মাকসুদা সুলতানা ঐক্য: সবাই যখন আন্দোলন করতে করতে হয়রান হয়ে থেমে যায় ঠিক তারপর আমি লিখি এটা আমার অভ্যাস, বলতে পারেণ বদঅভ্যাস! আমি সে দায়ও মাথা পেতে নিব। আমার লেখার জন্য প্রকৃত তথ্য, সম্পুর্ণ নির্ভুলভাবে দিতে গিয়েই এ সময়টুকু আমার লাগে।


আজ আমি বাংলাদেশের একজন সচেতন নাগরিক হয়ে সবার এর পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের বর্তমান মাননীয় মেয়র সাহেবের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি....

আপনার কাছেই জানতে চাচ্ছি রনি" র আসলে দোষ গুলো কি কি ছিল? ও চট্টগ্রাম ছাত্রলীগের অল্প বয়সি ছেলে হয়ে কেন, ৪৫ বছরের পুরাণ শত্রু জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে গেলো? নাকি যারা বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কেক কাটার সময় যারা নিজেদের প্রাক্তন দলের নেতার লেখা গান "প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ" গান গাওয়া নিয়ে ওর নিজের ওয়ালে দেয়া ১৭ মার্চের পরে পোষ্ট দেয়া সেই স্টাটাসটি? নাকি ২৬ মার্চের নাটকীয় এবং জঘন্য মিথ্যুকদের স্বাধীনতা দিবসের সেই র‍্যালীর ছবি প্রকাশ করে অবাক হওয়া স্টাটাসটি? নাকি তারপরেও প্রতিনিয়ত জামাত শিবিরের বিরুদ্ধে দেয়া স্টাটাস? নাকি প্রাক্তন মেয়র সাহেবকে নিয়ে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করে সেটা আবার নিজের ওয়ালে পোষ্ট দেয়াটা?


এবার শুরুর কথা একটু মনে করিয়ে দিচ্ছি এ মাসের শুরুর দিকে অর্থাৎ গত ০৭ মে ২০১৬ তারিখ শনিবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মির্জাপুর থেকে নির্বাচনে দায়িত্বরত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে রণিসহ নয়জনকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এসময় রনির কাছে একটি নাইন এমএম পিস্তল, ১৫ রাউন্ড গুলি ও ২৬ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এরপর তাদের হাটহাজারী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।


পরে ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত রণিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা ২০১৬ এর দুটি ধারায় এক বছর করে মোট দুই বছর কারাদণ্ড দেন। রোববার সকালে রণিকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এছাড়া রণির বিরুদ্ধে হাটহাজারী থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।


চট্টগ্রামের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত রণিকে আটকের সময় পাঞ্জাবির কলার ধরে টানাহেঁচড়া ও শারীরিক লাঞ্চনার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে ঘটনার দিন। এরপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী বিচারক হারুনুর রশিদ এবং হাটহাজারী থানার ওসিকে ‘জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত’ উল্লেখ বিভিন্ন বক্তব্য সহ নানা রকম কর্মসূচী তে নেমেছে। (যদিও তার আগের রাতেই রনিকে পুলিশ খুঁজছে বলেও স্থানীয় বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল এ প্রকাশ হয়েছে। এখানেও প্রশ্ন হল রনিকে নিয়ে পরের দুপুরের ঘটনা যদি সাজানো নাটকের ফল নাই হবে তবে, তার ঠিক আগের রাতে অর্থাৎ ৬মে ২০১৬ এর রাতে কেন পুলিশ খুঁজতে গেলো? আর গেলোই যদি তখন খুঁজে ধরলো না কেন?

এর কারণ কি সবাই এটা ভাববে না যে, সেই রাতে রনি কে ধরলে এমন শক্ত কেসে ফাঁসানো যেত না বলেই ধরেণি। এবং এই যে বিশাল নাটকিয় অংশ যা সারা দেশের মানুষ জেনেছে এবং যেই ম্যাজিষ্ট্রেট সাজা দিয়েছে, সেই ম্যাজিষ্ট্রেট এর দলগত পরিচয় নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠে আসছে এটা তাদের সম্মিলিত খেলার একটা অংশ?)


