banglanewspaper

মো. মোয়াজ্জেম হোসেন: রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায়  ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আইডিয়াল কলেজ বাংলাদেশের একটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে অদ্যাবধি নিরলসভাবে সেবা প্রদান করে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি দেশকে দিয়েছে হাজারো মেধাবী মুখ। মেধাবী শিক্ষার্থী গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক ঝাঁক মেধাবী শিক্ষকের শ্রম ও অনুপ্রেরনায় শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক কার্যক্রমের আয়োজন করে থাকে এই প্রতিষ্ঠানটি। তারই অংশ হিসেবে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় বাৎসরিক শিক্ষা সফর।

এ বছর ২৬ জানুয়ারী থেকে ১লা ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এক দল মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়ে সপ্তাহ ব্যাপী হয়ে গেল বার্ষিক শিক্ষা সফর। এই শিক্ষা সফর যেমন ছাত্র-ছাত্রীদের অনুপ্রাণিত করে মেধাবী হতে তেমনি শিক্ষাকরাও সারা বছরের কর্মব্যস্থতার মাঝে সুযোগ পায় শীতের আমেজে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যকে খুব কাজ থেকে উপভোগের। উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ মহোদয়ের সঙ্গে এবার শিক্ষা সফরে অংশ নিয়েছিলেন শিক্ষকবৃন্দ ও শীর্ষ স্থান লাভ করা কিছু শিক্ষার্থী।

২৬ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দশটায় কলেজ প্রাঙ্গন থেকে দুই বাস যোগে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা দিয়ে শুরু হয় সফরটির। পাহাড়ের কোলঘেষে চলা সাপেরমত আকাঁবাকা বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে পরদিন সকালবেলা বাস পৌঁছায় গন্তব্যে ।বাস থেকে নেমে সকালের নাস্তা সেরে পাহাড়ি রাস্তায় মানিয়ে চলা চাঁদের গাড়িতে আমরা রওয়ানা হলাম রাঙ্গামাটির সাজেক ভ্যালির উদ্দেশ্যে।

যখন পৌঁছালাম তখন মধ্যদুপুর। ফলে রুইলই পাহাড়ের জেগে ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে হয়নি। এই পাহাড়ের পাশ দিয়ে চলে গেছে বাংলাদেশ-ভারত সীনান্ত। পদচারণা না হলেও খুব কাছ থেকে দেখতে পেলাম আমাদের দেশকে তিনদিক দিয়ে ঘিরে থাকা প্রতিবেশি ভারতকে। সাজেক থেকে ফিরে পর্যটন মোটেল রাত্রি যাপন।

sir-raবান্দরবানে উপাধ্যক্ষের সাথে কলেজের শিক্ষকবৃন্দ

পরদিন সকালে রওয়ানা হলাম অপার সৌন্দর্য্যের আরেক লীলাভূমি বান্দরবানের উদ্দেশ্যে। পথ মধ্যে কিছুটা সময় কাটানো হলো কলেজের গভর্নিং বডির সম্মানিত সভাপতি সৈয়দ রেজাউর রহমান স্যারের বাগান বাড়ীতে। বান্দরবান এসে যখন আমাদের বাস পৌঁছাল, তখন সন্ধ্যা। তৎক্ষণাৎ চাঁদের গাড়ীতে উঠে নীলাচলের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম আমরা। সন্ধ্যার পর ঘুমন্ত নীলাচলের সাথে তখন পার্থক্য করলাম আগের দিনের জাগ্রত রুইলইয়ের।

sir-bindoনীলগিরির চূড়ায় অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের সাথে শিক্ষকবৃন্দ

২৯ শে জানুয়ারী ভোর ছয়টায় আবারো চাঁদের গাড়ীতে রওনা হলাম নীলগিরিকে গন্তব্য করে। পৌঁছার পর দেখতে পেলাম সদ্য উকি দেয়া সূর্যের নরম আলোর সাথে কুয়াশার লুকোচুরি। মনে হল নীলগিরি পরেছে কুয়াশার শ্বেত চাদর আর সূর্য তার কপালে একে দিয়েছে মায়াবী এক লাল টিপ। ফেরার পথে দেখলাম “কালা পাহাড়” বা “পাহাড়ের রাণী” হিসেবে খ্যাত চিম্বুকের সৌন্দয্য । দেখলাম তার পাদদেশে গড়ে উঠা মারমা উপজাতিদের জীবনযাত্রা। তারপর শৈল প্রপাত অবলোকনের পর ফিরে আসা। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে সমৃদ্ধ করা পার্বত্য অঞ্চলের সৌন্দর্য উপভোগের পর এবারের উদ্দেশ্যে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। সন্ধ্যায় কক্সবাজার এসে রাতের খাবারের পর সৈকতের পাশে বসল সমাপন স্যারের নেতৃত্বে গানের আসর।

studentsকক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে আইডিয়াল কলেজের শীর্ষ মেধাবীরা

রাতের নিঃস্তব্ধতায় সমুদ্রের গর্জনের সাথে সুর মিলিয়ে এগিয়ে চলল গান পর্ব। রাত্রিশেষে পরদিন রামু বৌদ্ধ মন্দির, রাবার বাগান ও নাইক্ষ্যানছড়ি দেখে এসে সন্ধ্যায় বার্মিজ মার্কেটে কেনাকাটা। পরদিন যাত্রা শুরু হলো হিমছড়ির শীতল পানির ঝরণা ও ইনানী সমুদ্র সৈকতের উদ্দেশ্যে। বাসে এগোতে থাকল এক পাশে রাশি রাশি পাহাড় এবং আরেক পাশে বিস্তৃত জলরাশিকে পেছনে ফেলে।

পাথুনে ইনানীতে পৌঁছে উপভোগ করলাম গভীর সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া সূর্য্যের। সূর্য বিদায় জানালো দিনকে, আমরা বিদায় জানালাম ইনানীকে। ১লা ফেব্রয়ারী দিবাগত সন্ধ্যা সাতটায় যাত্রা শুরু হলো ঘরে ফেরার । শিক্ষা সফর সম্পর্কে উপাধ্যক্ষ মহোদয় বললে- “নতুন ছাত্র-ছাত্রী কলেজে ভর্তি হওয়ার পর তাদেরকে এ ব্যাপারটি অবগত করানো হয় যা তাদেরকে পড়াশুনার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা যোগায়। কেননা শুধুমাত্র শীর্ষ মেধাবীরাই সুযোগ পায় শিক্ষা সফরে অংশ নেয়ার”।

অধ্যক্ষ মহোদয় বলেন- “বার্ষিক শিক্ষা সফর আইডিয়াল কলেজের ঐতিহ্য, এ ধারা অব্যহত থাকবে এবং ভবিষ্যতে তা আরও সার্থক প্রাণবন্ত করার ক্ষেত্রে আমরা সচেষ্ট থাকব।”

লেখক: প্রভাষক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, আইডিয়াল কলেজ, ঢাকা।

ট্যাগ: