কিছুকাল পূর্বেও একপ্রান্তের মানুষের সাথে অন্যপ্রান্তের মানুষের যোগাযোগ ছিল কদাচিৎ। আর তারও পূর্বের ইতিহাস নিংড়ালে জানা যায় প্রান্তভেদে যে মানুষের বাস ছিল সেটা প্রায় উভয় প্রান্তের বেশিরভাগেরই অজানা ছিল। কারণ তখনকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল দুর্গম।

তবে সময়ের পালাবদল এবং আবিস্কারের নেশায় অসম দূরত্বকেও আজ হার মানিয়েছে মানুষ। সড়ক, নৌ ও বিমান পথের পাশাপাশি আবিস্কার করেছে নানান সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং মাধ্যম। এতে করে মানুষ প্রান্তভেদের দূরত্ব তো ঘুচিয়েছেই পাশাপাশি তারা এখন হাত বাড়িয়েছে পৃথিবী ছেড়ে নক্ষত্রের দিকে। তবে তারা উপরি বা জাগতিক দূরত্ব যতই কমিয়ে আনুক না কেন, আমিত্বের প্রাদুর্ভাবে অনেকটা আনমনেই বেড়ে চলেছে তাদের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব। 

উত্তপ্ত হার না মানা মগজের এক চমৎকার ভ্যেন্টিলেশন মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং। যার দরুণ রুখে দাঁড়াবার অগ্নি দম্ভ এখন ক্রমেই হয়ে পরেছে নেতিয়ে পরা কিছু বাকসর্বস্ব বুলি। আবছা কুয়াশা সমান অশ্রু বিসর্জন কিংবা তীব্র ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে এই মাধ্যমের বর্তমানে জুড়ি নেই।

আবার এই নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থার কল্যাণে বর্তমানে প্রাইভেট আর পাবলিক সম্পর্কগুলির মাঝেও খুব একটা ফারাক করা যায় না। ভুমিষ্ট শিশুর আঁতুড় ঘর এমনকি নব দম্পতির কাঙ্ক্ষিত রাত, সব জায়গায় এটি অনেকটা বিনা পাসপোর্টেই ঢুকে পরেছে। আরেকটু ভিন্নভাবে বললে, জন্ম থেকে মৃত্যুর অসীম হাতছানি সর্বক্ষেত্রে এখন এর দুর্দান্ত দাপট প্রতীয়মান।

উঁকি দেয়া সম্ভাবনায় সমস্যারও লেজ গুটিয়ে থাকে না। বর্তমান বাংলাদেশ অর্থনীতি, রাজনীতি, বৈদেশিক নীতি এককথায় উন্নতির সোপানের পথে বেশ চমৎকারভাবে এগিয়ে চলছে। এতশতের পরও এই জমিন সন্তানেরা যে কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পরেছে সেটার স্বীকারোক্তিতে দ্বিধা নেই। কেননা অন্যায় পাপাচার দেখলে এখন আর তাদের রক্ত খোলে না। খোলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং এক খণ্ড টুকরো পাতা।


৫২' থেকে ৭১' ছিল বাঙ্গালীর স্বাধীন ও স্বাধিকার আন্দোলনের সময়কাল। শুধুমাত্র ৫২'এর কথাই যদি আমরা বলি, সেখান থেকে জেনেছি সালাম, রফিক, জব্বার, বরকত, সফিউর সহ আরো নাম না জানা শহীদের কথা যারা মা-মাটির কথা চিন্তা করে তুচ্ছ প্রাণে উৎসর্গ করেছিল আপাদমস্তক। 

অথচ আজ সেই দেশের সন্তানেরাই সাধারণ মানুষ কিংবা কোন মুক্তমনা মানুষ খুন হলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংয়ের মাধ্যমে একটা স্ট্যাটাস এবং কিছু বুলি ছুড়েই খালাস! পাত্রভেদে তোলে ফলক নির্মাণের ঠুনকো দাবি! আত্মকেন্দ্রিকতার আফিমে দেশের তরুণেরা যদি নিজে ভালো আছি এই চিন্তায় মগ্ন হয়, তবে ভবিষ্যৎ যে আমাদের নিশ্চিত আনমনে সেটা বলতেও কুণ্ঠিত নই।

বাংলার স্বাধীন ও সার্বভৌমত্বের আন্দোলনে স্পর্ধার তরুণেরাই ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মূল শক্তি। সেই শক্তির তরুণেরা আজ দেশরত্ন শেখ হাসিনার ভ্যানগার্ড হয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিবে এবং দেশকে নিয়ে ভাববে এই প্রত্যাশায় এখন স্বপ্ন দেখা। আমিত্বের জায়গা থেকে বেরিয়ে আমাদের চিন্তায় এগিয়ে চলুক দেশ।

জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

লেখকঃ হায়দার মোহাম্মাদ জিতু, সাংগঠনিক সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। 

 

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)