যাকগে এই ব্যাপার গুলো আমি আর নতুন করে লিখতে চাইনা। সারা দেশের পুলিশ বাহিনী সহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ কর্মকান্ডের ফলে দেশ এখন সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃত সন্রাসী রা ছাড় পাচ্ছেনা। এখন সত্যিকারের দেশ প্রেমী আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সকল সদস্যদের প্রতি বিনম্র শ্রোদ্ধাজ্ঞাপনের সময় এসেছে, ঠিক সেই মুহুর্তে কিছু নীতিভ্রষ্ট প্রশাসনিক লোকের এ ধরণের ন্যাক্কার জনক সাজানো নাটক সম্পর্কে কে না জানে ! আপনি নিজেও নিশ্চয় ই আরো ভাল জানেন, তবে কেন আপনি কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না?


আপনি তো নিজেই জানেন এই গত সপ্তাহে বিএনপির এক সিনিয়র দালালের ছবি ভিনদেশী শত্রুর সাথে তোলা, মালা বদলের ছবি ফেসবুকে প্রকাশের জের ধরে মূল তথ্য ফাঁস হওয়ার কথা। তবে আপনার যে ছবি চট্টগ্রামের জামাতের শীর্ষ নেতার সাথে কানে-মুখে কথা বলার ছবি এখনো ফেসবুকে অনেকের ওয়ালেই আছে। আজ আমি আপনাকে মনে করিয়ে দিতে আবার পোষ্ট দিলাম। তবে এটা কবে কখনকার তোলা ছবি সেটা কিন্তু কেউ খুঁটিয়ে দেখবে না, বা জানতেও চাইবেনা। আপনার সাথে জামাত নেতার এত অন্তরঙ্গ ছবি আছে এটাই সবাই দেখছে। আর এটা দেখে সেই একই যুক্তিতে আপনাকে কেন মানুষ সন্দেহর তালিকায় রাখবে না ! আর সেটাতে কি খুব অন্যায় ভাবা হবে?


আজ ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে আমি জাতীর পিতার আদর্শে দীক্ষিত নাগরীক হিসেবে, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল ত্যাগী এবং সত্যিকারের দেশ প্রেমী নেতা কর্মীর সাথে একত্ব হয়ে আপনাকে প্রশ্ন গুলো রাখছি। আশা করছি চুপ করে এখনো বসে না থেকে, সকলের সন্দেহের তালিকা থেকে মুক্ত করার জন্য হলেও আসল তথ্য বের করে রনি" র মুক্তির জন্য আপনার করণীয় গুলো করবেন। সেই সাথে আপনি মনে প্রাণে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বিশ্বাস করে আজকের এই শুভ দিন থেকেই সত্যিকারের দেশ প্রেমী নেতা হিসেবে নিজেকে পূর্ণ প্রকাশ করে এবং জাতীর সকল সন্দেহ দূর করে, জামাতের নেতার সাথে তোলা আপনার ছবির স্বপক্ষের যুক্তি তুলে ধরবেন।


আর হ্যা আপনি নিজে একজন অত্যান্ত সম্মানীয় মানুষ, তার উপর চট্টগ্রামের মত এত বিশাল বিভাগের মাননীয় মেয়র এর পদে আছেন। তাই আপনাকে কোন ভাবেই অসম্মান করা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং আপনার প্রতি শ্রোদ্ধা রেখেই, আপনার বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিউজ পোর্টালে এই ছবি নিয়ে নানা রকম বিতর্ক দেখে ক্লান্ত হয়ে আপনাকে সচেতন করতেই আজ আমার লেখা।


ভালো থাকুন, সুস্থ্য থাকুন এবং দেশ পরিচলানায় বঙ্গবন্ধু কন্যার হাতকে আরো মজবুত করে, দেশের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সকল ষড়যন্ত্রকারীদের সমস্ত অপচেষ্টা কে রুখে দিয়ে, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার পথে এগিয়ে যান।। 

 


জয় বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলা।।