আমিনুল ইসলাম (হিমেল) মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি: মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের দুর্ণীতি-অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে পড়েছে। এত দুর্ণীতির লাগাম টেনে ধরার যেন কেউ নেই। কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাছে সাধারণ রোগীরা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। সদ্য চালু হওয়া হাসপাতালের ডায়ালাইসিস বিভাগে চিকিত্সা সেবা নিতে আসা রোগীরা হাসপাতালের সিনিয়র ষ্টাফ নার্স সুমন দেব ও কিনার রাকিব এর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন মর্মে গুরুতরো অভিযোগ উঠেছে।


আলোচ্য ষ্টাফদ্বয়ের দাবীকৃত ঘুষের টাকা না দিলে এ বিভাগে কোন রোগী চিকিত্সা সেবা পাওয়া সম্বব হয়না। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার জানানো হলেও অজ্ঞাত কারনে দুর্ণীতিবাজদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ একাধিক ভুক্তভোগীদের।


জানা গেছে-গত ৭ জানুয়ারী ডাযালাইসিস বিভাগে চিকিত্সা সেবা নিতে আসা রাজনগর উপজেলার কাটাজুরী গ্রামের আব্দুল হাই নামে এক রোগী ডাযালাইসিস করতে চাইলে তার কাছে বড় অংকের টাকা দাবী করে সিনিয়র ষ্টাফ নার্স সুমন দেব ও কিনার রাকিব। প্রথমে টাকা দিতে অস্বীকার করলে শুন্য হাতেই ফিরে যেতে হয় তাদের। পরবর্তীতে তাদের ২জনকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান প্রদানের মাধ্যমে ডাযালাইসিস করান। হাসপাতালের কয়েকজন ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর কর্মকর্তা- কর্মচারী বিভিন্ন ডায়ানষ্টিক সেন্টার, কিনিক, ফার্মেসী এবং এ্যাম্বুলেন্স ব্যবসার সাথে জড়িত। এবং প্যাথলজি, রেডিওলজি বিভাগের কর্মরতরা বিভিন্ন ডাযাগনষ্টিক সেন্টারের সাথে জড়িত। ফলে জেলা সদরে চিকিত্সা নিতে আসা অনেক অসহায় রোগীরা বাহির থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিয়ে আসতে হয়। তাছাড়া হাসপাতালের ভিতর থেকে গ্রাম-গঞ্জে চিকিত্সা সেবাদানকারী পল্লী চিকিত্সকদের কাছে সরকারী একাধিক ঔষধ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতাল এলাকায় নিজেরাই এককভাবে ব্যবসা চালিয়ে নিতে তত্পর থাকে সারাক্ষন। নিজেদের বেতনের কয়েকগুন অবৈধভাবে কামাই করে নিচ্ছে সিনিয়র ষ্টাফ নার্স সুমন দেব ও কিনার রাকিব।


এদিকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিস্ট হাসপাতালের আরএমও পলাশ দেব রায় জানান-জসদ্য চালু হওয়া ডাযালাইসিস বিভাগে মোট ১০টা মেশিন রয়েছে। ২০ হাজার টাকার প্যাকেজ ৬ মাসে (২৪ সপ্তাহে) ২টা করে ডাযালাইসিস করা হয়ে থাকে। এখানে কেউ টাকা নেওয়ার সুযোগ নাই। কেউ টাকা নিলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে এ প্রতিবেদককে নিজের অসহায়ত্বের কতা স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে স্থানীয় কিছু লোকজনের সহায়তার কারনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্বব হয়না।