মো: জিহাদুল ইসলাম, ভোলা জেলা প্রতিনিধি: আমিন আমিন ধ্বনির মধ্য দিয়ে শেষ হলো ভোলায় আয়োজিত ৩দিনের ইজতেমার কার্যক্রম। শনিবার বেলা ১২টায় অনুষ্ঠিত হওয়া আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। প্রায় ২৫ মিনিটের এই বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রায় ৬ লক্ষাধিক ধর্মপ্রাণ মুসলমান। এসময় দেশ ও বিশ্ব উম্মার শান্তি কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। আমিন আমিন ধ্বনিতে মুখরিত হয় গোটা ইজতেমা ময়দান। ভোলা ও তার পাশ্ববর্তী জেলাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত মুসলমানরা দোয়া মোনাজাতে অংশ নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। দেশকে বালা মসিবত হতে মুক্ত করার জন্য আল্লাহর অনুগ্রহ কামনা করেন। আজ ইজতেমার আখেরী মুনাজাতের দিন হওয়াতে ভোলার অনাচে-কানাচে থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ছুটে আসেন ইজতেমার ময়দানে। জেলার ৭ উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার ধর্মপ্রাণ মুসল্লীরাও এতে অংশ গ্রহণ করেছেন।


উল্লেখ্য, জেলা পর্যায়ে যে ৩২ জেলা ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে তারই অংশ হিসেবে ভোলায় বৃহস্পতিবার থেকে ৩দিন ব্যাপী জেলা পর্যায়ের ইজতেমা শুরু হয়। আজ আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হলো এ ইজতেমা। বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার কার্যক্রম শুরু হয়। আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠে পুরো ময়দানসহ আশপাশের এলাকা। জেলার দৌলতখান উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নে ভোলা-চরফ্যাশন সড়কের ঘুইংগার হাট সংলগ্ন ময়দানে এ ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছিল। ইজতেমা এলাকা জুড়ে একসঙ্গে ৩ হাজার মুসল্লির ওজুর ব্যবস্থা, ১৪টি টিউবওয়েল, ৫৫টি শ্যালো টিউবওয়েল, ২ হাজার শৌচাগার, ১৫টি পুকুর, চারটি পুলিশ পর্যবেক্ষণ কক্ষসহ বিভিন্ন স্থাপনা তেরি করা হয়েছিল। ইজতেমা মাঠে দুইটি চিকিৎসা ক্যাম্প স্থাপন এবং ৩ অ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত ছিল। ইজতেমা মাঠে দায়িত্বে থাকা তাবলীগ জামায়াতের এক মুরুব্বি জানান, প্রায় একশত একর জমির ওপর ইজতেমা ময়দান তৈরি করা হয়। ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, লন্ডন ও মালয়েশিয়া থেকে আগত মেহমান এতে অংশগ্রহণ করেছেন। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই প্রথম বারের মত সফল ভাবে ইজতেমার আয়োজন করতে পেরেছেন বলে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছেন সংশ্লিষ্টরা কর্তৃপক্ষ।

ইজতেমা মাঠ ঘুরে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা মাঠে এসে জড়ো হয়েছেন। প্রত্যেকেই নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করেছেন। নিজ জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা থেকে এসেছেন সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ। এছাড়া ইজতেমাস্থলের চারপাশে বসেছে অস্থায়ী শত শত দোকানপাট।

ভোলার পুলিশ সুপার মোঃ মোকতার হোসেন বলেন, নিরাপত্তার জন্য ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। যাতে করে সেখানে বসেই পুরো এলাকার উপর নজর রাখা যায়। মাঠে নিরাপত্তায় দুই শিফ্টে পুলিশের ৫১০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও ট্রাফিক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোলা-চরফ্যাশন সড়কের শুধু ইজতেমা এলাকায় সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, শুধু বাস চলাচলে শিথিলতা ছিলো।