ডেস্ক রিপোর্ট: আজ থেকে মাসব্যাপী শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ২০১৭।  সকালে মেলার উদ্ধোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন বছর জানুয়ারির ১ তারিখে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে মাস জুড়েই।

এর আগে রাজধানীর আগারগাওঁয়ে অবস্থিত মেলা সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর আয়োজনে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে। রবিবার সকালে মেলার উদ্ধোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘পূর্বাচলে ৬০ বিঘা জমির উপর স্থায়ী বাণিজ্য মেলা কেন্দ্র তৈরির কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। চীনের অর্থায়নে তিন বছরে এটির কাজ শেষ হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, ‘যারা একদিন জ্বালাও-পোড়াও করেছিলেন তাদের আজ বোধদয় হয়েছে। তারা এখন নির্বাচনমুখী হয়েছে। কেনানা দাবি দাওয়া দিয়ে কোনো লাভ হবে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর হবে না। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে।’

এবারের মেলার উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের পণ্য ও সেবাখাতে ২৯টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ, ২২টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে রৌপ্য এবং পণ্যখাতে ১৫টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ব্রোঞ্জ ট্রফির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। এর বাইরেও পণ্যখাত নির্বিশেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ রপ্তানি আয় অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ স্বর্ণ ট্রফির জন্য মনোনীত করা হয়েছে। মোট ৬৬টি রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানকে ২০১৩- ১৪ অর্থবছরের জন্য জাতীয় রপ্তানী ট্রফি ও সনদ প্রদান করা হবে।

মেলা মাঠের আয়তন ৩১ দশমিক ৫৩ একর। মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এবারের মেলায় প্রবেশ মূল্য ধরা হয়েছে (পূর্ববর্তী ৩ বছরের মতো) প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য জনপ্রতি ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য জন প্রতি ২০ টাকা। ভিআইপি গেইটে গাড়ি আগমন ও নির্গমনের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল-প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৫৮০টি। মেলা মাঠে ১টি ই-শপ, ২টি শিশু পার্ক, ৩টি রক্তসংগ্রহ কেন্দ্র, ৩টি মা ও শিশু কেন্দ্র এবং ১টি প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন স্পটে বাগান তৈরি করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে মুসল্লিদের নামাজ পড়ার জন্য ১টি মসজিদ এবং আনসার ও বেসরকারী সিকিউরিটি ফোর্স সদস্যদের জন্য ২টি ডরমেটোরি স্থাপন করা হয়েছে।

এ বছর ২১টি দেশ (বাংলাদেশসহ) মেলায় অংশ নিচ্ছে। মেলায় বাংলাদেশ ছাড়া যে সকল দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহ অংশগ্রহণ করছে সেগুলো হলো-ভারত, পাকিস্তান, চীন, মালয়েশিয়া, ইরান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন, দক্ষিণ কোরিয়া, মরিশাস, নেপাল, হংকং, জাপান, ভূটান, বাহরাইন, ভিয়েতনাম এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, বাণিজ্যমেলায় ২০১০ সালে ২২ কোটি ৮৬ লাখ টাকার, ২০১১ সালে ২৫ কোটি টাকার, ২০১২ সালে ৪৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার, ২০১৩ সালে ১৫৭ কোটি টাকার, ২০১৪ সালে ৮০ কোটি টাকার, ২০১৫ সালে ৮৫ কোটি টাকার এবং ২০১৬ সালে ২৩৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালের বাণিজ্যমেলায় রপ্তানি আদেশ আরো বেশি পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পুলিশবাহিনীর পাশাপাশি বিজিবি, র‌্যাব, আনসার এবং বেসরকারী সিকিউরিটি ফোর্স মোতায়েন থাকবে। তাদের কাজে সহায়তা করার জন্য মেলা প্রাঙ্গনে ওয়াচ টাওয়ার, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর, আন্ডার ভিহিকল মিরর ব্যবহার করা হবে। মেলার নিরাপত্তা কার্যক্রম মনিটরিং করার জন্য

গত মেলার মতো এবারও মেলায় ১৪০টি সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। বাণিজ্যেমেলাকে এবারে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী ভার্চুয়ালি উপস্থাপন করা হচ্ছে। পুরো বাণিজ্যমেলার ভেন্যুকে ৩৬০ ডিগ্রি ভার্চুয়াল করা হচ্ছে।