এস. এম. মনিরুজ্জামান মিলন, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার হাটগুলোর মধ্যে আয়তনের দিক থেকে শীর্ষস্থানীয় নেকমরদ হাট। প্রায় ৭ একর জায়গার উপর নির্মিত হয় হাটটি। এবার ঐতিহ্যবাহী নেকমরদ হাটে গরু, ছাগল, সাইকেলসহ প্রতিটি পণ্যে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। অমান্য করা হচ্ছে সরকারি নীতিমালা। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ক্রেতা-বিক্রেতাগণের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত পরিমাণ টোল। জনসাধারনের পকেট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা কেড়ে নিচ্ছেন হাট ইজারাদাররা।

রাণীশংকৈল উপজেলার ২৫ টি হাট ১ বছর মেয়াদে ইজারা দেওয়ার জন্য গতবছর ১৭ ফেব্রুয়ারী দরপত্র আহবান করা হয়। ঐ সময় হাট-বাজার মূল্যায়ন কমিটি নেকমরদ হাটটি ৯০ লাখ ১৫ হাজার টাকায় ইজারাদার সিডিউল ড্রপ করে। অথচ আগের বছর ১ কোটি ১১ লাখ ১১ হাজার ১১১ টাকায় হাট বন্দোবস্ত হয়। হাট-বাজার মূল্যায়ন কমিটির যোগসাজশে সরকার প্রায় ২১ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়।

নামমাত্র সিডিউল জমার মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠে হাট বাজার মূল্যায়ন কমিটির বিরুদ্ধে। এতে করে ইজারাদারের কাছে নেকমরদ হাট বন্দোবস্তে জটিলতা আসে। কিন্তু আগের বছরের তুলনায় কম দরে টেন্ডার ড্রপ হওয়ার ফলে রি-টেন্ডার না করে অজ্ঞাতভাবে বিভিন্ন দপ্তর ম্যানেজ হওয়ায় ইজারাদারের কাছে হাট হস্তান্তর হয়ে যায়।

সরেজমিনে নেকমরদ হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাটের কোথাও মূল্য তালিকা টাঙ্গানো হয়নি। বিক্রিত প্রতিটি গরুর বেলায় ১৮০ টাকার স্থলে ২২০ টাকা, প্রতিটি ছাগলে ৮০ টাকার স্থলে ১২০ টাকা, প্রতিটি সাইকেলে ১০০ টাকার স্থলে ২৫০ টাকা বাধ্যতামূলক টোল আদায় করা হচ্ছে। সরকারি নিয়ম নীতি অমান্য করে বেপরোয়াভাবে টোল আদায় করা হচ্ছে। প্রতিটি পণ্যে ৪০-২০০ টাকা অতিরিক্ত টোল আদায় করা হচ্ছে। লোকচক্ষুর আড়ালে অতিরিক্ত টোল আদায়ের মাধ্যমে জনসাধারণের পকেট থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইজারাদাররা।

অতিরিক্ত টোল আদায়ের ব্যাপারে হাট ইজারাদার তোজামউদ্দিন বলেন, সরকারের লোকজনকে টাকা দিতে হয়, হাটের ভাড়াসহ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকমের চাঁদা দিতে হয়, এজন্য বাধ্য হয়েই নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মোঃ নাহিদ হাসান অতিরিক্ত টোল আদায়ের ব্যাপারে বলেন, বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে প্রথম শুনলাম। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।