banglanewspaper

আন্তজার্তিক ডেস্ক: এ্যাভোকাডো, ব্রুকোলি এবং শসা থেকে উপাদান নিয়ে আমেরিকার বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন বার্ধক্যরোধী ঔষধ।

তবে, এই ঔষধ কেবল ইঁদুরের বার্ধক্য ঠেকিয়ে দিতে সক্ষম। বিজ্ঞানীরা এবার এই প্রক্রিয়ায় মানুষের বার্ধক্য ঠেকিয়ে দেবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন এবং এ সংক্রান্ত গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

গবেষকরা ইতোমধ্যেই কিছু মানুষকে নিয়ে তাদের গবেষণা শুরু করেছেন। ইঁদুরের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ঔষধ প্রয়োগের ফলে প্রাণীটির শারিরীক কর্মক্ষমতা বেড়েছে। এছাড়াও বেড়েছে হাড়ের ঘনত্ব এবং পেশিও উন্নত হয়েছে। দেখা গেছে, ঔষধ প্রয়োগের ফলে ইঁদুরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়েছে এবং লিভার অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এ প্রক্রিয়ায় ইঁদুরদের কিছুটা ওজনও কমেছে।
এনএডি নামক এক প্রোটিনের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এই প্রোটিন শরীরের শক্তি তৈরীতে সহায়তা করে।

প্রাণীদের যখন বয়স বাড়ে তখন এনএডি’র উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায় এবং এই প্রক্রিয়ায়ই প্রাণীরা ধীরে ধীরে বুড়ো হয়ে যায়। শরীরে বাড়তি এনএডি যোগ করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা ব্যর্থ হন। তাই তারা দেখছেন কিভাবে শরীরের মধ্যেই এটির উৎপাদন বাড়ানো যায়। বিজ্ঞানীরা ইঁদুরের শরীরে এনএমএন নামক একটি উপাদান প্রয়োগ করেছিলেন খাবারের পানির সঙ্গে। দেখা গেছে, এই প্রক্রিয়ায় ইঁদুরের শরীরে এনএডি’র উৎপাদন বেড়ে গেছে, একই সঙ্গে বেড়ে গেছে তাদের অন্তত ৩৫ শতাংশ আয়ুও।

আমেরিকার সেন্ট লুইসে অবস্থিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির গবেষক শিন ইচিরো ইমাই এ বিষয়ে বলেন, ‘এনএমএন ইঁদুরের বার্ধক্যরোধের ক্ষেত্রে অসাধারণ সফলতা দেখিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘ওই এনএমএন উপাদানগুলো সারা জীবনভর ইঁদুরের সুস্বাস্থ্য প্রদান করবে এ ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। তবে, যদি এমনটি হয় তবে এ প্রক্রিয়ায় নি:সন্দেহে তাদের জীবনকালও দীর্ঘ হবে।’

ইমাই আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি এ প্রক্রিয়ায় ইঁদুরের বার্ধক্যের গতি কমে যেতে এবং বয়স্ক ইঁদুরের ক্ষেত্রে দেখা গেছে এ প্রক্রিয়ায় তারা তরুণ ইঁদুরের মতোই ধীরে ধীরে সবল হয়ে উঠছে।’

তিনি জানিয়েছেন, জাপানে মানুষের ক্ষেত্রে এ প্রক্রিয়াটি নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এ প্রক্রিয়ায়ও তারা সফলতার মুখ দেখবেন।

তিনি বলেন, ‘যদি এ প্রক্রিয়ায় মানুষের শরীরের টিস্যুগুলোও শক্তি উৎপন্ন করতে সক্ষম হয় তবে বয়সকালেও মানুষ তার যৌবন ধরে রাখবে এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে নি:সন্দেহে এটা বলে দেওয়া যায়।’

তবে, মানুষের শরীরের বিভিন্ন ক্যান্সার সেল গবেষণা করে দেখা গেছে এগুলোর পেছনে উচ্চ মাত্রায় এনএডি সংশ্লেষণের প্রভাব রয়েছে। এসব প্রভাবকে পাশ কাটিয়ে কিভাবে মানুষের আয়ু বাড়ানো সম্ভব, আপাতত তাই দেখছেন বিজ্ঞানীরা।

ট্যাগ: