ডেস্ক রিপোর্ট: সমাজ পরিবর্তনে পুরুষের রক্তচক্ষু শাসিত শত বাধা পেরিয়ে যে মহীয়সী বেগম রোকেয়া রংপুরের পায়রাবন্দ থেকে জ্বালিয়েছিলেন নারী শিক্ষার আলো, সেই নারী আজ চরম উপেক্ষিত। সমাজের অনাচার, কু-সংস্কার দূর করে জগৎখ্যাত এই মহীয়সীর নারীর পৈত্রিক জমি উদ্ধারে কারো কোনো পদক্ষেপ নেই। এমনকি স্মৃতি কেন্দ্রটিও বন্ধ রয়েছে এক যুগ ধরে।

তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি উদ্ধার ও স্মৃতি কেন্দ্র চালুর বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেয়া হলেও বাস্তবচিত্র একেবারে ভিন্ন।

বরাবরের মতোই ৯ ডিসেম্বর এলেই ধোয়া মোছায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই। আর দিনটি গেলেই আবারও সেই পরোনো অবস্থায় ফিরে যায়। এভাবেই যুগের পর যুগ উপেক্ষিত দেশের নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার স্বপ্ন বিলাস। এমনকি সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা স্বত্বেও বেহাত হয়ে যাওয়া বিপুল পরিমাণ পৈতৃক জমি, পুকুর উদ্ধারে নেয়া হচ্ছে না কার্যকর কোন পদক্ষেপ।

আর রোকেয়া চর্চার যে স্মৃতি কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছিল সেটি বন্ধ একযুগ ধরে। এতে স্ত্রী পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ বলেন, 'সর্বশেষ এটি আইনি জটিলতা পার হয়ে এখন একটি নির্দেশনার মধ্যে আছে। কিন্তু সেই নির্দেশনাটিও এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে না।'

তবে স্মৃতি কেন্দ্রসহ পায়রাবন্দে যেসব সমস্যা রয়েছে তা নিরসনে উদ্যোগ নেয়ার কথা জানালেন রংপুর জেলা প্রশাসক মো. রাহাত আনোয়ার।

১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর পায়রাবন্দের জমিদার জহির উদ্দিন মো আবু আলি সাবেত চৌধুরীর পরিবারের জন্ম এবং ১৯৩২ সালের একই দিনে কোলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন মহীয়সী বেগম রোকেয়া। সূত্র: সময় টিভি