banglanewspaper

ওপার বাংলাঃশহরে দীপাবলির রোশনাই। কিন্তু বরাহনগরের ভোলানাথ স্ট্রিটে নিঝুম অন্ধকার।  আশপাশের সব পাড়া সেজেছে আলোর মালায়। বাড়ি, পুজোমণ্ডপ, রাস্তায় জ্বলছে রংবেরঙের আলো। কিন্তু ভোলানাথ স্ট্রিট আলোবিহীন, নিশ্চুপ। পাড়ার মেয়ে শম্পা দে মারা গিয়েছেন ডেঙ্গিতে। তাই বন্ধ পাড়ার প্রাচীন কালীপুজোও। এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পুজোর উদ্যোক্তারা। ডেঙ্গি মোকাবিলায় পুর চেয়ারপার্সন অপর্ণা মৌলিকের নেতৃত্বাধীন বরাহনগর পুরসভার ব্যর্থতাকেই কাঠগড়ায় তুলছেন বাসিন্দাদের একাংশ। 
বরাহনগরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৩৩ বছরের শম্পা গত কয়েকদিন ধরে জ্বর নিয়ে ই এম বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। ১৮ অক্টোবর তিনি মারা যান। শম্পার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় ‘সান্‌ডে ক্লাবে’র সদস্যরা। তাঁরা জানিয়েছেন, শম্পার মৃত্যুতে এ বছর কালীপুজো বন্ধ! 
শুক্রবার সন্ধ্যায় এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, পুজো বন্ধের কারণ জানিয়ে ঝুলছে একাধিক ফ্লেক্স-ব্যানার। শুধু পাড়ার স্ট্রিট লাইটের আলো ছাড়া কিছু নেই। 
স্থানীয় বাসিন্দা দিব্যেন্দু কাউরাশীর কথায়, ‘‘ডেঙ্গিতে মারা গিয়েছেন শম্পা।  উনি আমাদের পাড়ার মেয়ে।  তাঁর এভাবে মৃত্যুর প্রতিবাদ জানাতেই কালীপুজোর আয়োজন বন্ধ রাখা হয়েছে।’’ অন্য এক পুজো উদ্যোক্তার বক্তব্য, ‘‘পাড়ার মেয়ে, পাড়ার বধূ ডেঙ্গিতে মারা গিয়েছেন। সে কারণেই এবার পুজো স্থগিত।’’ সাড়ম্বর আয়োজন বন্ধ রেখে নিয়মরক্ষার্থে নমো-নমো করে স্থানীয় কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে পাড়ার মঙ্গলকামনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ওই উদ্যোক্তা। পাড়ার প্রবীণ বাসিন্দা প্রণব নন্দী বললেন, ‘‘ডেঙ্গিতে পাড়ার মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। তাই এবার পুজো হচ্ছে না। কোনও আলো না জ্বালানোরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শুনেছি।’’ 
এলাকায় মিশুকে বলে পরিচিত ছিলেন শম্পা। ১২ বছরের এক কন্যাসন্তান রয়েছে তাঁর। পাড়ার যে কোনও আচার-অনুষ্ঠানে দেখা মিলত শম্পার। তাঁর বাবা সন্তোষ মণ্ডলের কথায়, ‘‘মেয়েটা মারা গিয়েছে। ও আর ফিরে আসবে না। খুব মিশুকে ছিল। পাড়ার অনেকেই জ্বরে ভুগছেন। কিন্তু শম্পার মতো পরিণতি যেন আর কারওর না হয়।’’ 
গত কয়েকমাস ধরেই বরাহনগরের ঘরে ঘরে ডেঙ্গির সংক্রমণ। কিন্তু পুরসভার চেয়ারপার্সন এবং কাউন্সিলররা দাবি করেছেন, তাঁরা ডেঙ্গি মোকাবিলায় যথেষ্ট ‘তৎপর’। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছেন। পুরসভার বরং পরামর্শ, মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। যদিও শম্পার মৃত্যুতে পুরসভাকেই কাঠগড়ায় তুলে তাঁর ভাই সুমন মণ্ডল বলেছেন, ‘‘পুরসভা কিছু করছে না! যাদের বাড়িতে মৃত্যু ঘটছে, তারাই যন্ত্রণা বুঝছেন। পুরসভার কর্তারা কী বুঝবেন!’’ 
যদিও তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার চেয়ারপার্সন অপর্ণা মৌলিককে পুজো বন্ধের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন, ‘‘এমন কোনও খবর জানা নেই। সংবাদমাধ্যম বিভ্রান্ত করছে। যে কোনও মৃত্যুই দুভার্গ্যজনক। তবে তা নিয়ে আতঙ্ক ছড়ানো ঠিক নয়।’’ প্রসঙ্গত, এই ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আলপনা নাহাও জ্বরে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তৃণমূলের অন্দরের খবর, আলপনাও ডেঙ্গি-আক্রান্ত হয়েছিলেন। ওই ওয়ার্ডে ‘ছাত্র সম্মিলনী’র দুর্গাপুজোতেও প্রভাব ফেলেছিল ডেঙ্গি। পাড়ার বধূ মারা যাওয়ায় পুজো হলেও কোনওমতে তা সেরেছিলেন উদ্যোক্তারা। কয়েকদিনের ব্যবধান। আবার সেই ২৬ নম্বর ওয়ার্ডেই কালীপুজো বন্ধ হল ডেঙ্গিতে পাড়ার মেয়ের মৃত্যুতে।