banglanewspaper

ইরাকে আইএসআইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় দুই দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। আর এর ফলে সমস্যায় পড়ে গিয়েছে ভারত! মার্কিন প্রেসিডেন্টে ওবামার সিদ্ধান্তে বিমান হামলার এই সিদ্ধান্তে দিল্লি সরকার চিন্তায় পড়েছে, এমনই মন্তব্য এসেছে আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে।

কুর্দিস্তানের রাজধানী আর্বিলের অদূরে জঙ্গিদের উপর কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুদফায় বোমা ফেলল মার্কিন যুদ্ধবিমান। ২০১১ সালের শেষাশেষি ইরাক থেকে সেনা সরিয়েছিল আমেরিকা। তার পর এমন হামলা এই প্রথম।

আনন্দবাজার প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরাকে এই বোমাবর্ষণ শুরু হওয়ায় জোড়া উদ্বেগে ভারত। প্রথমত, বিমান হানা আরম্ভ হতেই বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। ধাক্কা লেগেছে শেয়ার বাজারে, পড়েছে টাকার দাম। ফলে নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রথম বাজেটের যাবতীয় হিসেবনিকেশ গুলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
উদ্বেগের দ্বিতীয় কারণ, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে রয়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয়। তাদের সকলকেই দেশে ফিরিয়ে আনা যায় কি না, তারও চিন্তায় পড়েছে দিল্লি।

আমেরিকা যখন ইরাকে বিমান হানা শুরু, তখন মার্কিন প্রতিরক্ষাসচিব চাক হাগেল দিল্লিতে। এ দিন তার সঙ্গে মোদীর বৈঠক ছিল। বৈঠকে হাগেলের সঙ্গে ইরাক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন মোদী। মোদী জানান, ইরাকে ভারতের স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু যে ভাবে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।

এ সময়, কেন ওবামাকে বোমাবর্ষণের সিদ্ধান্ত নিতে হল, মোদীকে তার ব্যাখ্যা দেন হাগেল। সেই সঙ্গে আমেরিকা তার অভিযানের খুঁটিনাটি ভারতকে জানাবে বলেও আশ্বস্ত করেন।

আনন্দবাজার প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস দুয়েক আগে ইরাকের মসুলে ৪১ জন ভারতীয় শ্রমিককে অপহরণ করেছিল জঙ্গিরা। এখনও তাদের খোঁজ নেই। তিকরিতে অপহৃত হয়েছিলেন ৪৬ জন ভারতীয় নার্স। তাদের অবশ্য দেশে ফিরিয়ে আনা গিয়েছিল। সেই ঘটনাকে প্রথম কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলেও ধরেছিল মোদী সরকার। কিন্তু এ বার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

১৫ হাজার ভারতীয়কে দেশে ফিরিয়ে আনা হলে সেটিই হবে ভারতের সব চেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান। বহু ভারতীয় যেমন ইরাকে কাজ করেন, তেমনই সে দেশের একেবারে উত্তর অংশে ভারতীয় সংস্থার উপস্থিতিও রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই, ইরাকের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এর সঙ্গেই রয়েছে তেলের দাম নিয়ে চিন্তা। সৌদি আরবের পরেই ইরাক থেকে ভারতে সবথেকে বেশি তেল আমদানি হয়। শুধু তা-ই নয়, গোটা বিশ্বের বাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করলেও তা মোদী ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠবে।

কারণ জেটলি বাজেটে রাজকোষ ঘাটতি ৪.১ শতাংশে বেঁধে রাখার যে চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন, তার অন্যতম প্রধান শর্তই হল, বিশ্বের বাজারে তেলের দাম বাড়বে না এবং টাকার দামও পড়বে না। ফলে তেল আমদানির খরচ লাগামের মধ্যেই থাকবে। এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে গেলে এবং টাকার দাম পড়লে গোটা হিসেবটাই গুলিয়ে যাবে।
কাজেই ওবামা যতই ‘নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ’-এর কথা বলুন, মোদী প্রশাসনের কপালে ভাঁজ। কেন এই নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ওবামা বলেন, আর্বিল ও বাগদাদে কর্মরত মার্কিন অফিসারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের অন্যতম কারণ। সেই জুন মাস থেকে নাগাড়ে হামলা চালাচ্ছে আইএসআইএস জঙ্গিরা। তা হলে নিরাপত্তার প্রশ্ন এখনই কেন ভাবাচ্ছে ওবামাকে? কারও কারও সন্দেহ, জঙ্গি-দমনের ‘অছিলায়’ কি ইরাকে ফের আধিপত্য বাড়াতে চাইছে আমেরিকা?

আনন্দবাজারের ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, দীর্ঘদিনের যুদ্ধ সত্ত্বেও এত দিন আপাত শান্ত ছিল কুর্দিস্তান। কিন্তু এ বার আইএসআইএস জঙ্গিরা সেখানেও ঢোকার চেষ্টা শুরু করেছে বলে শোনা যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, উঠেছে গণহত্যার অভিযোগও।

আন্তর্জাতিক মহলের অভিযোগ, আইএসআইএস জঙ্গিরা বড়-ছোট নির্বিশেষে তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হত্যাকা- চালাচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শিশুদেরও রেহাই দিচ্ছে না জঙ্গিরা। এ ক্ষেত্রে নিজেদের ধর্মের লোকদেরও ছাড়ছে না জঙ্গিরা। অনেকেই বলছেন, কুর্দিস্তান-সহ ইরাকের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে তেলের খনিগুলির দখল নিতেই এলাকায় আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে আইএসআইএস। সে কারণেই ওই অঞ্চল থেকে আর্তি উঠেছে, আমাদের বাঁচাও!