banglanewspaper

প্রচন্ড মানসিক চাপ নিয়ে আজ আর চুপ থাকা যাচ্ছেনা। আমি ব্যাক্তিগতভাবে চারিদিকে যা দেখছি তাতে এত বছরের নির্ভিক সংকিত করছে আমাকেও।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং দেশের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর দায়িত্বে থাকা আমার অত্যন্ত শ্রোদ্ধাভাজন মহামান্যের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান রেখেই আজ বলছি আমরা আসলে কোথায় নিরাপদ? সেই সাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রকৃত সকল দেশ প্রেমী বাহিনী প্রধাণদের প্রতিও আমার শ্রোদ্ধা অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।

তবে সচেতন নাগরিক হিসেবে সকল সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে কিছু প্রশ্ন রাখছি যা আপনাদেরকে জানাতে এবং তার সাথে আমাদের সহকর্মীদের সচেতন করতেই এ লেখা।

 

কিছুদিন আগেই শুনলাম পুলিশ বিভাগ ২০ জন সাইবার এক্সপার্ট নিয়োজিত করা হয়েছে। সকল প্রকার অসৎ এবং সাইবার ক্রিমিনালদের মনিটরিং করার জন্য কিন্তু কোথায় তারা! তাদের মনিটরিং এ কি ধরা পরছেনা প্রতি মুহুর্তে নামে বেনামে বিভিন্ন ফেক আইডি খুলে, এবং নিয়ত্রণহীন ভাবে বিভিন্ন নামে ফেসবুকে নিউজ পোর্টাল খুলে, সেখান থেকে ইচ্ছে মত যা খুশি তাই লিখে সরকারের ভাব মুর্তিকে নষ্ট করার জন্য এক ধরণের অনলাইন নিউজের সম্পাদকগণ সেই নোংরা দালালীর মহাউৎসবে মেতে উঠেছে!

বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী আজ অবধি দেশের এবং দেশের মানুষের জন্য নিজের জীবনের পরোয়া না করে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন। কারণ তিনি জনগণের সর্বোচ্চ আশার শেষ আশ্রয় স্থান। তাই জনগণের সন্তুষ্টির জন্য তার নিজের সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ভুলে কাজ করে চলছেন অবিরত।

কিন্তু অন্য দিকে এসব কি হচ্ছে! গত ৪৫ বছর পর যে পাপিষ্ঠদেরকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়েছে, কিন্তু সেই পাপীদের ঔরসজাত বংশধররা তো আজো বহাল তবিয়তেই ঘুড়ে বেড়াচ্ছে। এত বছরে তারাও তো নিজেদের দল ভারি করে নানা ভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ ৫ কুলাংগারের ফাঁসির পর তাদের সন্তানরা একত্রিত হয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের ফেসবুক স্টাটাসে জোড়ালো আন্দলের হুমকী দিচ্ছে।

তাদের সাথে তাদের ৪৫ বছরের ঘাপটি মেরে থাকা কত লাখ অনুসারী এত বছরে জন্ম নিয়েছে তার সঠিক হিসেব বোধ করি কারো কাছেই স্পষ্ট নয়। এবং সব থেকে ভয়ের ব্যাপার হলো জাতি এখনো নিশ্চিত নয় যে তারা সরকারের কোন সেক্টরে ঘাপটি মেরে বসে নেই। বা সরকারের ভেতরে বসেই সেই রাজাকার বাহিনীর অনুরাসারী হয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করছে না !

এ প্রসংগে আমি আরো একটু স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। যে আমলে নিজামীর গাড়িতে ন্যাশনাল ফ্লাগ লাগানো ছিল, আর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রাণ পুরুষ তোফায়েল আহমেদ, সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত সাহেব দের মত মহান যোদ্ধারা তাকিয়ে চোখের জল ফেলেছিলেন। সেই কয়েক বছরে কত জন বিসিএস কর্মকর্তা, সরকারী অনান্য বিভাগেও কত শত বা হাজার লোক নিয়োগ হয়েছিল সেটার হিসেব কে রেখেছেন? অথবা পুলিশ বাহিনীতে কনস্টাবল সহ অন্যান্য পদে মোট কত হাজার লোক নিয়োগ দেয়া হয়েছিল ?

