নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন শাকিব ২৫ মাস ধরে বিনা অনুমতিতে পরিষদের কার্যক্রমে অনুপস্থিত রয়েছেন।এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্ত শুরু করলেও তদন্তে ধীরগতি সংশ্লিষ্টদের হতাশ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী) ৪র্থ বারের মতো তদন্তের তারিখেও তদন্ত হয় নাই।

সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া বলেন, একে একে ৪টি তারিখে আমি ও গন্যমান্য লোকজন প্রমাণাদি নিয়ে ইউএনও অফিসে হাজির হলেও স্থানীয় সরকারের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক উপস্থিত হননি। বিষয়টি হতাশাজনক।সূত্র জানায়, বিগত ২০১৪ সনের ২৫ নভেম্বর থেকে বিনা অনুমতিতে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন শাকিব পরিষদের সকল কার্যক্রমে অনুপস্থিত রয়েছেন।

তার এ দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে স্থানীয় জনগণ ভোগান্তিতে আছেন। এ ব্যাপারে বিগত ২০১৫ সনের ২৬ অক্টোবর সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া। এ প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ তদন্তে নামে। বিগত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় বিষয়টি আলোচনায় আসে।

ভাইস চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন শাকিবের অনুমতিবিহীন দীর্ঘ অনুপস্থিতির বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত হয় সভায়। উল্লেখ্য, ভাইস চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন শাকিব বিগত ২০১৪ সনের ১৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত হওয়ার পর কিছুদিন পরিষদে দায়িত্ব পালন করেন। ওই বছরের শেষ দিকে তিনি আমেরিকা গমন করেন।

খোজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ওই বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময়কালের জন্য যথা নিয়মে ছুটি নিয়েছেন। ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি আর দেশে ফিরেননি। এদিকে, বিগত ৫ ডিসেম্বর সিলেটের স্থানীয় সরকার বিভাগ ১৮ ডিসেম্বর এ ব্যাপারে তদন্তের তারিখ নির্ধারণ করে পত্র প্রেরণ করে। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক পরিচালক মোঃ মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত পত্রে তারিখ পরিবর্তন করে ২০ ডিসেম্বর তদন্তের তারিখ পরিবর্তন করা হয়।

২৯ ডিসেম্বর অপর এক পত্রে ৩ জানুয়ারি দুপুর ১২টায় বাহুবল উপজেলা পরিষদ কার্যলয়ে তদন্তের তারিখ পূনঃনির্ধারণ করা হয়। ৮ জানুয়ারি অপর এক পত্রে ১০ জানুয়ারি তারিখ পূনঃনির্ধারণ করা হয়। নির্ধারিত তারিখ মঙ্গলবার সকালে অভিযোগকারী সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া সহ অন্যান্যরা উপজেলা পরিষদে হাজির হলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা আবারও উপস্থিত না থাকায় তদন্ত হয়নি।

এ নিয়ে অভিযোগকারীসহ এলাকার লোকজন  হতাশায় আছেন। এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম মঙ্গলবার দুপুরে বলেন, বিভাগীয় কমিশনার অসুস্থতার কারণে আসতে পারেননি তাই এ তারিখেও তদন্ত হচ্ছেনা। পরবর্তী তারিখ পরে জানানো হবে।