banglanewspaper

মনিরুল ইসলাম মনি: কুষ্টিয়ার খোকসার হিলালপুর ও শিমুলিয়ার আদিবাসীদের ইঁদুরের গর্ত থেকে উদ্ধার করা ধানে ৬ মাসের খাবারের যোগাড় হয়। চরম অভাবের সাথে পাল্লা দিয়ে সারা বছর বেঁচে থাকে তারা। যেন ইঁদুরের গর্তেই লুকিয়ে আছে ওদের ভাগ্য আর জীবিকা!

এ বছর একটু আগেই খাল বিলের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় হিলালপুর আদিবাসী পল্লীর বিন্দি সম্প্রদায়ের একশো পরিবারের দুই শতাধিক নারী পুরুষ এবং শিমুলিয়া আদিবাসী পাল্লীর সরদার সম্প্রদায়ের অর্ধশতাধিক পরিবারের শতাধিক নারী পুরুষ বেকার হয়ে পড়েছিল। ওদের প্রধান পেশা মাছ শিকারও নেই এখন। তাই বাধ্য হয়ে হেমন্তে কৃষকরা মাঠ থেকে আমন ধান কেটে নেয়ার পর তারা ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে ধান উদ্ধারে নেমে পড়েছে ওরা।

এ কাজেও তাদের পদে পদে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। ফসলি জমিতে গর্ত খুড়লে জমির উর্বরতা হারায় এ অভিযোগ তুলে তাদের মাঠে নামতে কৃষকরা বাধা দিচ্ছে। তবুও আদিবাসীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, জীবিকার প্রয়োজনে কৃষকের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাঠে নামছে ইদুরের গর্ত থেকে ধান উদ্ধারে। এ বছরেও কয়েকজন আদিবাসি নারীকে কৃষকরা মাঠ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত শুক্রবার সকালে উপজেলার মাঠ পাড়ার মাঠে ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান উদ্ধারের সময় আদিবাসী গড়াই মন্ডল ও শান্তি রানী মন্ডল দম্পতির সাথে কথা হয়। তারা বলছে, অনেক বে-বুঝ (অবুঝ) কৃষক তাদের মাঠে নামতে বাধা দিচ্ছে। বয়োবৃদ্ধ এই আদিবাসী দম্পতি সরকারি কোন সহযোগিতা পায়নি। দুই বছর আগে বয়স্ক ভাতা দেওয়ার জন্য নাম লিখেছিল কিন্তু অনেক ঘুরা ঘুরি করেছে, ভাতার কার্ড আর হয়নি।

পেটের ক্ষীদের (ক্ষুধা) জন্য কৃষকের হুমকির মধ্যেও আদিবাসীরা মাঠে আসতে বাধ্য হচ্ছে। তারা জানায় ইঁদুর বাদরের গর্তে অনেক সময় বিষধর সাপ থাকে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গর্ত থেকে উদ্ধার করা ধানে তাদের বছরের ৬ মাস চলে।