অবাক হচ্ছেন এগুলা আপনার বিচক্ষণ মস্তিক কে জিজ্ঞাসা করুণ উত্তর পেয়ে যাবেন আশা করি। এবং সে সময়কার ক্ষুদ্র পদে নিয়োগ পাওয়া চাড়া গাছ গুলো এত বছরে যে মহিরুহ হয়ে যায়নি তার গ্যারান্টি কি আপনি দিতে পারবেন নাকি আমি পারবো। সেটা পারা সম্ভবও নয়।

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী আমাদের অহংকারের সম্পদ তাই তাদের সবাই কে কোন দিন ই আমি নোংরাদের কাতারে দাড় কারাচ্ছিনা। বরং অসীম শ্রোদ্ধা জানাই সেই সব বীর সন্তানদের যারা দিনরাত ২৪ ঘন্টা আমারদের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তবে সত্যি টা হল জামাতের বীজ বোনা চাড়া গাছ গুলোও যে খুব সন্তপনে ভাল এবং সত্যিকারের দেশ প্রেমিক পুলিশ বাহিনীর মধ্যে ঘাপটি মেরে নেই সেটাও আমি মানতে পারছি না। অন্তত বিগত কিছু দিনের ঘটনার পরে তো নয় ই।

আরো বিশদ ভাবে বলার আগে আমার পারিবারিক ছোট্ট একটা ঘটনা বলতে চাই। যদি ও এটা একান্তই আমার পার্সোনাল ব্যাপার তবু আজ বলতেই হচ্ছে। গত রোজার ঈদের ১৫ দিন আগের ঘটনা এটা। আমার সন্তানের বাবা অত্যন্ত নিরিহ আর শান্ত স্বভাবের মানুষ বলে এলাকায় তার একটা সুনাম আছে। সেই সাথে তার বাবা ছিলের আর্মীর অবসর প্রাপ্ত সি এম এইচ এর ডক্টর, তার আরো একটা পরিচয় হল তিনি স্বসস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং সেই আমলেই তাকে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফাই করেছিল বঙ্গবন্ধু নিজেই। তাহলেই বুঝুন সেই বাবার জন্ম দেয়া সন্তান যখন আমার সন্তানের পিতা। তবে সেই মানুষটির আর যাই হোক দেশের এবং সমাজের কোন নোংরা কাজ করতে পারবে না, আই মিন তার রক্তই তাকে করতে দিবে না। তারপর ঘরে যখন আছি আমার মত কেউ তাহলে তো প্রশ্নই আসে না তাইনা?

