মনিরুল ইসলাম মনি: বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী অন্যতম প্রাচীন এবং বৃহৎ নৃগোষ্ঠী সাঁওতাল। এরা উত্তরের জেলাসমূহ যেমন- দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড়ের এলাকায় তাদের বসতি। বাংলাদেশের ইতিহাসে কালে কালে সাঁওতালদের সরব ভূমিকা থাকলেও বর্তমানে তারা নানা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। তেভাগা ও স্বদেশী আন্দোলন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পাশাপাশি নানান ঐতিহাসিক ঘটনায় রয়েছে সাঁওতালদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।

সাঁওতালরা তাদের পরিচয় দেয় ‘হড়’—অর্থাত্ মানুষ হিসেবে। মাটির তৈরি প্রায় জানালাবিহীন নিচু দরজাবিশিষ্ট ছোট ছোট ঘরে এই নৃগোষ্ঠী থাকে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তাদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সাঁওতাল মহিলারা বালা, হাঁসুলি, মল ইত্যাদি অলংকারাদি পরতে এবং খোঁপায় ফুল গুঁজতে পছন্দ করে। সাঁওতালদের পোশাক ‘পাঁচি’, ‘পাঁচাতাত’ ও ‘মথা’। তবে পুরুষরা থান কাপড়ের ধুতি, লুঙ্গি, গেঞ্জি, গামছা এবং নারীরা হাতেবোনা শাড়িও পড়ে।

সাঁওতালদের মধ্যে ছয় রকম বিবাহপ্রথা চালু আছে এবং শুধুমাত্র বহিঃগোত্র বিবাহের চল আছে। অভিভাবকের পছন্দানুসারে বিয়েকে সাঁওতালি ভাষায় ‘ডাঙুয়াবাপলা’ বলে। সাঁওতালরা মূলত কৃষিকাজ করে, কৃষিকাজের যন্ত্রপাতি এরা নিজেরাই তৈরি করে এবং এগুলোতে শ্রদ্ধাবশত সিঁদুরের ফোঁটা দেয়। তারা নবান্ন, হোলি , সোহরাই, দাসাই, বাহা প্রভৃতি উৎসব পালন করে। তাদের রয়েছে নিজস্ব গান, সংস্কৃতি এবং নৃত্যভঙ্গিমা।

মাদল, দমা ও বাঁশি এদের প্রধান বাদ্যযন্ত্র। এদের প্রধান খাদ্য ভাত, এর পাশাপাশি মাছ, মুরগী, ইঁদুর, বেজী, খরগোশ, গুঁইসাপ, সবজি, শূকর, কাঁকরা প্রভৃতি খায়। সাঁওতালী ভাষায় দেবতাকে বলে ‘বোংগা’। এদের প্রধান দেবতা সূর্য। পাহাড়ের দেবতা হলো ‘মারাংমুরো’ এবং গৃহদেবতার নাম ‘বোঞ্চার’। শবদাহ করার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে অর্থাভাবে এরা মৃতদেহ কবর দেয়।