ওপার বাংলাঃবেনিয়াপুকুরের হোটেলে বুধবার এক তরুণীকে ধর্ষণের পরে পার্ক সার্কাস এবং এক্সাইডের মোড় এলাকায় রাত কাটিয়েছিল চার অভিযুক্ত। 
পুলিশ জানিয়েছে, চিত্তরঞ্জন পাত্র, সূর্যকান্ত দাস, প্রভাত সাহু এবং সত্যস্বরূপ সাহু নামে ওই চার অভিযুক্ত বৃহস্পতিবার ভোরে এক্সাইডের মোড় থেকে উত্তর কলকাতার একটি নিষিদ্ধপল্লিতে আশ্রয় নেয়। ওই রাতে এক অভিযুক্তের মোবাইলের গতিবিধি দেখেই বড়তলা থানার পুলিশ নিষিদ্ধপল্লিতে গিয়ে তাদের গ্রেফতার করে বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ধৃতদের শুক্রবার শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক তাদের আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
চিত্তরঞ্জন, সূর্যকান্ত, প্রভাত এবং সত্যস্বরূপ গত বুধবারই ওড়িশা থেকে শহরে এসেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। ওই দিন দুপুরে বেনিয়াপুকুর থানার সিআইটি রোডে পদ্মপুকুর এলাকার একটি হোটেলে তারা উঠেছিল। সেখানেই উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা ওই তরুণীকে চাকরির ইন্টারভিউয়ের জন্য আসতে বলা হয়েছিল। 
ওই তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, হোটেলের ঘরে কিছুক্ষণ কথাবার্তার পর তিনি শৌচালয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে দেখেন ঘরের আলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটি খাটে রয়েছে চিত্তরঞ্জন। বাকি তিনজন ঘরে ছিল না। অভিযোগ, এর পরেই চিত্তরঞ্জন তাঁকে ধর্ষণ করে। হোটেল থেকে বার হয়ে নির্যাতিতা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই তরুণী চলে যাওয়ার ১৫ মিনিট পরেই চার অভিযুক্ত হোটেল ছেড়ে পার্ক সার্কাসে চলে যায়। সেখানে খাওয়া দাওয়া করে তারা এক্সাইড মোড়ের কাছে একটি অফিস চত্বরে রাত কাটায়। ভোরে নিষিদ্ধপল্লিতে গিয়ে এক যৌনকর্মীর ঘরে আশ্রয় নেয় ওই চার অভিযুক্ত। 
যে মোবাইল নম্বর থেকে চিত্তরঞ্জন নির্যাতিতার সঙ্গে কথা বলত, ঘটনার পর থেকেই সেটি সে বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইলটি চালু করেছিল চিত্তরঞ্জন। যা থেকে পুলিশ জানতে পারে অভিযুক্তেরা উত্তর কলকাতায় বড়তলা এলাকায় রয়েছে। এর পরেই বেনিয়াপুকুর থানা থেকে বড়তলা থানায় অভিযুক্তদের ছবি পাঠানো হয়। বেনিয়াপুকুরের হোটেল ঢোকার সময় ওই ছবিগুলি তোলা হয়েছিল। ছবি দেখে তল্লাশি চালাতেই ধরা পড়ে চারজন।