কিন্তু না গত বছর ১৫: রোজার রাতে হঠাৎ করে আমার কন্যার বাবা উধাও, বাসা থেকে বলে বেড়িয়েছিল কাফরুলে তার বোনার বাসায় যাচ্ছে। অথচ জীবনে সে খুব প্রয়োজন না হলে বাসার বাইরে রাত কাটায়না আর গেলেও তখন আমার কন্যা এবং আমার পার্মিশন নিয়েই যায়। যা বলছিলাম, রোজার রাত ১১-১২-১-২-৩-৪-৫-৬ ঘন্টার পর ঘন্টা পার হচ্ছিল আমি হেনো জায়গা বাদ রাখিনি ফোন দিয়ে, বিভিন্ন থানা, হাসপাতাল, ক্লিনিক, তার বাবার বাসা সহ সর্বত্র খুজে ভোর ৭ টায় গিয়েছিলাম মোহাম্মদপুর থানায় মিসিং ডায়েরী লিখাতে। সংগত কারণেই থানার ওসি সাহেব আমার কথা শুনে মর্নিক ওয়াক ছেড়েই চলে এসে বিভিন্ন থানায় ফোন দিতে দিতে যখন হয়রান ঠিক তখন মিরপুর ১৪ নম্বরের কাফরুল থানায় আমার কন্যার বাবাকে সারা রাত ধরে আটকে রেখে তাকে সন্ত্রাসী মামলায় ফাসানোর হুমকী দিচ্ছিলো। আর শারিরিক অত্যাচার করেছিল আর মোটা অংকের টাকা দিয়ে সেটা মিট করার কথা বলেছিল, ওই থানা পুলিশের তথাকথিত দুই সোর্স, গায় হাত তুলেছিল ও সে সোর্স নাম ধারী চাদাবাজ রাই। কিন্তু আমি যখন এটা শুনলাম সাথে সাথে ওই এরিয়ার পুলিশের ডিসিকে ফোনে জানাতে চেয়েছি তখন জেনেছি তিনি ছুটিতে ছিলেন। ডিসির ফোন না পেয়ে, আমার বন্ধু জাতীয় সংসদের ডেপুটি সার্জেন্ট আর্মস এ এস পি সেলিম'কে জানালাম। মূলত আমি লজ্জা পাচ্ছিলাম এটা জেনে যে ওকে রাস্তায় বাইক থামিয়ে ধরে ওর গায়ে ফেন্সিডিল ছিটিয়ে দিয়েছিল ওই কাফরুল থানার সোর্সরা, (আরেকটা কথা জানিয়ে রাখি সোর্স নামধারীগুলো কিন্তু সরকারী বাহিনীর রিক্রুট করা কেউ নয়। এরা হল কিছু অসৎ পুলিশের প্রতিদিনান্তে নিরিহ মানুষকে সন্ত্রাসী হিসেবে চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে সম্মামী মানুষের টাকা ছিন্তাই করা দল। যাদের ছিন্তাই করা টাকার ভাগ বাটোয়ারা হয় দিন শেষে সংস্লিষ্ট থানাতেই আর সেই সুবাধে এরাও নিজেদের আইনের লোক বলে পরিচয় দেয়) যাতে ওকে নেশাখোর আর ড্রাগ ব্যবসায়ী আর সন্ত্রাসী প্রমাণে সুবিধা হয়। আর এটা বলতেই আমি সাই ফিল করেছিলাম। তবু আমি এস এস পি সেলিম কে বললাম ঘটনা তারপর বন্ধু সেলিম আমায় জানালো মিরপুর রেঞ্জের দায়িত্বে আছেন এডিসি মাসুদ সাহেব। উনি খুবই ভদ্র মানুষ এটা আমি শত ভাগ নিশ্চিত। যখন তিনি আমার কথা ওভার টেলিফোনেই শুনলেন সাথে সাথে আমায় বললেন "ম্যাম আপনি নিশ্চিত থাকুন এখনি আমি কাফরুল থানায় যাচ্ছি। আর ব্যাবস্থা নিচ্ছি।

পরে এডিসি মাসুদ সাহেবের কথায় আর কিছু না পেরে ছেড়া দিতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু আমি থেমে না থেকে "টট আইনে" মামলার জন্য সব ডাক্তারি প্রেস্ক্রিপসন রেডি করে কেইস ফাইল করব ঠিক তেমন সময় আমার বন্ধু এডিসি এবং এ এসপির অনুরোধে শুধু সতর্কতার নির্দেশ দিয়ে থেমে গেছিলাম। কারণ পাছে আমার বন্ধু দু' জনের নাম ও জড়িয়ে যাচ্ছিল বলেই আমি তাদের সম্মান রক্ষায় থেমে গিয়েছিলাম। পরে অবশ্য ওই থানার সেকেন্ড অফিসার সহ অনেকেই আমার সামনে আমার সাহস না পেয়ে ক্ষমা চেয়েছিল ফোনেই।

এই কাহিনী আমার নিজের লাইফের তাই আজ যে বিষয় টা অধিক গুরুত্ব দিচ্ছি সেটা উপস্থাপনের জন্যই এত বাড়তি প্রমান টানতে হলো। এবং সেটা অবশ্যই আওয়ামী রাজনীতির সুতিকাগার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের উপর এহেন ষড়যন্ত্রকারী মহলের বিরুদ্ধে ঠিক তেমনি অত্যাচার হতে দেখে আবারো আমি মুখ খলছি।

আপনারা কি ভুলে গেছেন আমারদের বঙ্গবন্ধু সে আমলে ক্লাস সিক্স থেকেই ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে থেকে আমৃত্যু সংগ্রাম করে এই সোনার বাংলা এনে দিয়েছিল। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই ছাত্র রাজনীতি করেছিলেন, আরো কি জানেন না যে তোফায়েল আহমেদ, সহ বাংলাদের প্রকৃত আওয়ামীলীগ এর সব সিনিয়র নেতারা সবাই ছিলেন ছাত্র রাজনীতিত মূল খুটি। নাকি জানেন না যে মহামান্য স্ব্যয়ং এই ই প্লাটফর্ম থেকে আজ রাষ্ট্রপতির মসনদে অধিষ্টিত। এবং তাদের আত্মা এখনো পরে আছে তাদের সেই ছাত্রলীগের সংগঠনের মধ্যেই।

