banglanewspaper

শহর কলকাতার বুকে ঔপনিবেশিক শাসনের স্মৃতিবহন করছে এই প্রাসাদপ্রমোদ অট্টালিকা RajBhawan। একেবারে গভর্নর জেনারেলের সরকারি বাসভবন থেকে কালের বিবর্তনে সেটিই আজকের রাজভবন৷ দেখে নেওয়া যাক এই ভবনের কিছু তথ্য৷
১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন গভর্ণর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলির আমলে নির্মাণ শুরু হয়েছিল এই ভবনটির। ১৮০৩ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ২৭ জানুয়ারি(মতান্তরে ২৬ জানুয়ারি) এক বর্ণাঢ্য বল নাচের আসরের মাধ্যমে এটির উদ্বোধন করা হয়। তখন ভবনটির নাম দেওয়া হলো ‘ Government House’৷

তখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসিত ভারতের প্রধান শাসক গভর্ণর জেনারেলের সরকারি বাসগৃহ ছিল এটি।
ঘর-বারান্দা মিলে ভবনটির পরিমাপ মোট ৮৪,০০০ হাজার বর্গফুট এবং তখন নির্মাণের ব্যয় হয়েছিল ৬৩,২৯১ পাউন্ড। সমস্ত অর্থই এসেছে এদেশের দরিদ্র মানুষের রক্তজল করা পয়সা থেকে।

এই ভবনের স্থপতির নাম চার্লস ওয়াট( Charles Wyatt)৷দ্য বেঙ্গল ইঞ্জিনিয়ার্স-এর ক্যাপ্টেন চার্লস ওয়াট ডার্বিশায়ারে অবস্থিত লর্ড কার্জনের পিতৃপুরুষের ভিটে কেডলেসটন হলের আদলে এই প্রাসাদের নকশা তৈরি করেন।

১৮৫৮ সালে সিপাই বিদ্রোহের পর কোম্পানি রাজত্বের অবসান ঘটে, শুরু হয় প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ সাম্রাজ্য শাসন, ভবনটিতে ভারতের ভাইসরয়ের বসবাস শুরু হয় এই সময় থেকেই। আলিপুরের বেলভেডিয়ার এস্টেট থেকে তিনি এখানে এসে ওঠেন।

১৯১১ সালে রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত হলে, বাংলা প্রেসিডেন্সির প্রধান শাসক লেফটান্যান্ট গভর্ণর বা ছোটলাট ভবনটির অধিকার নেন।

১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এর নাম পরিবর্তিত করে নতুন নাম হয় ‘রাজভবন’৷ পশ্চিম বঙ্গ প্রদেশের রাজ্যপালের সরকারি নিবাস ও কার্যালয় ।

বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বৈঠক ও অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় এই রাজভবনে। তাছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কলকাতায় এলে রাজভবনে ওঠেন।

ট্যাগ: