banglanewspaper

সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের মোটা ও চিকন চাল কেজিপ্রতি ২ থেকে ৩ টাকা করে বেড়েছে। সব থেকে বেশি বেড়েছে জিরা ও হাচকি নাজিরশাইল চালের দাম। কেজিপ্রতি বেড়েছে ৩ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত।

নগরীর পলাশী কাঁচাবাজারে ইসমাইল হোসেনের দোকানে ভালো মানের প্রতিকেজি জিরা নাজিরশাইল ৪ টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়ে হাচকি নাজিরশাইল ৪২ এবং ৩ টাকা বেড়ে পারিজা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়ে মিনিকেট চাল ৪৮ থেকে ৫০, আটাশ চাল ৩ টাকা বেড়ে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালও কেজিপ্রতি ৩ টাকা বেড়ে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মিল মালিকরা বলছেন, ধানের দাম বাড়ায় চালের দামও বেড়েছে। এখন প্রতিমণ ধান এক হাজার ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে মিল মালিকদের। চালকলগুলোতে পাইকারিতে প্রতিকেজি মিনিকেট ৪৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি হচ্ছে।

চালের দাম বাড়া প্রসঙ্গে বিশ্বাস এগ্রো ফুড লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুর্শিদ মোহাম্মদ মিয়া জানান, এখন কৃষকের ঘরে গচ্ছিত ধান ফুরিয়ে এসেছে। সব ধান প্রায় আড়তদারদের কাছে জিম্মি। যে কারণে আমাদের বাড়তি দামে ধান কিনতে হচ্ছে।

‘এখন আমাদের প্রতিমণ ধান এক হাজার ৫০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। সেই হিসেবে চালের দাম বাড়তি।’

ঈদের পরে হঠাৎ করে চালের বাড়তি দাম প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘ধানের দাম রোজার মাঝামাঝিতেই বেড়েছে। কিন্তু আমরা রোজার মধ্যে চালের দাম বাড়াইনি। কিন্তু এখন চালের দাম না বাড়ালে লাভ থাকবে না। এখন প্রতিকেজি মিনিকেট ৪৩ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করে কেজিপ্রতি আমরা এক টাকা লাভ করি।’

জিরা নাজিরশাইলের দাম বাড়া প্রসঙ্গে বৈরি আবহাওয়া ও ধানের আমদানি কমে যাওয়াকে দোষছেন মিল মালিকরা । মিল মালিকরা কাবা বাছাইকৃত ৫০ কেজি ওজনের প্রতিবস্তা জিরা নাজিরশাইল চাল ১ হাজার ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

মেসার্স কাবা অটো রাইস প্রসেসিং মিলের স্বত্ত্বাধিকারী মানসুর রহমান জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারণে চাল তৈরি করতে বাড়তি খরচা লাগছে। ঘন ঘন বৃষ্টিতে চাতালে চাল তৈরি করা কঠিন হচ্ছে। ধান শুকাতে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। গুনতে হচ্ছে বাড়তি শ্রমিক খরচা।  

বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে দেশি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম। নগরীর মহাখালি কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি বাছাইকৃত দেশি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নাসিক মোটা পেঁয়াজও ৪০ থেকে ৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

স্থিতিশীল আছে সবজির দাম। নিউমার্কেট কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি টমেটো ১৪০, শিম ৮০, মূলা ৪০, পেঁপে ৩০, ঢ্যাড়স ৪০, বেগুন ৪০, গাজর ৬০, আলু ২৫, বরবটি ৫০, করলা ৫০, কচুরমুখী ৪০, কচুরলতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি লাউ ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

তবে বেড়েছে কাঁচামরিচের দামও। প্রতিকেজি কাঁচামরিচ ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কমেছে দেশি ও চায়না রসুনের দাম। প্রতিকেজি দেশি ও চায়না রসুন ৭০ থেকে ৭৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ান আদা ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

বাজারভেদে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগির দাম। পলাশী কাঁচা বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হলেও গুলশান কাঁচাবাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার ১৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যান্য মাংসের দাম স্থিতিশীল আছে। প্রতিকেজি গরু মাংস ২৯০ থেকে ৩০০, খাসী ৪০০ থেকে ৪৫০ ও দেশি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। 

তবে মাছের দাম বাড়েনি। নগরীতে ৯০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরদিকে প্রতিকেজি পাঙ্গাস ১৪০ থেকে ১৫০, কই ৩০০, বাইন মাছ ৬০০, মাঝারি কাতলা ৩২০, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩২০ ও সিলভার ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ট্যাগ: