banglanewspaper

জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধিঃ সোমবার মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে প্রায় ১৫ বছর পর পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তণ করে ইন্দুরকানী নামে উপজেলা নাম করণ করায় বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ২০০২ সালের ২১ এপ্রিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ইন্দুরকানী থানাকে জিয়ানগর নামে উপজেলা করে। এর আগে ১৯৮০ সালে এ থানাটিকে পূর্ণাঙ্গ থানা করার ৪ বছর পর ১৯৮৪ সালে তৎকালীন এরশাদ সরকার এ থানার কার্যক্রম স্থগিত করে পিরোজপুর সদরের সাথে যুক্ত করে দেয়। তখন এটি ছিল শুধু পুলিশী থানা। পরে ১৮ বছর পর ২০০২ সালে এ থানাকে উপজেলা করলে এর কার্যক্রম শুরু হয়। 

২০০৯ সালে অওয়ামীলীগ সরকার গঠন করার পর স্থানীয় আ’লীগ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের নামে উপজেলা কোন ক্রমেই মেনে নিতে রাজী ছিল না। তারা কাগজে জিয়ানগর লিখলেও বক্তব্যে ও আ’লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ইন্দুরকানী বলে আসছেন। জিয়ানগর নাম থাকায় এ এলাকার উন্নয়ন অনেকটা পিছনে। উপজেলা সদরের ১টি কলেজ ও ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আজও সরকারি হয়নি। তেমনি ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পূর্ণাঙ্গভাবে আজও চালু হয়নি। এ এলাকার সংসদ সদস্য  পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু উপজেলার বিভিন্ন সবায় বলেছেন জিয়ানগর নাম থাকার কারণে উন্নয়ন হচ্ছে না এবং এ নাম পরিবর্তণের জন্য চেষ্টা চলছে। এলাকার উন্নয়নের জন্য নাম পরিবর্তণ করা হয়েছে। 

উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এ্যাড. এম. মতিউর রহমান জানান, এলাকার উন্নয়নের জন্য পুরাতন নামে ইন্দুরকানী করায় এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমরা সরকারকে জন্যবাদ জানাই।

এবিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আঃ লতিফ হাওলাদার জানান, সরকার রাজনৈকিত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য জিয়ানগরের নাম পরিবর্তণ করেছে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আঃ রাজ্জাক জানান, জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তণ এটি সরকারের একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। এ সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতে পারি না। আমরা এর প্রতিবাদ করব।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ বেলায়েত হোসেন হাওলাদার জানান, উন্নয়নের স্বার্থে এ উপজেলার নাম পরিবর্তণ করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেন জানান, জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তণ করে জিয়াউর রহমানের নাম মানুষের হৃদয় থেকে মোছা সম্ভব নয়। জিয়ানগরের উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ভাবে জিয়াউর রহমান জড়িত আছে।

জিয়ানগর উপজেলা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক মোঃ ইকরামুল কবির মজনু বলেন, যেভাবে হোক আমাদের উপজেলা দরকার ছিল। নাম পরিবর্তণ সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।
 

ট্যাগ: