banglanewspaper

লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥ উত্তরের হিমালয় থেকে নেমে আসা ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে লালমনিরহাটের মানুষের জনজীবন। প্রচন্ড ঠান্ডায় কৃষক, শ্রমজী্িব মানুষ ঘর হতে বাইরে যেতে পারছেন না। অনেকে টাকার অভাবে কিনতে পারছেন না শীতবস্ত্র। গরম কাপড়ের অভাবে পুরনো কাপড় আগুনে গরম করে শীত নিবারণ করছে। শীতার্তরা তাকিয়ে আছেন সরকারী অথবা বেসরকারী সাহায্য সহযোগিতার দিকে। সরকারীভাবে কিছু ত্রান সহায়তা হিসেবে কম্বল দেয়া হলেও তা ছিল খুবই অপ্রতুল।


সরেজমিনে তিস্তা ও ধরলা নদীর চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা গেছে, ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষের জীবন। চরম বিপাকে রয়েছেন শ্রমজীবি, ছিন্নমুল ও তিস্তা-ধরলা পাড়ের হাজার হাজার হতদরিদ্র মানুষ। বিশেষ করে চরম বিপাকে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। কনকনে ঠান্ডায় শ্রমজীবি, ছিন্নমুল মানুষের পাশাপাশি সীমাহীন কষ্টে রয়েছেন চরাঞ্চলের হাজার হাজার হত দরিদ্র মানুষ। ঠান্ডা নিবারনে শীতবন্ত্র নেই তাদের। প্রচন্ড শীতের ঠান্ডায় থরথর করে কাঁপছেন তারা। আগুনে শরীর গরম করে অনেকে কাজে বের হচ্ছেন। প্রচন্ড শীতে দিশেহারা এসব মানুষ। শীতবস্ত্র কেনার সামর্থ্যহীন এসব শীতার্ত মানুষ তাকিয়ে থাকেন সরকারী অথবা বেসরকারী সাহায্য সহযোগিতার উপর। কিন্তু যেটুকু শীতবস্ত্র মিলেছে তা খুবই অপ্রতুল। অনেকের ভাগ্যে এখনো মিলেনি একটুকরো শীতবস্ত্র।


তিস্তা নদী বেষ্টিত সদর উপজেলার কালমাটি গ্রামের ওয়াজেদ আলী, মহুবার রহমান, হাজেরা বেগম জানালেন, প্রচন্ড ঘন কুয়াশা আর কনকনে হিমেল বাতাসের কারনে তারা ঘর হতে বের হয়ে কাজে যেতে পারছেন না। শীত নিবারনের জন্য ঘরে গরম কাপড় না থাকায় তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বাজারে গরম কাপড়ের খোলা দোকানে দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারছেননা তারা চাহিদা মতো শীত নিবারনের কাপড়। ফলে নদী তীরবর্তি এলাকায় অনেকেই খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারন করছেন। কালমটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী শাপলা আক্তার জানান, শীতের কারণে সময়মতো বিদ্যালয়ে যেতে পারছেন তাদের বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী। তাই তাদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।


এদিকে গত এক সপ্তাহে শীত সহ্য করতে না পেরে সদর উপজেলার কালমাটি মাষ্টারপাড়া গ্রামের পঁচা মাহমুদ(৭০) কোল্ড স্ট্রোকে মৃত্যু বরন করেন তাছাড়া শীত নিবারনে আগুন পোয়াতে গিয়ে দগ্ধ হয়ে মোগলহাট ইউনিয়নের জারী ধরলা গ্রামের অমিতন বেওয়া (৬৫),কালিগঞ্জ উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের শিয়ালখোয়া গ্রামের তরনী কান্ত (৬৩) মারা যান। অপরদিকে আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের খারুভাঁজ গ্রামে আগুন তাপাতে গিয়ে শিশু আর্জিনা আক্তারের (১০) পরনের কাপড়ে আগুন লেগে শরীরের পঞ্চাশ শতাংশ পুড়ে যায়। প্রচন্ড শীতের কারণে শীত জনিত নানা রোগ দেখা দিচ্ছে। ফলে গ্রামাঞ্চলের অনেক শিশুই সর্দি, কাশি জ্বরসহ শীতজনিত নানা রোগে ভূগছে বলেও জানা গেছে।

আগামী কয়েকদিনে লালমনিরহাটে শীতের তীব্রতা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। 

জেলা ত্রাণ ও পূর্ণবাসন অফিসার একেএম ইদ্রিস আলী জানান, শীতার্ত মানুষের পাশে রয়েছে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন। জেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার শীতার্ত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ২৫হাজার ৭শ’এক পিচ কম্বল বিতরন করা হয়েছে। তাছাড়াও বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান শীতার্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসছে। তবে আরো বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে।
 

ট্যাগ: