ডেস্ক রিপোর্ট: বাংলাদেশে বিয়েতে যৌতুক দাবি করার বিষয়টি আইনে নিষিদ্ধ হলেও, অনেকটা গোপনেই যৌতুকের লেনদেন হয়। কনেপক্ষও বেশিরভাগ সময় কনের কল্যাণের কথা চিন্তা করে যৌতুক প্রদান করে। কিন্তু সেখানেই একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন বরগুনার মেয়ে ফারজানা ইয়াসমিন।

ফারজানা ইয়াসমিনের বিয়ে ঠিক হয়েছিল ২০১১ সালে। কিন্তু বিয়ের আসরে তাঁর বরপক্ষ যৌতুক দাবি করে। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে যৌতুকলোভী বরকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি, নিজের বিয়ে ভেঙ্গে দেন।

এখন তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করছেন। বিয়েও করেছেন।

বিবিসির বিশেষ অনুষ্ঠানমালা 'শত নারী'তে ফারজানা বলেছেন তাঁর প্রতিবাদের কথা, বলেছেন কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছিলেন তিনি।

"সবাই জানে যে যৌতুকের দাবিটা পুরনো বিষয়। আমার কিন্তু বিয়ে হয়ে গিয়েছিল, যখন তুলে দেবে তখন তারা এমন দাবি করে। তখন মনে হচ্ছিলো যে আমি একটা মাস্টার্স পাশ মেয়ে, একটা চাকরিও করছিলাম-কেন মেনে নেব?।

"তাছাড়া ওই মুহুর্তে ওদের যে ব্যবহার ছিল যে যৌতুক না দিলে পাঁচ বছরেও মেয়েকে ঘরে তুলে নেবে না। এতটা অপমানিত হয়েছিলাম আমি, তখনই বিয়ে ভেঙে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমি স্যাক্রিফাইস করার মানসিকতা রাখি, নতুন জায়গায়ে গেলে পরিবারে মানিয়ে নেয়ারও বিষয় আছে ভালো থাকার জন্য।"

একটি বিয়ের রেজিস্ট্রি করানোর ছবি

বাংলাদেশে বিয়েতে যৌতুক দাবি করার বিষয়টি আইনে নিষিদ্ধ হলেও, অনেকটা গোপনেই যৌতুকের লেনদেন হয়। (ফাইল ছবি)

"কিন্তু ওদের কথায় এমন অপমানবোধ এসেছিল যা আমি জীবনেও হয়নি-এটাই আমাকে সাহস জুগিয়েছিল। নিজের অজান্তেই সাহস পেয়েছিলাম"-বলছিলেন ফারজানা ইয়াসমিন।

বিয়ে ভাঙার সিদ্ধান্ত নেবার পর পরিবারের অনেকে সমর্থন পেয়েছিলেন ফারজানা।

"কয়েকজন মুরুব্বি এটা বলেছিলেন এ বিয়ে ভেঙে গেলেতো আবার বিয়ে দিতে হবে। মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে এটা মেনে নিতে। কিন্তু আমার বাবা একটাই কথা বলেছিল মেয়ে যা করছে সেটাই ঠিক তাই সেটা সমর্থন করতে হবে"।

সেই সিদ্ধান্ত সামনে পথ চলতে অনেকটা সাহস ও আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে ফারজানার জীবনে। তিনি নতুন করে জীবন শুরু করেছেন। একটা ভালো চাকরিও করছেন, সংসারও করছেন।