ঢাকা: নাট্যের ভাষায় বাস্তব ঘেঁষা চিত্রপটকে ইমাজিনেশন এবং বাস্তব উত্তীর্ণ চিত্রপটকে বলা হয় ফ্যান্টাসি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন বাংলার স্বপ্নকে তখন অনেকেই ফ্যান্টাসি হিসেবে নিয়েছিলেন।

যা কালক্রমে তাঁদের মানতে বাধ্য করেছিল যে জাতির পিতার স্বপ্ন ফ্যান্টাসি ছিল না। তখন এই ভাবনার কাতারে বহির্বিশ্বের রথীমহারথীরা ছাড়াও ছিলেন এদেশের অনেকে অসাধারণ পণ্ডিতগণরাও!

সে সময় বিশ্ব দেখেছিল বাংলার স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে গলা টিপে হত্যার উদ্দেশ্যে বঙ্গবন্ধুকে কতবার কারাবরণ করতে হয়েছিল। তবে বাংলা এবং বাঙ্গালীর দূর্বার আকাঙ্ক্ষাকে যে কেউ দাবায়া রাখতে পারে না, সেই প্রমাণ দিয়েছেন স্বয়ং বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর যূথবদ্ধ বাঙ্গালী নিজেই।

মূলত বাঙ্গালীদের পথভ্রষ্ট করার তাগিদেই ছিল সেই পরিকল্পনাগুলি। তবে নির্বোধেরে হয়তো বঙ্গবন্ধুর ৭'ই মার্চের ভাষণকে ঠিক করে তাদের কর্ণগুহরে নিতে পারেননি । নিলে বুঝতেন সেই ভাষণেই ছিল সমগ্র বাঙ্গালীদের প্রতি সর্বোচ্চ দিক নির্দেশনা। যা বাঙ্গালী বুঝতে পেরেই তাদের লুট হতে যাওয়া স্বাধীনতাকেও ছিনিয়ে এনেছিল হায়েনাদের কবল থেকে।

বঙ্গবন্ধু তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করেছিলেন অত্যাচারের নিগড়ে ঠাঁসা কারা প্রকোস্টে। তবে আমৃত্যু বাংলা এবং বাঙ্গালীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বেদনাতুর বঙ্গবন্ধু কখনো থেমে থাকেননি। এ প্রসঙ্গে ছোট্ট একটি মুহূর্ত তুলে ধরছি। বঙ্গবন্ধু ৭১'এর ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর ৮'ই জানুয়ারি পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন-ভারত হয়ে দেশে ফিরে আসেন ১০'ই জানুয়ারি।

বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী বিমান অবতরণের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে তিনি পাইলটকে বলেছিলেন আরো কিছুক্ষণ বাংলার আকাশে থাকতে এবং উপর থেকে তিনি যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলার চিত্রপট দেখেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলার চিত্র দেখে তখন কেঁদে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু।

লৌহমানবের চোখে জল দেখে তখন জানতে চাওয়া হয়েছিল, তিনি কাঁদছেন কেন ? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, আমার এই বিধ্বস্ত দেশের মানুষগুলিকে আমি খাওয়াবো কি , পরাবো কি ? সদ্য কারাগার থেকে মুক্ত বঙ্গবন্ধুকে বহনকারী পাইলট নিজেও বিচলিত হয়ে উঠেছিলেন বাংলার দূরাবস্থা দেখে।

তবে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু তাঁর কর্মপরিধি এবং কর্মদক্ষতা দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন বিশ্বকে এবং আশার কথা হল এখন তাঁরই কর্ম স্পৃহাকে অব্যহত রেখে বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে চেনাচ্ছেন তাঁরই তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা। কাল মহাকাল পেরিয়ে স্মৃতি এবং বর্তমানের মানসপটে আঁচড় এঁকে যাবার কারিশমা সর্ব মানবের সক্ষমতার অধীনে রয় না।

কারণ আত্মকেন্দ্রিকতার আফিম সবাই ত্যাগ করতে পারেন না । বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সেই কারিশমাটিক ব্যক্তিত্ব। যিনি তার জীবন-যৌবন সর্বস্বই দিয়েছেন বাঙ্গালীর অস্তিত্বের খাতিরে। আজ সেই ১০'ই জানুয়ারি, যেদিন এই স্বাধীন বাংলার মাটিতে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু নামের মহামানব। ভাব গাম্ভীর্য কিংবা আড়ম্বর যে কায়দায় আজ এই দিনটি পালন করা হোক না কেন, তা যেন বঙ্গবন্ধুর মতই শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলার আরেকবার শপথের দিন হয় সেই প্রত্যাশায় আমাদের অপেক্ষা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।

হায়দার মোহাম্মাদ জিতু,
সাংগঠনিক সম্পাদক,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ,
কা বিশ্ববিদ্যালয়

(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ নিউজ আওয়ার-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)