banglanewspaper

রাজশাহী প্রতিনিধি: চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারী বিলুপ্ত প্রজাতির এক মদনটাক পাখি উদ্ধার করেছিল বন বিভাগের কর্মকর্তারা। রাজশাহীর পবা উপজেলার হাড়ুপুর গ্রামের কেতাব আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে পাখিটাকে উদ্ধার করা হয়।

পবায় বন বিভাগের নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রেখে প্রায় তিন মাস চিকিৎসার পর পাখিটা সুস্থ্য হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে পাখিটাকে সুন্দরবন পাঠানো হয়। পরে এ দিন দুপুরেই রাজশাহীতে উদ্ধার হলো আরেকটি মদনটাক।

রাজশাহী মহানগরীর কয়েরদাঁড়া এলাকা থেকে পাখিটাকে উদ্ধার করা হয়। আগেরটি ছোট প্রজাতির মদনটাক হলেও নতুন মদনটাকটির দৈহিক গঠন দেখে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বড় মদনটাক।

রাজশাহী বন বিভাগের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার রবিউল ইসলাম জানান, কয়েরদাড়া এলাকার মহররম আলীর ছেলে মামুন আলী (২৮) বৃহস্পতিবার সকালে আহত অবস্থায় পাখিটাকে বিল থেকে ধরে এনেছিলেন। খবর পেয়ে দুপুর আড়াইটার দিকে পাখিটাকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে আসা হয়। পাখিটার পা ও ঘাড়ে আঘাত আছে। একেও চিকিৎসার জন্য পবায় বন বিভাগের নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, পাখিটার দৈহিক গঠন দেখে মনে হচ্ছে, এটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বড় মদনটাক। পাখিটা মাছ খেতে খুব ভালোবাসে। তাই তাকে মাছই খেতে দেয়া হচ্ছে। এর আগেরটিকেও প্রতিদিন মাছ খেতে দেওয়া হতো। সুন্দরবন মদনটাকের আদি নিবাস। আগের পাখিটিকে বৃহস্পতিবারই সুন্দরবন পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসার পর সুস্থ্য হলে নতুনটিকেও সেখানে পাঠানো হবে।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ আলী জানান, মদনটাক সাধারণত জলচর পাখি। জলাশয়ের পাশেই থাকে। কখনও কখনও পথ ভুলে লোকালয়ে চলে আসে। পাখিটা বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে। উদ্ধার হওয়া পাখিটার পিঠের দিক ঘন কালো। দেহের নিচের দিক সাদা। মুখের চামড়া ও ঘাড় লালচে। পা লম্বা। মাথায় টাক।

বন বিভাগ জানিয়েছে, ২০১১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সুন্দরবনের কলাগাছিয়ায় একটি ছোট মদনটাক দেখা যায়। ২০১৩ সালের এপ্রিলে দুটি ছোট মদনটাক চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুর থেকে উদ্ধার করা হয়। ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় একটি মদনটাক পাওয়া যায়।

এরপর গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারী রাজশাহীর পুঠিয়া থেকে একটি মদনটাক উদ্ধার করা হয়। এর ঠিক এক বছর পর এ বছরের ৭ ফেব্রুয়ারী রাজশাহীর পবা থেকে একটি মদনটাক উদ্ধার করা হয়। এর প্রায় তিন মাস পরই রাজশাহীতে আরেকটি মদনটাক পাওয়া গেল।

পদ্মার বিস্তির্ণ চরে বিলুপ্ত এই পাখিটা আশ্রয় খুঁজছে বলেই ধারণা করছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

ট্যাগ: