প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) থেকেঃ রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাধ এলাকায় পুলিশের সাথে কথিত বন্ধুক যুদ্ধে নিহত কুড়িগ্রামের রাজারহাটের জঙ্গী সাদ্দামের লাশ ফেরত পেলে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করবেন সাদ্দামের পরিবারের লোকেরা। ঘৃণিত অপরাধ জঙ্গীবাদে সাদ্দাম জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে তার বাবা মা কিছু জানতেন না বলে দাবী তাদের।

৭ জানুয়ারী শনিবার সকালে সরেজমিন উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের চরবিদ্যানন্দ গ্রামে জঙ্গী সাদ্দামের বাড়িতে গেলে এলাকাবাসী ও তার পরিবারের লোকজন জানান , গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বিয়ে করার সুবাদেই জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পরেছিল সাদ্দাম।

ওই গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারে তার জন্ম । কৃষি চাষাবাদ দিয়েই পরিবার চলে তাদের। সাদ্দামের বাবার নাম তাজুল আলম, মাতা সুফিয়া বেগম ওরফে জোবেদা। সাদ্দামের ক্রসফায়ারে মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ৬ ভাই ১ বোনের মধ্যে সাদ্দাম পঞ্চম।  মাত্র ২১ বছর বয়সে সাদ্দাম কিভাবে জঙ্গী হলেন এনিয়ে নানা তথ্য প্রদান করেন এলাকাবাসী।

সাদ্দামের দাখিল পাস সার্টিফিকেট থেকে জানা যায়, রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার তাম্বুলপুর জে,এল দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২০১০ সালে জিপিএ-৫ পেয়ে দাখিল পাস করেন । ২০১২ সালে একই উপজেলার পাওটানা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে জিপিএ-৪.৮৩ পেয়ে আলীম পাস করেন ।  ২০১৩ ইং সনে লালমনিরহাট সরকারী কলেজে অনার্সে ভর্তি হন। সার্টিফিকেট অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ-৩১ডিসেম্বর ১৯৯৫।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার গোপালচরন গ্রামের ফুলমিয়ার কন্যা ফারজানা  কে বিয়ে করেন। পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীর ধারনা বিয়ের পরেই জঙ্গীবাদে জড়িয়ে পড়তে পারে সাদ্দাম।

চরবিদ্যানন্দ মৌজার ইউ,পি সদস্য আনোয়ার হোসেন জানান, আনুমানিক ২/৩ বছর থেকে সাদ্দাম বাড়িতে এসে খুব কম সময় কাটাত। গ্রামের আঃ সালাম,শামসুল ও নুরুজ্জামান সহ অনেকে জানান, সাদ্দাম বাড়িতে থেকে জঙ্গী কার্যক্রম চালার বিষয়ে তাদের জানা ছিন না কিন্তু শশুরবাড়ি এলাকায় থাকাকালে জঙ্গীবাদে জড়াতে পারেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি জানান, ২/৩ বছর পূর্বে অপরিচিত কিছু লোকজন সাদ্দামের সাথে এসেছিল এবং গ্রামের দোতলা মসজিদে তারা রাত জাপন করেছিন। তাদের চলাফেরাও সন্দেহ জনক ছিল বলে তিনি জানান।

সাদ্দামের বড়ভাই মিজানুর জানান, সাদ্দাম নিখোঁজ হওয়ার তিন মাস পর তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম নিয়েছে। সে তার মায়ের সাথে রয়েছে।

সাদ্দামের বাবা তাজুল আলম জানান, গত বছর ১৪ এপ্রিল গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে শশুর বাড়ি থেকে পুলিশ পরিচয়ধারী কিছু লোক সাদ্দামকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর অনেক খুঁজেও সন্ধান পাইনি। এখন জানতে পারি সাদ্দাম জঙ্গীতে নাম দিয়েছিল। সে অন্যায় করেছে শাস্তিও হয়েছে। তার লাশ যদি আমাদেরকে ফেরত দেয়া হয়,তাহলে পারিবারিক কবরস্থানে  লাশ দাফন করা হবে। তবে সুফিয়া বেগম ছেলের লাশ দেখতে চান।

উল্লেখ্য রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাধ এলাকায় পুলিশের সাথে কথিত বন্ধুক যুদ্ধে নিহত দুই জঙ্গীর একজন সাদ্দাম। রংপুরের জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি সহ উত্তরাঞ্চলে একাধিক জঙ্গি হামলা ও হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে । এছাড়া তিনি ৫টি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র ভূক্ত আসামী । আরো ৫টি হত্যা ও হত্যা চেষ্টা মামলাও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে জানা গেছে।