তলানির মগজ বলে একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাসকারী জনতার মা-মাটির প্রতি তীব্র মমত্ববোধ কিংবা হার না মানা ভালবাসা থেকেই জাতীয়তাবাদ চেতনার উন্মেশ ঘটে। বাঙ্গালীর সেই জাতীয়তাবাদের চেতনা যে পাহাড়সম অটল তার প্রমাণ মিলে বাঙ্গালীর স্বাধীন-স্বাধিকার আন্দোলনের ইতিহাস থেকে। ইতিহাস থেকে বর্তমান সময়ের পরিক্রমায় বাঙ্গালীর সেই জাতীয়তাবাদের চেতনাকে আরো দূর্বার, তেজোদীপ্ত এবং প্রখর করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ক্রিকেটের একটা বিশাল ভূমিকা দৃশ্যমান। অন্তত মাঠে গড়ানো খেলা তাই বলে।

হাজার মত-বিভেদ থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাঙ্গালীর ১১ সন্তান যখন খেলেন তখন জেনো পুরো বাংলাদেশই একজোট বেঁধে লড়ে। ভিন্নভাবে বললে শারীরিকভাবে মাঠে ১১ জন খেললেও মানসিকভাবে খেলে পুরো দেশ। অর্থাৎ দেশীয় একটি ইস্যুতে যূথবদ্ধ হয় সমস্ত মতভেদের মানুষ। আবার মাঠের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির যুগে এই ক্রিকেটই এখন বিভিন্ন অ্যাপ্সের মাধ্যমে মুঠোফোনসহ আরো প্রায় বিভিন্ন মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে। যা মাঠে গড়ানো খেলার মতই বিনোদনের একটা মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্রিকেট বিশ্বে একদিন যারা মাঠ পর্যন্ত গিয়ে আমাদের সাথে টস করতে চাননি তারাই আজ বিশ্ব ক্রিকেটে আমাদের কাছে নাকানিচুবানি খাচ্ছেন। বর্তমান বাংলাদেশ ক্রিকেটের যে দুর্বার অবস্থা তাতে যেকোনো বুজুর্গই বলতে বাধ্য হবেন যে আগামী বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ নিজেদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতেই পারে। আমাদের ক্রিকেটকে যারা একেবারে শুরু থেকে আগলে রেখেছেন তাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর মত বিশেষণ আমার জানা নেই। কেননা আপনাদের কারণেই এখন আমরা ক্রিকেটে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখেছি। তবে আরেকটি আনন্দের বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন অ্যাপ্সে যারা বিনোদনের জন্যে ক্রিকেট খেলেন তারাও এখন নিজের নির্বাচনী দল হিসেবে নিজ দেশ বাংলাদেশকেই বেছে নিচ্ছেন। যা স্বদেশের প্রতি তাদের ভালোলাগা এবং ভালোবাসারই একটা বহিঃপ্রকাশ।

জাতীয়তাবাদের চেতনা কোন বায়বীয় বিষয় নয় যে তা হঠাৎ করেই কোথাও থেকে উদয় হবে। নিজের অস্তিত্বকে প্রজ্বলিত এবং টিকিয়ে রাখার মন্ত্র জাতীয়তাবাদের চেতনা যদি আমাদের ক্রিকেটের মাধ্যমে তরুণ প্রাণে হাওয়া লাগায় তবে সত্যিই তা হবে আশাব্যঞ্জক। মমত্ববোধ ও ভালোবাসার স্ফুরণ ঘটানোর মধ্য দিয়ে বাংলা এবং বাঙ্গালীর সকল সন্তান দেশীয় সকল ইস্যুতে ক্রিকেটের মতই যূথবদ্ধ হয়ে এগিয়ে যাবে সেই প্রত্যাশায় এখন দিনগুনা।

জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু। 

 

হায়দার মোহাম্মাদ জিতু

সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)