হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা গিবত থেকে বেঁচে থাকো, কেননা গিবত ব্যভিচারের চেয়েও জঘন্য।’ 

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘গিবত হচ্ছে কারও অসাক্ষাতে তার সম্পর্কে এমনসব কথাবার্তা বলা যেগুলো শুনলে সে অপছন্দ করবে। সাহাবারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে জানতে চাইলেন, বাস্তবে যদি ওই ব্যক্তির মধ্যে সেসব দোষ-ত্রুটি থেকে থাকে, তাহলেও কি গিবত হবে! রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, বাস্তবে তার মধ্যে সেসব দোষ-ত্রুটি থেকে থাকলেই তো তা হবে গিবত; আর যদি সেসব দোষ-ত্রুটি তার মধ্যে না-ই থেকে থাকে তা হলেতো তা হবে মিথ্যা অপবাদ- আরবিতে যাকে বলা হয় বুহতান।’

একদা এক বেঁটে মহিলা কোনো প্রয়োজনে হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর খেদমতে উপস্থিত হয়। প্রয়োজন শেষে মহিলা বিদায় নেওয়ার পর হজরত আয়েশা (রা.) বললেন, মহিলাটি কত বেঁটে! তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে আয়েশা! এর দ্বারা তুমি সেই মহিলার গিবত করলে।’

তার মানে গিবত এতটাই সূক্ষ্ম ব্যাপার, যে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এমন ক্ষুদ্রতম মন্তব্য যা সে শুনতে পছন্দ করবে না; তা করাটা গিবতই হয়ে যাবে। 

গিবত হলো- বান্দার হক। তাই গিবতের অপরাধ হতে মুক্ত হতে হলে গিবতকৃত ব্যক্তির কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া ও ক্ষমা অর্জন করে নেওয়া আবশ্যক। 
গিবতের মধ্যে তিনটি মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে- ১. গিবতকারী ব্যক্তির দোয়া কবুল হয় না; ২. তার নেক আমল আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয় না; ৩. তাকে অসংখ্য পাপরাশীর বোঝা বহন করতে হবে।