banglanewspaper

খুলনা প্রতিনিধি: ‘বাটাগুর বাসকা’ প্রজাতির একটি কচ্ছপ ৩১টি ডিম দিয়েছে। সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের বিলুপ্ত প্রায় কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রের পুকুরে থাকা প্রাপ্ত বয়স্ক চারটি কচ্ছপের মধ্যে একটিতে শনিবার (৪ মার্চ) এ ডিমগুলো দেয়।

এই প্রথম সুন্দরবনের কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র থেকে ৩১টি ডিম পাওয়া গেল। ডিমগুলো শনিবার পাড়ার পর তা সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিলুপ্ত প্রায় এ প্রজাতির কচ্ছপের প্রজননের মাধ্যমে বংশ বিস্তারের উদ্দেশ্যে ২০১৪ সালে করমজলে কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। গড়ে ওঠার পর থেকে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানীরা প্রজনন ও সংরক্ষণ কাজ করছে।

করমজল পর্যটন ও প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আজাদ কবির বলেন, কেন্দ্রের পুকুর পাড় থেকে ডিমগুলো সরিয়ে নিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বাচ্চা ফুটানোর ‘হোলনেসট’ এ রাখা হয়েছে। থার্মোমিটার দিয়ে নিয়মিত ডিম রাখা ‘হোলনেসট’ এ তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে। তাপমাত্রা কম-বেশি হলে ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তবে সাধারণত তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেট এর মধ্যে থাকলে ভাল হয়। ৩৪ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেট এর বেশি হলে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। তা না হলে ডিমগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হতে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রের স্টেশন ম্যানেজার আ. রব বলেন, ৩১টির মধ্যে শতকরা ৭০/৭৫ ভাগ ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হতে পারে। আবার ভ্রুনজনিত সমস্যায় সবগুলো ডিম ও বাচ্চা নষ্টও হয়ে যেতে পারে। এই মুহুর্তে বলা কঠিন যে আসলে কতটা বাচ্চা ফুটতে পারে। তবে যাতে শতভাগ ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় সেজন্য পরিচর্যা করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়া সফল হলে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত প্রায় বাটাগুর বাসকা প্রজাতির কচ্ছপের বংশধর রাখা সম্ভব হবে।

ট্যাগ: