মুনিরুজ্জামামন মুনির, বগুড়া: ডালের তৈরি সুস্বাদু কুমড়া বড়ি তৈরীতে ব্যাস্ত সময় পার করছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের নারী কারিগড়রা। শীতকালে এই আঞ্চলের নারীরা কুমুর বড়ি তৈরী করে বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা করেছে। সেই সাথে গ্রামীন অর্থনীতিতে নিরবে রেখে যাচ্ছে অবদান। 

কুমড়া বড়ি একটি সুস্বাদু খাবারের নাম। বিভিন্ন রকম তরকারির সাথে এ খাবার এনে দেয় ভিন্ন রকমের স্বাদ। প্রায় সকল শ্রেণীর মানুষ কুমড়া বড়ির প্রতি আকৃষ্ট। তবে, কবে এই কুমুর বড়ি তৈরী এবং কি ভাবে এর নাম করণ করা হয়েছিল সে সর্ম্পকে সঠিক কোন তথ্য না পাওয়া গেলেও একসময় দেশের অভিযাদ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা কুমড়া এবং ডালের মিশ্রনে এটি তৈরি করত বলে এর নাম কুমড়া বড়ি। এককালের শখের খাবার থেকে উৎপত্তি হওয়া কুমড়া বড়ি এখন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে হাজারো নারীর। 

আর  শীত কালে এ সুস্বাদু খাবার কুমড়া বড়ি তৈরীতে ব্যাস্ত সময় পার করে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার নারী কারিগড়রা । নন্দীগ্রাম উপজেলা তথা বগুড়া জেলা এবং আশে পাশের বিভিন্ন জেলার হাট বাজরে ব্যাপক হারে পাওয়া যায় এই সুস্বাদু খাবার কুমড়া বড়ি। কুমড়া বড়ি তৈরীর মুল উপকারণ হলো মাসকালাই ও খেসারী ডাল। ডাল প্রথমে রোদে শুকিয়ে যাতায় ভেঙ্গে পরিস্কার করে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়।

তারপর ভোর রাত থেকে নারী কারিগড়রা শিল পাটায় ডাল মিহি করে গুরো করার পর, তা দিয়ে কুমড়া বড়ি তৈরীর কাজ শুরু করে হয় । কুমড়া বড়ি তৈরী করার পর ১ থেকে ২দিন রোদে শুকাতে হয়। রোদে শুকানোর পর খাবার উপযোগী হলে তা বাজারে বিভিন্ন দোকানে খুচরা ও পাইকারী বিক্রয় করা হয়।

একজন কারিগড় প্রতিদিন ৩ কেজি ডালের কুমড়া বড়ি তৈরী করতে পারে।  গ্রামের নারী কারিগড়রা মৌসুমি খাদ্য হিসেবে ও সংসরের বাড়তি আয়ের জন্য কুমড়া বড়ি তৈরী করে থাকে। উপজেলার হাটধুমা,চানপুর,কল্যানগর,নুন্দহ,কয়াপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে কুমুর বড়ি তৈরীর ধুম পড়ে গেছে। 

উপজেলার হাটধুমা গ্রামের জাহানারা বেগম জানান, মাসকালাই থেকে তৈরি আসল কুমড়া বড়ই প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০টাকায় বিক্রয় করা হয়। অন্যান্য মানের কুমড়া বড়ি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রয় করা হয়। নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কুমুর বড়ি তৈরির উপযুক্ত সময়। তিনি আরও বলেন, এই দুই মাসে যতটুকু কুমড়া বড়ি উৎপাদন করা হয় তা বছরজুড়ে বিক্রি হয়। এই উপজেলা ছাড়াও আশপাশের এলাকা থেকে পাইকারি ব্যবসায়িরা এসে কুমড়া বড়ই কিনে নিয়ে যায়। 

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খালেদা ইয়াসমিন জানান, উপজেলা বিভিন্ন গ্রামে এই সুস্বাদু খাবার কুমড়া বড়ি তৈরী করছে গ্রাম্য বধুরা। নারীরা মৌসুমি খাদ্য হিসেবে ও সংসারের বাড়তি আয়ের জন্য কুমড়া বড়ি তৈরি করে যাচ্ছে। আমরা তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি। তাদের তৈরী কুমড়া বড়ি সারা বছরের খাদ্য হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে জেলা ও জেলার বাইরে।