তাহরীমা চৌধুরী একজন মা, জাতির একজন শ্রেষ্ঠ সন্তান- বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মানুষ গড়ার কারিগর- একজন শিক্ষক। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়াজ মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক। তিনি আমার লেখার একজন ভক্ত। মহান মুক্তিযুদ্ধের উপর আমার লেখা "মুক্তিযুদ্ধ এবং আশুগঞ্জ" বইটি পড়েই তিনি আমার কঠিন ভক্ত হয়ে পড়েন। তিনি মাঝে মাঝেই ফোনে আমার খোজ খবর নেন। অতিসম্প্রতি তাঁর অবসরের কাগজপত্র নিয়ে আমার অফিসে আসেন। অসুস্থ, মরণব্যাধি ক্যানসার তার শরীরে বাসা বেধেছে। ছেলে মেয়েরা সবাই লেখাপড়া করে, মাস্টার্স উত্তীর্ণ মেয়ের বিয়ের জন্য ও টাকার প্রয়োজন। তিনি যখন আমার অফিসে বসে কথা বলছিলেন তা একদিন পরই মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী নিজ হাতে ৫৭৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ এবং অবসর সুবিধার চেক তুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। ঘটনা চক্রে অবসর বোর্ডের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ শরীফ সাদী আমার অফিসে এসে উপস্হিত হন।

একজন মহিলা মুক্তিযোদ্ধা এবং শিক্ষকের এই অসহায়ত্বের কথা শুনে আমরা তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়ে পরদিন আনুষ্ঠিকভাবে মানানীয় শিক্ষা মন্ত্রীর হাতে মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকদের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানের কর্মসূচি সূচনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একদিনের মধ্যেই তাঁর কল্যাণ এবং অবসর বোর্ডের চেক রেডি করি।

পরদিন ৩০ ডিসেম্বর ২০১৬ ইং শিক্ষা মন্ত্রী নিজে তাঁর হাতে চেক তুলে দেন। আবদনের ২৪ ঘন্টার মধ্যে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষক- আরেকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষা মন্ত্রীর হাত থেকে অবসরকালীন জীবনের চেক হাতে পেয়ে তাঁর চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। তিনি যে কতবার আমার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তার ইয়ত্তা নেই।

প্রসঙ্গত আমি কল্যাণ ট্রাস্টের দায়িত্বে আছি সাত বছর। এ সময়ের মধ্যে এর আগেও আরো দুইজন মহিলা মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষকের বাড়িতে গিয়ে কল্যাণ সুবিধার চেক তুলে দিয়েছিলাম। পাবনায় একজন কলেজ শিক্ষক এবং সিরাজগঞ্জে একজন স্কুল শিক্ষকের হাতে চেক দিয়েছিলাম। তাদের একজন চেক পাবার ছয় মাসের মধ্যে মারা গিয়েছেন অন্যজনের কি অবস্হা তা জানা নেই।


তাহরীমা চৌধুরীকে বলছি- মা তুমি একজন মেয়ে মানুষ হয়েও সেদিন মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিলে। তুমি সেই শ্রেষ্ঠ সন্তান যাদের জন্য আজ আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। তুমি তোমাক কখনো অসহায় ভাববে না। তোমার অসংখ্য সন্তান তোমার পাশে আছে।

 

লেখকঃ অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু, সাধারণ সম্পাদক, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ)।

 

 

 

 

 

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)