মজিবুর রহমান, কেন্দুয়া: প্রয়াত স্বামীর মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেখে যেতে ধারে ধারে ঘুরছেন ষার্টোধ শামছুন্নাহার। উপজেলার  নোয়াপাড়া ইউনিয়ন কাউরাট গ্রামে প্রয়াত মজনু মিয়ার স্ত্রী শামছুন্নাহার। মজনু মিয়া ২০০৬ সালের ১৮ই ফ্রেরুযারী মারাযান। ৩ ছেলে ৪ কন্যা সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভাবে অংশ নিলেও মজনু মিয়ার কপালে জুটেনি মুক্তিযোদ্ধার কেতাব।

প্রয়াত মজলু মিয়ার মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি লাভের জন্য ২০১৩ সালে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনাণয়ে আবেদন করেছেন তার স্ত্রী শামছুন্নাহার। উপজেলার কাউরাট গ্রামের মৃত ইসমাঈল মিয়া ২ ছেলে ও ২ কন্যা সন্তানের মাঝে তিনি ছিলেন বাবা-মায়ের দ্বিতীয় সন্তান। স্বাধীনতা আন্দোলনে সময় মজনু মিয়া ২১ বছরের টগবগে যুবক। হানাদার বাহিনীর বর্বর নির্মমতায় অন্যদের ন্যায় ধাক্কা লাগে মজনুর হৃদয়েও।

গ্রামের বন্ধু জামিন মিয়া. সাদেক মিয়া, কাঞ্চন মিয়া কে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়ার পণ করে। যেমন পণ তেমন কাজ শুরু করে দিলেন মিশন। বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের রচিত ‘স্মৃতিতে ৭১’ গ্রন্থের ১৫,১৬,১৭ পৃষ্ঠায় মজনু মিয়ার, জামিন মিয়া. সাদেক মিয়া, কাঞ্চন মিয়ার সফল একটি মিশনের কথা উল্লেখ্য করেছেন। গ্রন্থে লেখক লিখেছেন পাকসেনা ও রাজাকারদের প্রতিহত করতে পাশের গ্রাম জুড়াইলের কামার বাড়ি থেকে জামিন মিয়া, কাঞ্চন মিয়া ও মজলু মিয়া মিলে চুরি/চুরা (লোহার তৈরি ধারালো অস্ত্র) তৈরি করেছিলেন।

একদিন সকাল বেলায় বেশ কয়েকজন রাজাকার কাউরাট গ্রামে হাজির হয়। কারন পরদিন পাকবাহিনী পার্শ্ববর্তী উপজেলা মদন যাবে এ গ্রামে তাদের জন্য খাবার-দাবারের আয়োজন এবং নদী পার হওয়ার জন্য নৌকা কিছু ও লোক জোগার করতে হবে। গ্রামের অনদের মাঝে ছাদেক ও মজনুকে নির্বাচন করা হয়। ছাদেক ও মজনু প্রতিহত করা সুযোগ খুঁজতে থাকে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার পূর্বেই নৌকা খোঁজার প্রস্তুতি চলে। এক রাজাকারকে নিয়ে তারা নৌকা খুঁজতে বের হয়ে রাজাকারকে মেরে ফেলার ফাঁদ খুঁজে করেন তারা। মিথ্যা প্রলোভন দিয়ে পার্শ্ববতী খিলা পাড়ার একটি ছন ক্ষেতে নিয়ে যায়। এ সময় রাজাকার প্রস্তাব করতে বসলে সুযোক নেন সাদেক-মজনু। পিছন থেকে মজনু ও সাদেক মিলে কোপাতে শুরু করেন। রাজাকারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে যাওয়ার সময় দেখে মজনু পায়ে মারাত্মক আহত হন। প্রচুর রক্তকরণ হয়। এক পর্যায়ে মজনু মিয়া অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরে মুক্তিবাহিনীর সহায়তায় ভারতের জগসগ মুক্তিসেনা ক্যাম্পে যান এবং লেখকের সাথে সাক্ষাতের হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। 

মজলু মিয়ার স্ত্রী শামছুন্নাহার জানান, আমার স্বামী একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে পর যখন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হয়েছিল তখন সে বাড়িতে ছিল না। ১১ নং সেক্টরের মহেশখলায় সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল আবু তাহের ও কোম্পানী কমান্ডার মোঃ নজরুল ইসলামের কাছ থেকে প্রশিক্ষন নিয়ে পাকবাহীনির বিরুদ্ধে তিনি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। ৩ ছেলে ৪ কন্যা সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছি। আমি আমার স্বামীর প্রাপ্য স্বীকৃতিটুকু পাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রিসহ সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

একই গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মাজহারুল ইসলাম মাজু জানান , মজলু আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল না থাকায় অভাবের তারনায় যুদ্ধের পর সে বাড়ির বাহিরে ছিল। তাই সে তালিকাতে নাম তুলাতে পারেনি। তিনি আরো বলেন, যুদ্ধের ময়দানে আমাদের চেয়ে মজলুর অবদান বেশি। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমরা ট্রেনিং নিয়ে যুদ্ধে করেছি আর বিনা ট্রেনিংগে মজলু এক রাজাকারকে হত্যা করে অস্ত্র নিয়ে ট্রেনিং সেন্টারে গিয়ে ট্রেনিং নিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। বেচেঁ থাকতে সে পাওনা সম্মানটুকু দেখে যেতে পারেননি। এখনও যদি সে স্বীকৃতি পায় তাহলে তার রেখে যাওয়া বিধবা স্ত্রী ও এতিম সন্তানেরা উপকৃত হবে।