এবিএম আতিকুর রহমান বাশার: কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বড় শালঘর ইউ,এম,এ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ’র নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দু-গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, বাড়ি ঘর দোকান পাটে হামলা- ভাংচুরের ঘটনা ঘটার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এতে অনন্ত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েন এবং এতে স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ’র সভাপতি মোঃ মন্ছুর ইসলাম’র হাতে-পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট ম্যাজিষ্ট্রেট শালঘর ইউ,এম,এ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ’র নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করেছেন।

শনিবার সকালে বড়শালঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম ঝারু ও ইউনুছ মাস্টারের গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

উক্ত নির্বাচনে ইউনুছ মাষ্টারের সমর্থক প্রার্থীরা ছিলেন মোঃ ইউনুছ চৌধূরী (ব্যালট নং-১), মোঃ নুরুল ইসলাম(নজরুল) (ব্যালট নং-৫), মোঃ বাবুল মিয়া (ব্যালট নং-৬), দেওয়ান মোঃ হুমায়ুন কবির (ব্যালট নং-৮) ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে কুহিনূর আক্তার (ব্যালট নং-১) সহ ৫জন।

অপর দিকে জহিরুল ইসলাম ঝারু চেয়ারম্যানের সমর্থক মোঃ ইকবাল হোসেন (ব্যালট নং-২), মোঃ ইসমাইল হোসেন (ব্যালট নং-৩), দেওয়ান মোঃ জসীম উদ্দিন (ব্যালট নং-৪), মোঃ মাস্তফা কামাল চৌধূরী (ব্যালট নং-৭) ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে লিপি আক্তার (ব্যালট নং- ২)সহ ৫জন। এবং ২ পক্ষে মোট ১০ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।

হামলার সময় সৈয়দপুর (শালঘর) বাজারে জহিরুল ইসলাম ঝারু চেয়ারম্যানের সমর্থকরা ইউনুছ মাষ্টারের সমর্থক জানু চেয়ারম্যানের দোকানসহ দু’টি দোকান সম্পূর্ণ ভাংচুর করাসহ আরো বেশ কয়েকটি দোকানের সাটার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ও একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর করার সংবাদ পাওয়া গেছে। অপরদিকে ইুনুছ মাষ্টারের সমর্থকরা জহিরুল ইসলাম ঝারু চেয়ারম্যানের সমর্থক স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগ’র সভাপতি মোঃ মুনসুরুল ইসলামের বাড়ির দু’টি ঘর ও তার মামা মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন’র দুটি ঘর কুপিয়ে ভাংচুর করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই হামলার ঘটনা চলাকালে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণভয়ে ভোটারসহ গ্রামবাসী, পথিক, দর্শকরা দ্বিগবিদ্বিক ছোটা-ছোটি করতে দেখা যায়। সংঘর্ষ চলাকালে জেলা সদর থেকে আসা এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালনে ঢুকতে দেয়া হয়নি বলেও সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন।

সংঘর্ষ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলেও তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে থানায় চলে আসেন বলে জানান এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে দু’রাউন্ড গুলিবর্ষন করার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গুলির আঘাতে কেহ আহত হয়নি, দুটি দোকান ভাংচুর এবং ২/৩জন আহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি তবে দেখিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে। তবে হামলা, ভাংচুর এবং আহত হওয়ার ঘটনায় কেহ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে মামলা দায়ের করা হবে।

স্থানীয়রা ও প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, বড়শালঘর ইউএমএ উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে ভোট কেন্দ্রে উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সকালে সৈয়দপুর বাজারে ইউনুছ মাষ্টারের একজন সমর্থক মোটর সাইকেল আরোহীর উপর হামলা ও মোটর সাইকেল ভাংচুরের ঘটনায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে জহিরুল ইসলাম জারু (চেয়ারম্যান)’র লোকজন সৈয়দপুর বাজারে ইউনুছ মাস্টার গ্রুপের এক সমর্থকের উপর হামলা, ২টি দোকান ও ১টি মটরসাইকেল ভাংচুর করে।

ওই সময় দু-গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, এতে ইউনুছ মাস্টার গ্রুপের অবসরপ্রাপ্ত মান্নান পুলিশ, সাব্বির হোসেন, এনামুল, আঃ মতিন ও সিরাজুল ইসলাম গুরুত্বর আহত হয়।  এদিকে জহিরুল ইসলাম জারু (চেয়ারম্যান)’র গ্রুপের সমর্থকরা জানান, ইউনুছ মাস্টারের সমর্থকরা জারু চেয়ারম্যানের দুই সমর্থক হাজী মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মুনসুরুল ইসলামের বাড়ি ও দোকানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিনভর উভয় গ্রুপের মাঝে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ঘটনার সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়েন। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন স্থগিত করা হয়। দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার উল হালিম, দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শেখ মো: সেলিম ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ হামলা, সংঘর্ষ, ভাংচুর ও আহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত কোন পক্ষই দেবীদ্বার থানায় অভিযোগ কিংবা মামলা দায়ের করেননি। থানায় অভিযোগ করলে মামলার পক্রিয়া শুরু হবে বলেও দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মিজানুর রহমান জানিয়েছেন।