banglanewspaper

এস এম রফিকুল ইসলাম: একটি সুস্থ জাতি পেতে প্রয়োজন একজন শিক্ষিত মা, বলেছিলেন প্রখ্যাত মনিষী ও দার্শনিক নেপোলিয়ন বোনাপার্ট।

অথচ আজ এই একুশ শতকে এসেও বাংলাদেশের ৬৬% মেয়ে এখনো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত, যার প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। আগামী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেড়ে উঠা এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও বাল্য বিবাহ একটি বড় বাধা।তাই আমাদের বাল্য বিবাহের কুফল, শিশুদের ওপর এর প্রভাব এবং এটি প্রতিরোধের উপায় জানা জরুরি।

বাল্য বিবাহের প্রধান কুফলঃ

. নারী শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বাল্য বিবাহের কারণে মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে৷

২. নবজাতকের অনেক সময় তাকে নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়৷

৩. অপ্রাপ্তবয়স্ক মা প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদান করতে পারে৷

৪. বিচ্ছেদের আশংকা তৈরী হওয়া ছাড়াও নানা পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়৷

৫. বাল্যবিবাহ শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না, পারিবারিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনেও সহায়ক হয়।

৬. দারিদ্র্যতার হার বাড়ার পাশাপাশি অদক্ষ জনসংখ্যার ভারে ভারাক্রান্ত হচ্ছে দেশ ও জাতি।

বাল্য বিবাহের প্রভাব:

১. স্বামী, সংসার, শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কে বুঝে উঠার আগেই সংসার এবং পরিবারের ভারে আক্রান্ত হয়।

২. পারিবারিক নির্যাতনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শিকার হয় পরিবারের সবাই, বিশেষ করে শিশুরা ভোগে নানা মানসিক অশান্তিতে । বাল্য বিবাহের শিকার ছেলে ও মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদনের মত মৌলিক মানবাধিকার লংঘিত হয়, যা তাকে তার সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ করে।

৩. বাল্য বিবাহ একদিকে আইন এবং সংবিধানের লংঘন, অন্যদিকে বাল্য বিবাহের বর ও কনেকে তার ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়।

৪. অপরিণত বাড়ন্ত পুষ্টিহীন শরীরে বেড়ে উঠে আরেকটি অনাগত ভবিষ্যত অপুষ্টিগত অভিশাপের বোঝা নিয়ে। জন্ম দিবে কিছুদিন পর আরেকটি অপুষ্টিতে আক্রান্ত প্রজন্ম।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের উপায়ঃ

১. বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনটি বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রচার/প্রচারনা করা প্রয়োজন৷

২. রেডিও, টেলিভিশনে ও সংবাদপত্রের মাধ্যমে বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করা যেতে পারে।

৩. সন্তান যেন বাল্য প্রেমে জড়িয়ে না পড়ে সেজন্য পিতা-মাতাকে সচেতন থাকতে হবে।

৪. ইভটিজিংয়ের ভয়ে যেন কোন বাল্য বিয়ের ঘটনা না ঘটে সবাইকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৫. বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক ও মা সমাবেশ করা।

৬. জন্ম নিবন্ধন সনদ ব্যতীত কোন অবস্থায়ই নিকাহ রেজিষ্টার যেন বিবাহ নিবন্ধন না করেন।

৭. প্রতিটি পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদ/গ্রাম/পাড়া-মহল্লায় বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা৷

৮. নবম ও দশম শ্রেনীর পাঠ্য বইতে এ বিষয়টি অর্ন্তভুক্ত করা হলে এর সুফল পাওয়া যাবে৷

৯. জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বেসরকারী সংস্থাগুলোও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।

৮. জরুরী ভিত্তিতে অভিযোগ গ্রহণ ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য স্থানীয় ও জাতীয় ভাবে অভিযোগ ও প্রতিরোধ সেল গঠন করা।

লেখক: এস এম রফিকুল ইসলাম, প্যানেল মেয়র, কুমারখালী পৌরসভা, কুষ্টিয়া।

ট্যাগ: