এস এইচ টিটু: হবিগঞ্জের বাহুবলের ১০ চা বাগানে কর্মরত চা-কন্যাদের হাসপাতালে যাতায়াতের জন্য ভ্যানগাড়ি দিলেন সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য কেয়া চৌধুরী। 

সোমবার বাগান কর্তৃপক্ষের হাতে ভ্যানগাড়িগুলো তোলে দেয়ার সময় তিনি বলেন, দেশে মাতৃ মৃত্যুর হার কমাতে শেখ হাসিনা সরকার কাজ করছে। এতে মাতৃ মৃত্যুর হার অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। কিন্তু বাহুবল উপজেলার পাহাড়ি টিলা আর ঢালু-উচুঁস্থানে গড়ে উঠা চা-বাগানগুলোতে সচেতনতার অভাব রয়েছে।

এ কারণে অনেক মা অকালে মারা যাচ্ছেন। বিষয়টি আমার নজরে এলে আমি এ নিয়ে কাজ শুরু করি। ইতোমধ্যে বাগানে বাগানে বিনামূল্যে সরকারি ঔষধ পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করেছি। বাগানের মেহনতি শ্রমিকদের জীবনযাত্রায় আরও গতি বাড়াতে আমি উন্নয়নমূলক বরাদ্দ দিচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির জন্য স্থাপন করে দিয়েছি গভীর নলকূপ। এরই ধারাবাহিকতায় আমি বাগানে বাগানে ভ্যানগাড়ি বিতরণ করছি। 

কোন গর্ভবতী নারী অসুস্থ হলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসালয়ে নিয়ে যেতে এ গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন শ্রমিকরা। এছাড়া প্রয়োজনে এসব মা-দেরকে এ গাড়ি করে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর পথ সহজ হলো। তিনি আরো বলেন, জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের উপহার হিসেবে এসব ভ্যানগাড়ি শ্রমিকদের হাতে তোলে দিলাম। গাড়িগুলো পেয়ে আনন্দ উল্লাস করেছে বাগানবাসী, যা দেখে আমার মনটা ভরে গেছে। তারা মনে করেন কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে, তাৎক্ষণিক এ গাড়ি দিয়ে দ্রুত চিকিৎসালয়ে নিয়ে যেতে সহায়ক হবে।

এমপি কেয়া চৌধুরী আরো বলেন, বাগানে সব সময় গাড়ি পাওয়া যায় না। তাই গর্ভবতী মা ও শ্রমিকরা কেউ অসুস্থ হলে এ ভ্যানগাড়ি কাজে আসবে। তিনি বলেন- বাগানের শ্রমিকরা পরিশ্রমী। তাদের জীবনযাত্রায় আরও অগ্রগতি নিয়ে আসতে বর্তমান সরকারের হয়ে আমি কাজ করছি। তিনি বলেন,  মাতৃ মৃত্যু কমাতে এ পর্যন্ত ৯টি ভ্যানগাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বিতরণ করা হবে। চিন্তার কোন কারণ নেই। কোন মাকে বিনা চিকিৎসায় মরতে দেয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, শুধু তাই নয়, শ্রমিকদের জন্য বাহুবল হাসপাতালে একটি এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসেছি।

এসব গাড়ি বিতরণকালে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, বাগান কর্তৃপক্ষ, আওয়ামীলী পরিবারের নেতাকর্মী, শত শত শ্রমিকসহ তৃণমূলের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

আলাপকালে শ্রমিকরা বলেন, এমপি কেয়া চৌধুরী আমাদের পাশে রয়েছেন। তার মতো আমাদের খোঁজ-খবর আর তেমন কেউ নেয় না। তাই আমরা কেয়া চৌধুরীকে ভালবাসি। ওনার বাবা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরী আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি আমাদের ছাড়াও তৃণমূলের উন্নয়নে কাজ করছেন।