banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট: উষ্ণতার নিরিখে ২০১৬-কে টেক্কা দিতে চলেছে ২০১৭৷ সারা দেশের তাপমাত্রা রেকর্ড হারে বাড়বে৷ বাদ যাবে না এ রাজ্যও৷

আলিপুর আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, চলতি বছর মার্চ-এপ্রিল ও মে মাসে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ ডিগ্রি বেশি থাকবে৷ যদিও আবহাওয়া গবেষকদের দাবি, এ বছর জুন মাসের শেষ দিকে রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলির পাশাপাশি শহর কলকাতার তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছতে পারে৷ এমনকী, বর্ষার আগমনেও বিস্তর বিলম্ব হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা৷

আবহাওয়া বিজ্ঞানের ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছিল ২০১৬৷ বিজ্ঞানীরা জানিয়েছিলেন, ১৮৮০ সাল থেকে আবহাওয়ার যে রেকর্ড রাখা রাখা হয়েছে, তার মধ্যে ২০১৬ সাল উষ্ণতম৷ দেশের উত্তর-পশ্চিমের রাজ্যগুলির পাশাপাশি এ রাজ্যেও জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিয়েছিল শুখা পশ্চিমি হাওয়া৷ রাজস্থানকে হারিয়ে বাঁকুড়ার তাপমাত্রা পৌঁছেছিল ৪৮ ডিগ্রিতে৷ গত এক দশকের রেকর্ড ভেঙে সাতদিন তাপপ্রবাহের কবলে পড়েছিল শহর কলকাতাও৷ এ বছর সে রেকর্ডও ভাঙতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা৷

মঙ্গলবার মৌসম ভবন থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে এ বছর গ্রীষ্মকালে ফের নাস্তানাবুদ হতে হবে দেশবাসীকে৷ বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিমের রাজ্যগুলিতে তাপমাত্রা রেকর্ড হারে বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে আবহাওয়া দফতর (আইএমডি)৷ মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত চলবে তপ্ত আবহাওয়া৷

আবহাওয়া গবেষক ডঃ সুজীব কর জানিয়েছেন, এলনিনো চক্রটি যেটা দক্ষিণ দিকে সরে গিয়েছিল, পয়লা মার্চ থেকে সেটি ফের নিরক্ষরেখার উপর ফিরে এসেছে৷ যার জেরে তাপমাত্রা রেকর্ড হারে বাড়বে৷ মে মাসের শেষের দিকে শহরের তাপমাত্রা ৪২-৪৪ ডিগ্রির আশপাশে ঘোরাফেরা করবে৷ তাঁর কথায়, মে মাসের শেষের দিকে এ রাজ্যে মৌসুমি বায়ু ঢুকতে শুরু করে৷

কিন্তু এল নিনো মৌসুমি বায়ুর গতিপথ আটকাবে৷ যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে বৃষ্টিপাত হলেও বর্ষার বৃষ্টি পেতে হাপিত্যেশ করতে হবে রাজ্যবাসীকে৷ পাকাপাকিভাবে বর্ষা ঢুকতে জুনের শেষ সপ্তাহ হতে পারে৷ বর্ষা ঢেরিতে ঢোকায় তাপমাত্রা দ্রূত গতিতে বাড়বে৷ কলকাতার তাপমাত্রা সেই সময় ৪৮ ডিগ্রি পর্যন্ত ছুঁতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি৷

জলীয়বাষ্পের ভরভরন্তে তীব্রতার পাশাপাশি অস্বস্তিসূচক বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সুজীববাবু৷ আলিপুর আবহাওয়া দফতরের উপ মহানির্দেশক সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য এত আগে থেকে পূর্বাভাস দিতে রাজি নন৷ তিনি জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের মতো এ বছরেও রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি যেমন বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বর্ধমানে চোখ রাঙাবে তাপমাত্রা৷ এ বছর গ্রীষ্মে কী হতে চলেছে, তার ট্রেলার অবশ্য শুরু হয়ে গিয়েছে মার্চেই৷ বুধবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.১ ডিগ্রি৷ যা স্বাভাবিকের থেকে দু’ডিগ্রি বেশি৷

ট্যাগ: