গাজীপুর প্রতিনিধি: গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় ট্রেনের ধাক্কায় প্রাইভেট কারের পাঁচ আরোহী নিহত হওয়ায় ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

কালিয়াকৈর উপজেলার গোয়ালবাথান গ্রামে গতকাল রবিবার সকালে ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিহত হন। ঘটনা তদন্তে গতকালই চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে রেলওয়ের পাকশী বিভাগ। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক অসীম কুমার তালুকদার এই তথ্য জানান।

অসীম কুমার তালুকদার বলেন, পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী ২ মো. আসাদুল হককে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে ১৩ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে। গতকালের দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন গোয়ালবাথান এলাকার ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের স্ত্রী সুনিয়া আক্তার তাহমিদা (৩০) ও তার ছেলে তৌসিন আহমদ তালহা (৬), শফিকুলের চাচাতো ভাই রিপন হোসেনের স্ত্রী লাকী আক্তার (৩০) ও তার মেয়ে রিভা আক্তার (৫) এবং প্রাইভেট কারের চালক মিনহাজ উদ্দিন (৪৫)।

নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়ি থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দূরে একটি স্কুলের নার্সারি শ্রেণিতে পড়ত শফিকুল ইসলামের ছেলে তৌসিন। একই স্কুলের প্লে শ্রেণিতে পড়ত তার (শফিকুল) ভাইয়ের মেয়ে রিভা আক্তার। গতকাল সকালে তাদের দুজনের মা সুনিয়া আক্তার তাহমিদা ও লাকী আক্তার ছেলেমেয়েদের নিয়ে প্রাইভেট কারে স্কুলে যাচ্ছিলেন। বাড়ি থেকে অল্প কিছু দূরেই জয়দেবপুর-রাজশাহী রেললাইনের অরক্ষিত ক্রসিং।

গাড়িটি ক্রসিংয়ে উঠে গেলে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ভারতের কলকাতাগামী ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস গাড়িটিকে ধাক্কা দেয়। প্রাইভেট কারটি ট্রেনের সঙ্গে আটকে যায়। গাড়িটিকে টানতে টানতে নিয়ে যেতে থাকে ট্রেনটি। প্রায় এক কিলোমিটার যাওয়ার পর ভোঙ্গাবাড়ী এলাকায় ঘাটাখালী নদীর সেতুর ওপর উঠে যায় ট্রেন। গাড়িটি সেতুর ওপর থেকে নিচে পড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। নদীর ওই অংশে কোনো পানি ছিল না। আরও প্রায় দুই কিলোমিটার যাওয়ার পর পেছনের দিকের কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ট্রেনটি থেমে যায়। ট্রেনটি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।