আঠারো বছর আগে অপারেশনের সময় পেটের ভেতরে রেখে দেয়া এক জোড়া কাঁচি বের করে আনার একটি বিরল ঘটনা ঘটেছে ভিয়েতনামে।
ভিয়েতনামের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি প্রদেশে এই ঘটনা ঘটে।


ডাক্তাররা বলছেন, কাঁচি দুটোর হাতলে সামান্য মরচে পড়ে গেছে এবং দুটোই ওই ব্যক্তির পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে জড়িয়ে গেছে।

অপারেশনের সময় পেটের ভেতরে ছুরি কাঁচি ইত্যাদি রেখে দিয়ে সেলাই করে দেয়ার ঘটনা একবারে বিরল নয়। এ ক্ষেত্রে সাধারণত অপারেশনের কিছুক্ষণ পর ডাক্তাররা তাদের ভুল বুঝতে পেরে তাকে আবারও অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে সেসব বের করে আনেন।


কিম্বা পেটে ব্যথার অভিযোগ নিয়ে রোগী আবার ডাক্তারের কাছে গেলে পরীক্ষা করে দেখা যায় ভেতরে কিছু একটা রেখে দেয়া হয়েছিলো।
ভিয়েতনামের নাগরিক ৫৪ বছর বয়সী মা ভান নাত গত মাসে এক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন।
ডাক্তাররা তার শরীরে আলট্রাসাউন্ড স্ক্যান করে তার মলাশয়ের কাছে দুই-দুইটি ছুরি দেখতে পান।
নিশ্চিত হওয়ার জন্যে আরো একবার স্ক্যান করা হয় তার শরীরে।


তারপর তার শরীরে তিন ঘণ্টা ধরে চালানো এক অপারেশনের পর তলপেট থেকে লম্বায় প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার বা ছয় ইঞ্চির মতো দুটো কাঁচিই বের করে আনা হয়েছে। এ জন্যে রাজধানী হ্যানয় থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে আসা হয়।


বলা হচ্ছে, পেটের ভেতরে ছুরি দুটো নিয়ে গত প্রায় দুই দশক ধরে তিনি খাওয়া-দাওয়াসহ সবকিছু ঠিকঠাক মতোই করে আসছিলেন।
তিনি জানান, মাঝে মাঝে তার শুধু একটু পেটে ব্যথা হতো। এ ছাড়া তিনি আর কিছুই বুঝতে পারেননি।

মা এখন সেরে উঠছেন। ধারণা করা হচ্ছে আগামী সপ্তাহে তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে যেতে পারেন।
এই ঘটনা তদন্ত করে দেখার জন্যে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।


চিকিৎসকরা বলছেন, ১৯৯৮ সালে মা ভান নাতের শরীরে অপারেশনের সময় ভুলে তার পেটের ভেতরে এই কাঁচি দুটো রেখে দেয়া হয়েছিলো।
তখনও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাকে অপারেশন করা হয়েছিলো আর তখনই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।