জুলফিকার আলী: ‘নৈতিকতা শিশুকালে হলে, আগাছা হবে না বড়হলে!’ যখন প্রাইমারী তে পড়ি তখন যে ব্যবহার গুলো স্যারের শিখিয়েছেন তা আজও ভুলি নাই। এই যেমন- স্যারদের সামনে কখনো মাথা উঁচু করে কথা বলতাম না, বড়দের কথা আগে মনোযোগ দিয়ে শুনতাম ইত্যাদি ইত্যাদি কিংবা ছোট্র বেলায় পড়া কবিতা গুলো, আজও মনে আছে।

বড় হয়ে যেগুলো শিখেছি তার কিছুই মনে নাই। আগের যুগের শিক্ষা গুরুরা কত সম্মানই না পেতেন, মন থেকে! তবে এখন কেন নয়! এখনকার একজন অভিভাবকের কথা বলি, তার ছেলের খাতা কেড়ে নিয়েছিল বলে, একজন শিক্ষকের চাকুরী হারাতে হয়েছিল। কারণ সেই ছেলের বাবা ওই স্কুলের কমিটির সদস্য। 

আবার একজন ছাত্রের নাম শুনেছি যে পরীক্ষার হলে দেখাদেখি করছিল। সেই ছাত্রকে শিক্ষক সর্তক করায় তার পকেট থেকে পিস্তল বের করে শিক্ষকের কপালে ধরেছে। কোন এক জেলা স্কুলের এক শিক্ষককে তো বস্তায় বন্দী করে পিটিয়ে ফেলে রেখেছিলো। তবে কি দায় ভার সব আমাদের নাকি শিক্ষকদের না রাষ্ট্রের?

সমস্যা মনে হয় আমাদের সিস্টেমিক। এই যেমন কিছু কথা উল্লেখ করা যেতে পারে পৃথিবীর অসংখ্য দেশ আছে যারা তাদের সন্তানদের প্রাইমারী শিক্ষা হিসেবে দেখেন নৈতিকতা উন্নয়ন আর আমরা বুঝি - PSC দিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের A+ (এ প্লাস) পাওয়া। যেখানে তারা SSC, HSC বলতে বোঝেন বাস্তবিক কিছু করার প্রথম পদক্ষেপ শেষ, আমরা বুঝি ভর্তি কোচিং আর আর্মস্ ছাড়া যুদ্ধ করতে করতে সৃজনশীলতা চাপে জর্জরিত সব মেধা সম্পদ, আত্নহত্যার মাধ্যমে মেধাবী হয়ে পত্রিকায় আসে অমুক "ডাক্তারি চান্স না পেয়ে, মেধাবী ছাত্রের আত্নহত্যা!"।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে definition এবং feature পড়তে পড়তে ক্লান্ত, "কোটলার" "আইনস্টাইন " " মরগান" "ম্যলথাস" এর সূত্র আর থিওরি পড়তে পড়তে যখন আমরা ব্যস্ত তখন, অন্যরা এক এক জন হয়ে উঠেন আইনস্টাইনদের দলে। MP3 পড়তে পড়তে নির্ঘুম রাত কাটে যখন, তখন তারা খোঁজেন মহাজাগতিক সব আবিস্কারের সন্ধান।

নৈতিকতা উন্নয়ন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন মূল্যবোধ কমিশন হাজারো কমিশন যখন আগাছা পরিস্কারে দুর্বার গতি চলে, সেটা তারা ছোট বেলা থেকেই সব বাচ্চাদের মনে বীজ বপণ করে দেই এক একটা বাচ্চাই হয়ে উঠে এক একটা দূর্নীতি দমন কমিশন! কমল মনের পরিচর্যাই মূখ্য। আমেরিকার স্কুল লেভেল একটা বাচ্চার সাথে একবার কথা হলো, আমি বললাম তোমাদের বই কতগুলো? আমি ভাবছি ১৩ টার বেশী হবে, সে বলল "আমাদের নির্দিষ্ট কোন বই নেই।"

আমি ভাবলাম আমাদের আছে ১৩ খানা বই, স্যারের স্পেশাল লেকচার, সহায়ক বই ইত্যাদি ইত্যাদি। "শিশুর ওজনের ১০ শতাংশের বেশী ভারী ব্যাগ বহন নয়।" - হাইকোর্টের রায়।। ভালো সিদ্ধান্ত।

১৩ খানা সৃজনশীলতার অমৃত কেতাবই তো একটা শিশুর ১০০ শতাংশ ওজন খেয়ে ফেলছে ১০ শতাংশ ত ধার করা ছাড়া আর গতি থাকবে না। শহরের শিশুদের ব্যাগ তো বহন করতে হয় না মা-বাবা আর বহনকারীর সহজলভ্যতা আছে হয়তো। মনে রাখা উচিৎ কতগুলো শিশু কাধে ব্যাগ নিয়ে স্কুলে যায়। গ্রামের বাচ্চাদের দেখুন, ব্যাগ আগে না জামা আগে। ১৩ খানা বই বহন করতে বইয়ের চেয়ে দরকার মানসিক শক্তি।

ব্যাগ নয়। শিক্ষা ব্যবস্থার সুন্দর পথ সৃষ্টিই পারে বিল্ডিং এর ছাদের স্কুল বন্ধ করতে। প্রাইমারী হউক চাপমুক্ত কোমলমনা শিশুদের নৈতিকতা গঠনের ক্ষেত্র।

৭ টা সৃজনশীল প্রশ্ন চাই না, একটা কোমল মন চাই!

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)