জুলফিকার আলী: 

সরকার কি করবে! আমরা যদি চাই!

শিক্ষক চাই না গুরু চাই!
শিক্ষকতা একটি মহৎ পেশা, সবার জন্য না!

আজকে একজন শিক্ষকের কথা শুনলাম সে নাকি ১০০ টাকার বিনিময়ে বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন বিক্রি করেছেন। আবার তার নাকি একটা সহায়ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে একটা কোচিং সেন্টার আছে। এই শহরের নামি দামি স্কুলের অনেক শিক্ষক আছেন যারা স্কুলে কি পড়ান জানি না কিন্তু বাসায় গিয়ে নাকি অত্যন্ত যত্ন সহকারে পড়ান ফি বেশি নেন না! আবার কথা হলো,তাদের নিয়ম ছাড়া অন্য নিয়মে অংক করে কিন্তু হবে না,তাদের নিয়মই একমাত্রিক সৃজনশীলতা বহন করে!পরীক্ষার আগে কিন্তু স্যারের দেয়া শর্ট সাজেশন দেখতেই হবে! তার কাছে না পড়লে কিন্তু সেটা পাওয়া যাবে না। সৃজনশীল এটায়!

“বৈধতা পাচ্ছে কোচিং- টিউশনি সহায়ক বই থাকবে।“- প্রথম আলো।

শিক্ষা আইন নিয়ে গতকাল “প্রথম আলোর” প্রথম পেজের শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন-“ তাহলে এত বছর ধরে এগুলো বন্ধে জাতীয় সংসদ, উচ্চ আদালত, পুলিশ প্রশাসন , শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টারা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সগুলো সঠিক ছিল না বলতে হবে।“

সেটা কি হবে এগুলো বন্ধ করে তার চেয়ে বরং ভালো সচল রেখে শিক্ষা ব্যবসা কে আরও ত্বরান্বিত করা। তাতে প্রকাশনী, শিক্ষকেরা সহ অনেকেই ফাইদা লুটবেন। কোচিং-প্রাইভেট ছায়া শিক্ষা সাথে ক্রিয়েটিভ ৭ টা করে চলাচল করন সহায়ক গাইড বই। দেশ ও জাতির কল্যাণে সৃজনশীলতা বিকাশে বিশাল ভূমিকা রাখবে ।

দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ স্থান বা ২য় স্থান বা সেরা দশে ভর্তি হবার জন্য ৯ লাখ টাকায় যথেষ্ট। কারণ তার জানেই তো শিক্ষা একটা ব্যবসা ছাড়া বৈরী কি ! ছোট বেলায় বার্ষিক পরীক্ষার প্রশ্ন পেয়েছিল ১০০ টাকায়, JSC,SSC, HSC তে ৫ টাকার ফোটোকপি। মোট ১৫ লাখ টাকা খরচ করলেই থাকা খাওয়া সহ বড় মাপের মেধাবী হওয়া যায়। আবার পত্রিকায় প্রচ্ছদও ছাপা হয়!

মর্নিং গ্লোরি, বিকাশ,ললিতা, শিশু বাগান ইত্যাদি ইত্যাদি বাড়ির ছাদে যে ভাবে স্কুল গড়ে উঠতেছে সৃজনশীলতার চাপে একসময় ধসে পড়বে, তিন মাত্রার ভূমিকম্পের বেশী লাগবে না। চাই সঠিক নিয়ন্ত্রণ। চাই সবার মনের সচেতনতা! ৩০০ টাকার লাইট ১০০ টাকায় চাই না! শিক্ষার আলো চাই।।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)