banglanewspaper

অনেক চড়াই-উতড়াই করে পাওয়া বিজয় যেন কোনভাবে নস্যাৎ না হয় এ নিয়ে অনেকে অনেক লম্বা ফিরিস্তি গাইবেন কিংবা বড় বড় অনুষ্ঠানের আয়োজনে বৃহৎ কর্ম পরিকল্পনা জাহির করবেন।

কিন্তু ক্ষুদ্র এই মগজ সম্ভাবনা ফাঁকে জড়িয়ে থাকা কিছু ক্ষুদ্র সমস্যাগুলিকে ঈষৎ ইঙ্গিত করতে চায়। সেই চেষ্টায় এই ক্যানভাস। ভৌগোলিক ভূ-প্রশান্তি খুঁজলে তা হয়তো ভূমণ্ডলের যে কোন প্রান্তে বসেই অনুভব করা সম্ভব।

তবে আপনার বাসনা যদি শুধুই প্রযুক্তিগত (কলের) সুখ লাভের হয়, তবে আপনাকে আপাতভাবে ভীষণ উন্নত দেশগুলির কাছেই আত্মসমর্পণ করতে হবে। আত্মসমর্পণ বলার কারণ নিজ ভূমি ছেড়ে পর দেশের কাছে কিছু চাওয়া বা তার দিকে হাত বাড়ানো সেটা আত্মসমর্পণের সামিলই। বিশ্ব মোড়লরা একদা এই দেশকে হত-দরিদ্র দেশের তালিকায় রেখেছিলেন। কিন্তু আজ এই দেশ তার আপন গরিমায় সকল কালো ছায়া থেকে বেরিয়ে সম্ভাবনার আলোক পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে এতদূরে এসেছে।

শুধু তাই নয় ওরা হয়তো জানেও না আমরা এখন ওদের দেশের অর্থনীতির চাকাকে আরো গতিশীল করতে নিজ নিজ ভূমি অনবরত বিক্রি করে চলছি! এ প্রসঙ্গে বলতে গেলে তুলে আনতে হবে কিছু অপ্রিয় সত্য গল্প এবং সময়কে। পিতৃ পুরুষের সমস্ত নাম-নিশানা মুছে মমতাময়ী ভিটে-মাটি বিক্রি করে এই বাংলার গুটিকয়েক মানুষ এখন পরগাছার বেশে পরদেশে যাচ্ছেন। সেখানে সামান্য ভূমি কিনে বসত গড়ছেন। অর্থাৎ দেশের অর্থ সম্পদের বিনিয়োগ ঘটছে ভিনদেশি মাটিতে! যা যুক্ত হচ্ছে তাদের সমগ্র অর্থনীতিতে।

প্রবাদ আছে অপর ঘরের পোলাও মাংসের চেয়ে নিজ ঘরের নুন-ভাতও ভালো। কারণ যা পর তা পরই । আর যা আপন তা আপনই। কিন্তু এরপরও দেখা যায় ভিন্ন একটি দেশের জাদুটোনায় পরে এখানকার কিছু মানুষ সেখানে গিয়ে তৃতীয় স্তরের নাগরিক হিসেবে জীবন যাপন করছেন এবং দেশের টাকা ঢালছেন বিদেশের মাটিতে! ভাষার জন্যে স্বাধীন হওয়া দেশের একালের জনতার ভাষার প্রতি উদাসীনতা এবং আত্ম অহংবোধের গল্পে শহীদরাও হয়তো আঁতকে উঠবেন।

রাজধানী ঢাকার স্বনামধন্য একটি মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক তার মেয়েকে একটি স্বনামধন্য স্কুলে (বাংলা মিডিয়াম) থেকে ফেরত নিয়ে এসেছিলেন শুধুমাত্র তার কম্পাউন্ডারের মেয়েও সেখানে পড়ে বলে। তার ভাষ্য ছিল এই কম্পাউন্ডারের মেয়ে বাংলায় পড়লে আমার মেয়ের তো ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া উচিত! অস্ত্র সজ্জিত পাকিস্তানের সাথে স্পর্ধার লড়াইয়ে কোন জাত-পাত ছিল না। ধর্মের বালাই বৈষম্য ছিল না। সকল স্তরের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একই পাতে খেয়ে না খেয়ে লড়াই করেছিলেন।

তবে আজ বিজয়ের এ বেলায় কেন এই জাত-পাতের হিসেবে নিজেকে জাতের তোলার চেষ্টা ? বাংলার মেহনতি মানুষের কণ্ঠস্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শোষণহীন মানুষের একটি পরিবার বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। জাতির পিতার সেই চির সবুজ স্বপ্নকে বাস্তবায়নের জন্যে তাই নিজ নিজ ভূমির প্রতি সর্বোচ্চ ভালবাসার স্ফুরণ এবং ভেদাভেদের উনুনে জল ধেলে নিজ নিজ দায়িত্ব কাঁধে কাঁধ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

এগিয়ে যাক বাংলাদেশ। জয় বাংলা , জয় বঙ্গবন্ধু

                                            

হায়দার মোহাম্মাদ জিতু

                                         সাংগঠনিক সম্পাদক

                                               বাংলাদেশ ছাত্রলীগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)

ট্যাগ: