banglanewspaper

হুমায়ুন কবির: কুষ্টিয়া জেলা উন্নয়ন মেলায় ‘এসডিজি বাস্তবায়নে সমস্যা ও সম্ভাবনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিকল্পনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কালেক্টরেট চত্বরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন অর রশীদ আসকারী।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হেনা মুস্তাফা কামালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মুন্সী মো. মনিরুজ্জামান, কুষ্টিয়া সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো: সফিকুল হক খান, পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড. অনুপ কুমার নন্দী, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস এম ছায়েদুর রহমান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ ওহিদুল ইসলাম এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সোহরাব আলী।

এসময় টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে দেশ। উন্নয়ন কর্মকান্ডের গতি বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ২০৩০ সালের আগেই উন্নত দেশের মর্যাদা লাভ করবে বাংলাদেশ। আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির ঘরে পৌঁছাবে অর্থনীতি, যদিও পঞ্চবার্ষিকীতে সরকারের লক্ষ  মাত্রা ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। পাশাপাশি দারিদ্র্যর হার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হবে দেশ।

টেকসই উন্নয়নের জন্য আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ৭ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করার লক্ষে  নির্ধারণ করেছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের ঠিক করে দেয়া ১৭টি লক্ষে  নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই উন্নয়ন অভিযাত্রাকে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষে  (এসডিজি) হিসেবে অভিহিত করছে জাতিসংঘ। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এসডিজি অর্জনে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নেতৃত্বে ৪৯টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এই লক্ষমাত্রা অর্জনে কাজ করছে।

সব কর্মকান্ডের সমন্বয় ও তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে। সভাপতির বক্তব্যে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হেনা মুস্তাফা কামাল বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে উন্নয়ন মেলা করা হচ্ছে। মেলায় সরকারি সেবাসমূহের তথ্যচিত্র পদর্শন করা হচ্ছে। এতে করে মানুষ তাদের অধিকার সম্পর্কে আরো বেশি সচেতন হবে। কোন অঞ্চলে কী উৎপাদন হয় তার ভিত্তিতে কিভাবে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা যায় তা নিয়ে ভাবছে বর্তমান শেখ হাসিনার সরকার।

উন্নয়নের কথা ভাবুন দেখবেন আপনা আপনিই উন্নয়ন ঘটবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ব্যাপক প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হচ্ছে। ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে, জনগণ সেখান থেকে সেবা পাচ্ছে। আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তাহলে দেশ আরো দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। সুখী সুখী বোধ করুন। দেখবেন ভালো লাগবে। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঙ্গীত পরিবেশন করে লালন একাডেমীর সদস্যরা।

এদিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব দিলীপ কুমার বনিক কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী জেলা উন্নয়ন মেলার কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), মোঃ মুজিব-উল-ফেরদৌস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হেনা মুস্তাফা কামালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে জেলা উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে উন্মুক্ত "কুইজ প্রতিযোগিতা" অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীসহ মেলায় আগত ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহন করেন।অপরদিকে "জেলা উন্নয়ন মেলা ২০১৭" কুষ্টিয়ার স্টল হতে সরাসরি খতিয়ান/পর্চার কপি নাগরিকদের হাতে হাতে সরবরাহ করা হয় এবং উন্নয়ন মেলা থেকেই সরাসরি এল এ চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মো. জহির রায়হান।