শুধু খাওয়ার জন্যই নয়, সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে রূপচর্চা আর শরীরের ক্ষতিপূরণেও মধু কার্যকর।

আয়রন, ক্যালশিয়াম, ফসফেট, সোডিয়াম ক্লোরাইন, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক মধু ত্বক কোমল করে। পাশাপাশি চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

সম্প্রতি ফিমেলফার্স্ট ডটকো ডটইউকে’তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অবলম্বনে মধুর গুণাগুণ আর ব্যবহার নিয়ে কিছু পন্থা এখানে দেওয়া হল।

শুষ্ক ত্বকের প্রতিকার

মধু সাংঘাতিক রকমের প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। যা শুষ্ক ত্বকে চমৎকার কাজ করে। কনুই আর হাঁটুর ত্বক নরম করে। শুধু তাই নয়, ফাটা ঠোঁটেও ম্যাজিক ঘটায় মধু।

হাঁটু, কনুই, ঠোঁট বা ত্বকে পরিমাণমতো মধু নিয়ে মালিশ করুন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

শক্তিবর্ধক

এনার্জি ড্রিংক আর কফি খেয়ে এনার্জি বাড়ানোর কথা ভুলে যান। এমনকি দ্রুত শক্তি পেতে যে চিনি খাওয়া হয়, সেটারও দরকার নেই। বরং প্রকৃতিকভাবে শক্তির অধিকারী হতে চিনির পরিবর্তে মধু খাওয়া শুরু করুন।

চা, বেইক বা রান্না— যেখানেই প্রয়োজন সেখানে চিনির পরিবর্তে মধু দিন। কয়েকদিন পরেই বুঝতে পারবেন আপনি আগের চাইতে আরও কর্মচঞ্চল হয়ে উঠছেন।

চুলের প্রতিকার

প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে মধু অসাধারণ। চুলের ময়েশ্চারাইজার বাড়ানোর পাশাপাশি মাথার ত্বক পরিষ্কার করে চুল করে রেশম-কোমল।

শ্যাম্পু ব্যবহার করার সময় এক চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এতে চুল কোমল হবে। অথবা ডিপ কন্ডিশনিং ট্রিটমেন্টের জন্য অলিভ অয়েলের সঙ্গে মধু মিশিয়ে চুলে মাখুন। ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।

স্বস্তিতে আরাম

সারাদিনের ক্লান্তি দূর করতে গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা মধু মিশেয়ে দিন। দেখবেন শরীর ঝরঝরে লাগছে। কারণ মধু মাংসপেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।

হ্যাংওভার কাটাতে

সারারাত পার্টি করেছেন। পরদিন মাথা ধরে আছে। কোনো অসুবিধা নেই রয়েছে মধু। ২/৩ টেবিল-চামচ পরিমাণ মধু হ্যাংওভার কাটাতে সাহায্য করে। কারণ শরীরের মেটাবলিজম প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করে মধু।

ফেইশল

যদি ঘরে মধু থাকে তবে পয়সা খরচ করে বিউটি পার্লারে গিয়ে স্পা আর ফেইশলের কোনোই প্রয়োজন নেই। মধুর শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, জ্বালাপোড়া বিহীন আল্ট্রা-ময়েশ্চারাইজিং উপাদান ত্বকের জন্য উপকারী।

শুধু মধু মুখে মাখা যায়। আবার দুই টেবিল-চামচ মধুর সঙ্গে দুই চা-চামচ দুধ মিশিয়ে মুখে মেখে রাখুন। ত্বকে ভালোমতো শুষে নেওয়ার জন্য ১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর ধুয়ে পরিষ্কার করে ফেলুন।

স্বাভাবিক এক্সফলিয়েটিং ফেইশলের জন্য মধুর সঙ্গে সামান্য চিনি মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন ময়েশ্চারাইজিং স্ক্রাব।