banglanewspaper

হায়দার মোহাম্মাদ জিতুঃ নিজেদের মানুষ হিসেবে দাবি করি বলেই হয়তো আজ ভেতরটা কাঁদলেও বহিরাবরণে হাসির কালিমা লেপে চলছি। সম্প্রতি ঘটা ঘটনাগুলোকে সামনে রেখে এই চিন্তা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।

ঠুকাঠুকির অভ্যাস আমাদের মজ্জাগত। আর তার চেয়েও পুরনো আমাদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা। সেই স্বাধীনতার চিন্তাকে আগলে রেখে ৪৭'এ উপমহাদেশীয় এবং ৭১'এ আমাদের স্বাধীনতা লাভ। তবে যাবার বেলাও বিদেশী প্রভুরা (!) এই তল্লাটে হিন্দু-মুসলিমের এক উৎকট দুর্গন্ধ মাখিয়ে গেছেন।

আর তাই হয়তো আজও আমরা সেই গরু-খাসির ঝামেলাকে উতরে উঠে সাম্যের জয়গান গাইতে পারিনি। বরং দিনবাদে তাকে করেছি আরো জটিল। সম্প্রতি বাংলাদেশের এক অংশে ধুন্ধুমারভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং প্রায় ৪০০ ঘরবাড়ি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আশ্চর্যজনক হলেও সত্য এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান যতটা কঠোর হবার কথা ছিল তার কানাকড়ির কোথাও মেলেনি। যদিও আমাদের গঠনতন্ত্রে বেশ ঘটা করে বলা হয়েছে অসাম্প্রদায়িকতার কথা।

দলাদলির ডামাডোলে এই সংখ্যালঘু মানুষগুলির অবস্থান এখন অনেকটা টেবিল টেনিস বলের মত। অথচ আমরা নিজেদের দাবি করি অসাম্প্রদায়িক মানুষ এবং রাষ্ট্র হিসেবে। তবে আমি মনে করি আমরা তখনই নিজেদের অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করতে পারব, যখন এদেশে সংখ্যালঘু বলে কোন শব্দই থাকবে না।

তবে এ ব্যাপারে দৃষ্টিভঙ্গি এবং চিন্তাভাবনার বিচারে পাশ্চাত্যরা বেশ উঁচুমানের। কেননা তারা অন্তত ব্যক্তি স্বাধীনতার পাশাপাশি ধর্মীয় দিক গুলিকেও খোলা রাখে। আরো ভিন্নভাবে বললে ওরা বোঝে যে ভিন্ন ভিন্ন মত, ধর্ম এবং সংস্কৃতি থাকলে তাদের দেশ আরো সমৃদ্ধ হবে। অর্থাৎ বৈচিত্র্যতাকে সাধুবাদ জানাতে তারা সাহস রাখে।

নিজ নিজ ধর্মের প্রতি পূর্ণ জ্ঞান থাকলে ধর্মীয় গুরুরা সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ঠেকাতে অবশ্যই ভূমিকা নিবেন। তবে এ প্রসঙ্গে আমি বলব এক ভিন্ন শ্রেণীর কথা। 

সহস্র মত পার্থক্য থাকলেও দেখা যায় দেশের ক্রিকেটে বেলায় আমরা সবাই একটা প্লাটফর্মে চলে আসি। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা নতুন একটা জায়গা পেয়েছি যেখানে সবাই ঐক্যবদ্ধ হতে পারি।

কাজেই অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূল্যবোধকে বাস্তবায়নের জন্যে আমাদের ক্রিকেট এবং ক্রিকেটারদের কাজে লাগানো যেতে পারে।

মনে রাখবেন পরিবারভেদে মুসলিম কিংবা হিন্দু ঘরে আপনাকে স্রষ্টাই পাঠিয়েছেন। কাজেই স্রষ্টা চাইলে আপনি এঘরে না জন্মে ওঘরেও জন্ম নিতে পারতেন। তখন হয়তো এই আপনাকেই আপনার অস্তিত্ব রক্ষায় লড়াইয়ে সামিল হতে হত। কাজেই নিজে ভালো আছেন পরিতৃপ্তির এই ঢেঁকুরে গা না ভাসিয়ে নিঃস্বার্থভাবে সেই মানুষগুলির পাশে দাঁড়ান। সাম্যের জয় হোক.................. 


হায়দার মোহাম্মাদ জিতু
সাংগঠনিক সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)