তবে কোন সাহসে এবং কারা! যখন শেখ হাসিনা সরকার এক এক করে সব যুদ্ধাপরাধীদের কবরে পাঠাচ্ছেন আর নানা দিকের চাপের মধ্যে আছেন। ঠিক সেই সুযোগে প্রশাসনের মধ্যে জামাতী আমলের বীজ গুলো এখব মাথা চারা দিয়ে সারা দেশের সেই সব ছাত্রলীগের নেতাদের বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে ছাত্রলীগ আর আওয়ামীলীগ এর মধ্যে নোংরা চাল খেলে দুই সংগঠনের ফাটল ধরানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন এত সাহস আপনাদের এলো কোত্থেকে ?

কি ভাবছেন এসব বঙ্গবব্ধুর যোগ্য কন্যা কিছুই বুঝেননা ? আর তিনি মিডিয়ার স্বাধীনতা দেওয়ার তার অসৎ ব্যাবহার করতেই থাকবেন এবং তিনি চেয়ে চেয়ে দেখবেন? যিনি তার প্রাণের ছাত্রলীগ কে এভাবে ক্ষেপিয়ে পুরো আওয়ামী সরকার কে বিপদে ফেলার নতুন ষড়যন্ত্রের জন্য পেছনে গুটি কারা গুটি চাল দিচ্ছে ।

আর কিছু সময় দিন মাননীয় প্রধানমত্রী কেবল মাত্র শীর্ষ রাজাকার মুক্ত দেশ আপনার/আমার/আমাদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আর জানেনই তো, তিনি ও তার বাবার কন্যা কথা যদি মুখে একবার উচ্চারণ করেন সেটা পুরণ তিনি করবেন ই। তবে একটু ধৈর্য্য ধরতেই হবে। কারণ ফেসবুক ওয়ালের রাজনীতিতে অনেকেই ক্ষোভে দুঃখে অনেক কথা লিখা যত সহজ আর দেশের মধ্যেই রাজাকার এবং তাদের জোটে শরিক দল নিয়েও এত বড় বড় উন্নয়ন সহ অহর্নিশি শত্রুদের মাঝে ঘিরে থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা তত সহজ নয়।

 

তাই ছাত্রলীগের সকল ভাইদের প্রতি অনুরোধ আপ্নারা চোখ কান খোলা রাখুন সেই সাথে আওয়ামীলীগ এর কাউকে নিয়েই কোন রকম উস্কানী মুলক মন্তব্য করে আওয়ামীনীগ এর সিনিয়ার নেতাদের গালি না দিয়ে বরং প্রসাশনে ঢুকে থাকা জামাত শিবিরের গুপ্ত জানোয়ারদের প্রাক্তন ইতিহাসের প্রমান গুলো শুধু প্রকাশ করুন। আর আপনারা নিজেরা নিজেদের সিনিয়ারদের যত গালি দিবেন সেই কুচক্রি রাজাকারের বংশধররা আবার সেই সুযোগ নিবেই এটা ১০০% নিশ্চিত থাকুন।

ওদের বাবাদের অপকর্মের বিচারের শোধ তারা আওয়ামীলীগ এবং ছাত্রলীগের মধ্যে বিরোধ বাধিয়েই দিবেই এটা এখন ওদের মেইন টার্গেট। আর মনে রাখবেন ছাত্রলীগ কোন কালেই এতিম নয়, তবে আপনাদের এতিম বানানোর গুটি চালা শুরু হয়ে গেছে। তাই আবারো বলছি খুব সাবধানে বিষয় গুলো মেনে চলবেন।

সবাই ভালো থাকুন সব সনয়। রনি সহ সবাই ধৈর্য ধরে সঠিক সময়ের জন্য পেক্ষা করুন। বঙ্গবন্ধু যেমন জীবেনের অর্ধের এর বেশী সময় জেল হাজতে পার করেও দেশের স্বধীনতা এনেছিলেন। আপনারা তো তার আদর্শের সৈনিক তাই বলছি উতলা হবেন না জয় আপনাদের হবেই ইনশাআল্লাহ্‌ ।।

 

 

লেখিকা

 

 

মাকসুদা সুলতানা ঐক্য