গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দাদন ব্যবসায়ীরা। দিন দিন সুদের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিলাঞ্চলের দরিদ্র কৃষকরা স্থানীয় সুদখোর দাদন ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।


কাশিয়ানী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নেই কৃষি ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। মান্ধাতা আমলের চাষাবাদের জায়গায় স্থান করে নিয়েছে যান্ত্রিক চাষাবাদ পদ্ধতি। বেড়েছে বোরো ফসলের আবাদ। বোরো আবাদে পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োজন হয়।


এছাড়া সেচ, সার ও কীটনাশকসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এ বাড়তি খরচ জোগানোর জন্য সুদখোর মহাজনদের ওপর নির্ভর করতে হয় দরিদ্র কৃষকদের। বোরো মৌসুমের শুরুতে এ অঞ্চলের অভাবী কৃষকদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগে উচ্চ সুদে নানা শর্তে টাকা দিচ্ছে সুদখোর মহাজনরা।


দরিদ্র কৃষকদের ২/৩ মাসের জন্য ৫০ ভাগ লাভে টাকা ধার দেয়। আবার অনেক সুদখোর মহাজন এক হাজার টাকা ধার দিয়ে ২ মাস পরে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা আদায় করে থাকেন। আবার অনেক মহাজনরা কৃষকদের কৃষি উপকরণ দিয়ে থাকে। এদের নিয়ম হলো ডিজের সার, তেল, কীটনাশক কৃষকের নিকট বাকীতে বিক্রি করে। ধান কাটার পরে  বাজার মূল্যের চেয়ে দ্বিগুন মূল্য পরিশোধ করতে হয়।

মৌসুম শেষে কৃষকদের কষ্টে অর্জিত ফসলের অধিকাংশ চলে যায় মহাজনদের গোলায়। এমনকি মহাজনদের টাকা পরিশোধ করতে কৃষকের উৎপাদিত ধান অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করে দিতে হয়।


উপজেলার সীতারামপুর গ্রামের হাসমত সরদার জানান, ব্যাংক ঋণ পেতে নানা ধরণের ঝামেলা পোহাতে হয়। আর তাই ঝামেলা এড়াতে আমি গ্রামের এক মহাজনদের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে বোরো ধান চাষ করছি।


গতকাল সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এ সুদে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে। বোরো মৌসুমকে ঘিরে ফাঁদ পেতে বসেছেন তারা। এ অঞ্চলের কৃষকেরা ফসল উৎপাদনে প্রতি বছর কমবেশি প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকে। তবুও মৌসুম শেষে সুদখোর মহাজনদের টাকা পরিশোধ করে দিতে হয়। ভিটেবাড়ি, গরু-ছাগল, ঘরের আসবাবপত্র, বিক্রি করে প্রদত্ত টাকা পরিশোধ করে সর্বশ্বান্ত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। অনেকে এলাকার প্রভাবশালী সুদখোরদের ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।