পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক নিপীড়িত বাঙ্গালীর ইতিহাস একদিনে ৭১'এ গিয়ে পৌঁছায়নি। দীর্ঘ ক্ষতের হার না মানা মনোবল, সংগ্রাম এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বই বাঙ্গালীকে এনে দিয়েছেল কাঙ্ক্ষিত এই মুক্ত জমিন। যার তলে দাঁড়িয়ে আজ আমরা রচিত করি সহস্র স্বপ্ন বুননের গল্প। পূর্ব এবং পশ্চিম পাকিস্তানের বৈপরীত্য ও বৈষম্যপূর্ণ সম্পর্কের সূত্রপাত দেশ ভাগের ৪৭'এর পর থেকেই। সাম্প্রদায়িকতার আফিমে বুদ এই রাষ্ট্রের চরম গোঁড়ামির কাছে বাঙ্গালী শুরু থেকেই হোঁচট খেয়ে আসছিল। সেই সাথে সময়ের পরিক্রমায় ওদের একপেশী ব্যবধানমূলক আচরণ দিনকে দিন মাথা চাড়া দিচ্ছিল আরো ফুলে ফেঁপে।

সেদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যূথবদ্ধ বাঙ্গালী জয় ছিনিয়ে এনেছিল জলপাই রঙ্গের উর্দি-কোর্তাওলাদের মুষ্ঠি থেকে। বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর পর এখন বাংলার নেতৃত্ব দিচ্ছেন তারই তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা। যার হাত ধরে ক্রমাগত একের পর এক রচিত হয়ে চলেছে বাংলা এবং বাঙ্গালীর মাইলফলক অর্জন। এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা হিসেবে যদি কিছু চুম্বক অংশও তুলে আনি তবে এভাবে বলতে হয়, বিশ্বের তৃতীয় পরাশক্তি দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় ভারতের চেয়েও আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে বহু এগিয়ে। মাতৃ মৃত্যুহার হ্রাস, শিশু মৃত্যুহার হ্রাস, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, পোলিও মুক্তসহ আরো অনেক ক্ষেত্রেই বাঙ্গালী আজ ওদের চেয়েও এগিয়ে।

শুধু তাই নয় শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আজ আমাদের মাথাপিছু আয়, আয়ুষ্কাল এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে। খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে আজ আমরা রপ্তানির শীর্ষে থাকা দেশের তালিকায় পৌঁছে গেছি। সাম্রাজ্যবাদী কিংবা কখনোই যার সূর্য অস্তনমিত যেত না সেই দেশ ব্রিটেনে যেখানে নারীরা ভোটাধিকার পেয়েছিল ১৯১৮'সালে। সেখানে স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরও হয়নি সেই রাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, সংসদের স্পীকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী (সাবেক) এবং বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্বেও যারা তারা সকলেই নারী।

অর্থাৎ ওরা ভদ্রবেশি হাজার বুলি ছুড়লেও ইতিহাস বলে আমরা ওদের চেয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে আমরা অনেকাংশে এগিয়ে। শুধু তাই নয় বিশ্বের যেকোনো রাষ্ট্রের চেয়ে আমাদের দেশে জাতিগত সংঘাতের পরিমাণ কম। যদিও আমরা চাই এটিকে একেবারে শূন্যের ঘরে তুলে দিতে এবং সেই চেষ্টাতে বাঙ্গালী কাজও করে যাচ্ছে। সমস্যা এবং সম্ভাবনা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। ভিন্নভাবে বললে, একের ভেতরেই লুকিয়ে থাকে আরেক। ২১৩ বছরের প্রভুত্যের গোলামী ডিঙ্গিয়ে যে দেশ স্বাধীন হয়ে বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াবার দৌড়ে এগিয়ে এবং ক্ষেত্র বিশেষে বিশ্বের অনেক দেশের রোল মডেল সেই দেশের জনগণ হিসেবে আমরা স্বপ্ন দেখতেই পারি। তার উপর যখন দেশের নেতৃত্বে আছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।

২০১৬ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বাঙ্গালী তার ৪৫তম বিজয় দিবস উৎযাপন করবে। বিজয় উৎযাপনকালে তারা হয়তো নতুন নতুন অনেক শপথ গ্রহণ করবে। যা হবে তাঁদের এগিয়ে চলার পাথেও।

বঙ্গতনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাঙ্গালী এগিয়ে যাক তাঁদের স্বপ্ন পূরণের পথে, সেই প্রতীক্ষায় এখন বিশ্ব।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

 

হায়দার মোহাম্মাদ জিতু

সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)