নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত মারজানের সহযোগী সাদ্দাম হোসেন ওরফে রাহুল কুড়িগ্রামে ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছিল। কুড়িগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল-এ) সনাতন চক্রবর্তী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহত সাদ্দামের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চর বিদ্যানন্দ গ্রামে। তার বাবার নাম আলম ওরফে আলম জোলা এবং মায়ের নাম জোবেদা বেগম। 
সাদ্দাম মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত দ্বিতীয় আসামি। 

কুড়িগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল এ) সনাতন চক্রবর্তী জানান, ধর্মান্তরিত মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যা মামলায় ১০ জন জেএমবি সদস্যকে আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু ইতোমধ্যে তিন আসামির মৃত্যু হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বাকি সাতজনের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে একটি এবং জাহাঙ্গীর, সাদ্দাম, রিয়াজুল ও গোলাম রব্বানী নামে চারজনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক আইনে অভিযোগ এনে পৃথক আরও একটি অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। চার্জশিটভুক্ত সাত আসামির মধ্যে চারজনকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য তিন পলাতক আসামি  জাহাঙ্গীর, সাদ্দাম ও রিয়াজুলের মধ্যে সাদ্দাম গত রাতে ঢাকায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। 

গত ৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে ডিবি পুলিশের একটি টিম জেএমবি সদস্য গোলাম রব্বানীকে গ্রেফতার করে কুড়িগ্রামে নিয়ে আসে। তারও আগে ২৮ এপ্রিল আবু নাসের রুবেল (২০) এবং মাহবুব হাসান মিলন (২৮) এবং ২ মে হাসান ফিরোজ (২৩) নামে তিন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

এছাড়া চার্জশিটে অব্যাহতি পাওয়া তিন আসামির মধ্যে ইতিপূর্বে হলি আর্টিজানে খায়রুল ইসলাম বাধন, শোলাকিয়ার ঘটনার আসামি হিসেবে নান্দাইলে আবু মোকাদিল ওরফে ডন ওরফে শফিউল আলম এবং রাজশাহীতে নজরুল ইসলাম ওরফে আবুল বাশীর ওরফে বাইক হাসান পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ায় তাদেরকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পলাতক বাকি তিন আসামির মধ্যে সাদ্দাম বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। এ নিয়ে হোসেন আলী হত্যা মামলার ১০ আসামির মধ্যে চারজন পুলিশের গুলিতে নিহত হলো। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ মার্চ কুড়িগ্রামের গাড়িয়াল পাড়া এলাকায় প্রাতঃভ্রমণের সময় বাড়ির সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ধর্মান্তরিত খ্রিস্টান মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীকে। এ সময় হত্যাকারীরা ককটেল ফাটিয়ে মোটর সাইকেলযোগে পালিয়ে যায়।