banglanewspaper

মনিরুল ইসলাম মনি: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখলাম, আমাদের কুষ্টিয়ার খোকসার দুজন বিশিষ্ট ব্যক্তি দারিদ্র বিমোচন ও কৃতি ব্যক্তি হিসেবে সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন একটি পদক প্রদান সংগঠনের পক্ষ থেকে। 

এই যদি পদকের অবস্থা হয়, তাহলে এমন এক সময় আসবে প্রকৃত গুণীরা পদক নিতে লজ্জা পাবে! কিছুদিন আগে আমাকে একটা মানবাধিকার সংগঠন থেকে ফোন দিয়েছিল। ফোন দিয়ে বলে ভাই- আপনাকে সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদান রাখায় এ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এজন্য আপনাকে একটা বায়োডাটা দিতে হবে। আর কিছু ব্যাপার-স্যাপার আছে। সেগুলো আপনি ব্যবস্থা করে দিবেন।  

আমি বললাম, ভাই আমাকে যদি আপনারা ফোন দিয়ে এ্যাওয়ার্ড এর জন্য মনোনীত করেন তাহলে ক্যামনে কি? আমি তো ভাই সাংবাদিকতায় অসামান্য ক্যান সামান্য অবদানও রাখিনি। আর আমি সাংবাদিকতার ‌‌‌'স' ও বুঝিনা। তাছাড়া ভাই আমি এ্যাওয়ার্ডেরও ডেফিনেশন বুঝিনা। আমি বললাম ভাই- আপনারা আদম চিনতে ভুল করেছেন।
তারপরে বললাম-আচ্ছা ভাই এই পদকটা নিতে হলে আমাকে কি কি করতে হবে? তারা জানালো- ভাই এজন্য আপনাকে হাজার দশেক টাকা আমাদের মানব কল্যাণ তহবিলে অনুদান দিতে হবে।

আমি বললাম- ভাই, আমি সাংবাদিক হইছি এক কপি ছবি আর ৫০০ টাকা সম্পাদককে দিয়ে। আপনারা এক কাজ করেন- ৫০০ টাকায় সাংবাদিক বানানোর মেশিন কতিপয় কিছু সম্পাদককে পদক দিতে পারেন। তারাই তো অসামান্য অবদান রাখছে সাংবাদিকতায়। তাদের টেকা-টুকারও অভাব নেই। 

পদককে পাদুকা বানিয়ে ফেইলেন না- বলে ফোনটা কেটে দিলাম।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: