banglanewspaper

জাতির সংস্কৃতি প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হল ভাষা। সেই ভাষাকে কুক্ষিগত করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানীরা দেশ ভাগের পর ৪৭'র শুরুতেই জানান দেয় তাদের মনস্তাত্ত্বিক দিক কোন ঘরানার। অর্থাৎ বলা যায় বাঙ্গালীর চৈতন্যের উন্মেশ ঘটে নিজেদের সংস্কৃতিকে আঘাতের ক্ষত থেকে। যা পরবর্তীতে তাদের নিয়ে যায় মুক্তি আন্দোলনের পথে।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে হাজার চড়াই-উতরাইপূর্ণ সংগ্রামের পর বাঙ্গালী আজ স্বাধীন। তবে আজও এখানকার মেয়েদের প্রায় পূর্বের মতই সামাজিক অবস্থান এবং নেপথ্যের কারিগর অনেকটা আক্রান্তরা নিজেরাই! নারী প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে ভাষা ভিত্তিক প্রেক্ষাপট টেনে আনার কারণ ভাষার অলঙ্কার শব্দগত ছলাকলায় নারী আজ প্রায়শই লাঞ্ছিত। কিংবা বলতে পারেন সমাজ তাদের কিছু সুবিধা প্রদানের ফাঁদে প্রতিনিয়ত করে চলেছে বাক্স বন্দি। "সন্তানের জন্ম মায়ের নাড়ীর সম্পর্কিত বিষয় বলে তাঁকে নারী বলে সম্বোধনে কোন দ্বিমত নেই"। কিন্তু তাঁকে সমাজ সচারচর সম্বোধন করে মহিলা হিসেবে। রাজবংশীয় সময়ে রাজ-রাজরা তাদের মহল আলোকিত করতে রাজ্যের হরেক স্থান থেকে অনেকটা তৈজসপত্রের ন্যায় নারীদের সংগ্রহ করে আনত! খুব সম্ভবত নারীকে মহিলা বলে সম্বোধনের চল সেখান থেকেই এবং আজ অবধি আমরা তাঁদের প্রায় সর্বত্রই কিংবা বলতে পারেন ক্ষেত্র বিশেষে সেই মহল সংশ্লিষ্ট নামেই সম্বোধন করি!

অন্যদিকে স্বাধীনতা পূর্ব বাংলায় নারীরা যেমন আড়ষ্ট ছিল এখনও সেই প্রক্রিয়া সূক্ষ্মভাবে বলবত। রাজধানী থেকে শুরু করে নগরীর অন্যান্য প্রান্তের যাত্রীবাহী বাসগুলোতে দেখা যায় নারী (মহিলা লেখা থাকে) এবং প্রতিবন্ধীদের জন্যে গুটি কয়েক আসন বরাদ্ধ থাকে। অর্থাৎ প্রতিবন্ধীরা তো আছেই সেই সাথে নারীরাও দুর্বল-নরম তাই তাঁদের একপাশে রেখে দাও! বিষয়টি হয়তো প্রায় এরকমই? এক্ষেত্রে নারীদেরও কিছুটা সুযোগ সন্ধানী বলতে হয়। কেননা তারাও হয়তো ভাবতে ভালোবাসে তাঁদের গণ্ডি ওইটুকুতেই।

আবার গুটিকয়েক নারী হয়তো বলবেন, পুরুষরাই তাঁদের সুযোগ দেন না। তাঁদের এই মানসী ভাবনাও কিন্তু দাসত্বের মনোভাবকে প্রকাশ করে। অর্থাৎ পুরুষকে তারা নিজেরাই সব সময় সঞ্চালকের আসনে কামনা করে। পুরুষ কিংবা সমাজ তাঁদের মর্যাদা দেয় না, এই আর্তচিৎকার যদি একবিংশ শতাব্দীতে এসেও নারীরা করেন তবে আপনাদের চিন্তার গতিপথে বারুদ ঠুসে দিয়ে বলব মনে রাখবেন আপনার পূর্বে এই জনপদে প্রবল পশ্চাদপদে থেকেও বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের মত নারীরা লড়াই করে গেছেন।

তাছাড়া উপলব্ধিগত চিন্তা বলে যে মুহূর্তে আপনি কারো কিছু চাইলেন ঠিক সেই মুহূর্তেই আপনি জেনো তার বশ্যতা মেনে নিলেন। কাজেই চেয়ে কিংবা দুয়েকটি সুযোগ-সুবিধার খপ্পরে না পরে নিজেকে জানুন এবং নিজের ভেতরকার শক্তিকে অনুভব করে বিকশিত হন পূর্ণ সুরভে। 

 

হায়দার মোহাম্মাদ জিতু

সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: