ষ ছাত্রলীগ কর্মীর চলার পথে ভুল থাকতে পারে; কিন্তু তাদের আদর্শে বিন্দু মাত্র ভুল নেই। শিক্ষা-শান্তি আর প্রগতির অকুতোভয় আহবান নিয়ে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া, রুপসা থেকে পাথুরিয়া তারা রাজপথে সক্রিয় জাতির পিতার আদর্শকে আপনার নির্দেশ মোতাবেক বাস্তব রূপ প্রদানের জন্য।

 

মাননীয় নেত্রী, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান আমাদের আবেগের গোলাবারুদে যে ভাবে বিস্ফারণ ঘটায় তা অন্য কারো ক্ষেত্রে ঘটে কি না আমাদের জানা নেই। দূর থেকে যদি কানপেতে এই স্লোগান কেউ এক মনে শুনে থাকে আমি বিশ্বাস করি আকাশে বাতাশে মিশে যাওয়া এই আবেগময় স্লোগান তার মস্তিষ্ককে আলোড়িত করে যাবে।

 

মাননীয় নেত্রী, একজন ছাত্রলীগ কর্মী যখন প্রথম রাজপথে শিক্ষা শান্তি প্রগতির পতাকাতলে আসে তখন তার মনে বড় বড় পদের চিন্তা আসেনা। একজন ছাত্রলীগ কর্মীর প্রথম মাথায় আসে জাতির জনকের নাম এবং একটি স্বাধীন বাংলা গড়ার পেছনে তার অনবদ্য, অসামান্য ভূমিকার কথা ও ছাত্রলীগের গৌরবময় অতীত ইতিহাসের কথা। এরপরে তার মাথায় আসে জাতির জনকের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে আপনার কথা; যিনি কিনা পরিবারের সকল সদস্যদের হারিয়ে শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে নিজেকে উজাড় করে দিচ্ছেন অভাগা বাংলার মেহনতি মানুষের কল্যাণে। মাননীয় নেত্রী, ছাত্রলীগের প্রতিটা কর্মীর বাধাভাঙা আবেগ দেখতে হলে রাজপথে আসতে হবে। আপনি যখন গাড়ী বহর নিয়ে যান ছাত্রলীগের হাজার হাজার কর্মী রাস্তার দু-পাশে চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকে আপনাকে এক পলক দেখার জন্য, নিছক ভালোবাসার জন্য; কিছু পাওয়ার আসায় নয়। আপনি যখন গাড়ী থেকে হাত নাড়িয়ে সাড়া দেন মাননীয় নেত্রী বিশ্বাস করুন ছাত্রলীগ কর্মীদের সকল পরিশ্রম সার্থক হয়ে যায়।

 

মাননীয় নেত্রী, ছাত্রলীগ কখনো স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির কাছে মাথা নত করেনি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চিটাগাং বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের প্রত্যেকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিকে উৎখাত করতে ছাত্রলীগ সদা জাগ্রত আপনার ভ্যানগার্ড হয়ে। ছাত্রলীগের প্রতিটি কর্মী আপনার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে দ্বিতীয় বার ভেবে দেখবে না।

কিন্তু মাননীয় নেত্রী, আমাদের আবেগের এই বিশাল পাওয়ার হাউজে কষ্টের আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে যখন নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগকর্মী ওয়াসিম-রাজিব-ইয়াছিনকে গুলি করে হত্যা করা হয়, যখন প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাত্রলীগ নেতা নাসিম আহমেদ সোহেলকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়, মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদীখান উপজেলার কোলা ইউনিয়নের ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আসিফ হাসান হাওলাদারকে পুলিশ হেফাজতে হত্যা করা হয় এবং চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়।

 

মাননীয় নেত্রী, অপরাধী যে ই হোক তার শাস্তি হোক এটা আমাদেরও কাম্য। কিন্তু ভেবে দেখার সময় এসেছে যে ছাত্রলীগ কারো প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে কি না। আমরা যেমন অপরাধ করলে শাস্তি পেতে পারি অন্য দশজন অপরাধীর মতো; ঠিক তেমনি অন্যায় ভাবে যদি আমাদের উপর কেউ দোষ চাপিয়ে ছাত্রলীগকে দাবিয়ে রাখতে চাইছে কিনা ছাত্রলীগের মেরুদণ্ড দূর্বল করার পায়তারা চলছে কি না সেটিও ভেবে দেখা এখন আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার দাবি।

 

মাননীয় নেত্রী, আমরা ছাত্রলীগ, সম্পদের পাহাড় কিংবা ক্ষমতাধর হতে চাই না; ন্যায্য অধিকার নিয়ে আপনার ভ্যানগার্ড হয়ে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সামনে মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে থাকতে চাই।

 

আসিফ তালুকদার

সাংগঠনিক সম্পাদক

শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।