banglanewspaper

ডেস্ক রিপোর্ট : মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার খ্যাতি সর্বত্রই। যত দূর চোখ যায় কেবল সবুজের হাতছানি। চা বাগানের সারি সারি টিলা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর ঘন সবুজ অরণ্যের অপরূপ সৌন্দর্য আকৃষ্ট করে সবাইকে। তাই তো চিরসবুজের শোভা আর বৃষ্টিস্নাত পাহাড়ি সৌন্দর্য দেখতে পর্যটকরা বার বার ছুটে যায় চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গলে।  

১৯টি চা বাগানের সতেজ সবুজ পাতায় পূর্ণ হয়ে আছে শ্রীমঙ্গলের নিসর্গশোভা। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য আর নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে বেড়াতে যাওয়ার এখনই সময়। যদিও বৃষ্টির সময়, তারপরও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়রা প্রস্তুতি নিয়ে বেরিয়ে পড়তে পারেন এ সময়েই।

এ বর্ষায় চা বাগান ঘেরা শ্রীমঙ্গল সেজেছে নতুন সাজে। যেদিকে চোখ যায় উঁচু নিচু পাহাড়, পাহাড়ের বুকজুড়ে চা বাগানের সারি, পাহাড়ি ঝরনা, চারদিকে প্রকৃতির নজরকাড়া সৌন্দর্য, হাজার প্রজাতির গাছ-গাছালি, দিগন্তজোড়া হাওর আর নীল জলরাশি ঢেউয়ের ছন্দে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।

এ সৌন্দর্য দেখতে কিন্তু খুব বেশী সময়ের দরকার নেই। হাতে মাত্র একদিন সময় নিয়েই বেরিয়ে পড়তে পারেন সবুজের সমারোহে। ঢাকা থেকে ভোরে যাত্রা করে আবার রাতেই ফিরে আসতে পারেন।


অবস্থান
দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলা সদর থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণে শ্রীমঙ্গলের অবস্থান। ৪২৫ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ জনপদের সঙ্গে রেল ও সড়কপথে যোগাযোগ রয়েছে সারাদেশের।


কোথায় কোথায় যাবেন  
একদিনে হয়তো শ্রীমঙ্গলের সম্পূর্ণ সৌন্দর্য দেখা সম্ভব নয়। তবে পরিকল্পনা করে বের হলে তার অনেকটাই উপভোগ করা সম্ভব। সব জায়গা না ঘুরে বিশেষ বিশেষ কিছু স্পট তো দেখাই যায়।


লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান 

শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একমাত্র ন্যাশনাল পার্ক লাউয়াছড়ার অবস্থান। ১৯২০ সালে ১ হাজার ২৫০ হেক্টর জায়গাজুড়ে প্লান্টেশন করে তৈরি ধনরাজি এখন ঘন প্রাকৃতিক বনের আকার ধারণ করেছে। জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই পার্কে দেখা মেলে বিভিন্ন বিরল প্রজাতির পশুপাখি। এখন এই পার্কটি ধীরে ধীরে দেশের শিক্ষা, গবেষণা, ইকো-ট্যুরিজম স্পট হয়ে উঠেছে। এখানে আসার পথে রাস্তার দুই ধারে দেখতে পাবেন সবুজ অরণ্য। দেখতে পাবেন বিচিত্র সব পশুপাখি।



 

মাধবপুর লেক
শ্রীমঙ্গল বেড়াতে এসে আপনি দেখে যেতে পারেন অন্যতম পর্যটনের স্থান মাধবপুর লেক। সকালে কিংবা বিকেলে শ্রীমঙ্গল থেকে একটি ভাড়া গাড়ি নিয়ে যেতে পারেন মাধবপুর লেকে। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে দুটি রাস্তায় সেখানে যাওয়া যায়। এটি শ্রীমঙ্গল থেকে ১৫ কি: মি: পূর্বে শ্রীমঙ্গলের পাশ্ববর্তী কমলগঞ্জের মাধবপুর চা বাগানে। লাউয়াছড়া প্রবেশের মূখে হাতের ডান দিকে নুরজাহান চা বাগানের ভিতর দিয়ে অথবা ভানুগাছ বাজার হয়ে সেখানে যাওয়া যায়। গাড়ি থেকে নামতেই আপনার চোখে পড়বে চারদিকে সবুজ পাহাড়। পাশাপাশি উঁচু-উঁচু টিলা। সমতল চা বাগানে শত শত গাছের সারি। হয়তো এরই মাঝে একঝাঁক পাখি আপনাদের আমন্ত্রণ জানাবে তার সুরের মুর্চ্ছনায়।
হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের পদভারে পুরো বছরই মুখরিত থাকে এ লেক।

আনারস বাগান
স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয় শ্রীমঙ্গলের আনারসের খ্যাতি রয়েছে দেশ জুড়ে। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে যাওয়ার পথে চোখে পড়বে রাস্তার দু’পাশে আনারস বাগান।

লেবু বাগান
খুব ভোর উঠে যদি শ্রীমঙ্গলের বাজারে যান, তাহলে দেখবেন শুধু লেবু আর লেবু। নিজের চোখকেই অবিশ্বাস্য মনে হবে এতো লেবু শ্রীমঙ্গলে জন্মে।

কিভাবে যাবেন
প্রতিদিন ঢাকা থেকে শ্রীমঙ্গলের পথে চারটি আন্তঃনগর ট্রেন যাত্রা করে কমলাপুর রেলষ্টেশন থেকে। এছাড়া সায়েদাবাদ থেকেও আসতে পারবেন চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলে।

ভ্রমণ পরিকল্পনা :

সকাল ০৬.৪০ মিঃ – ০৭.০০ মিঃ কমলাপুর / এয়ারপোর্ট স্টেশন থেকে ট্রেনে শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে যাত্রা।

সকাল ১১.০০-১১.০০ মিঃ শ্রীমঙ্গলে আগমন।

সকাল ১১.১৫-১২.০০ মিঃ পানসী রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খাওয়া (বিরিয়ানী+কোক+পানি)।

দূপুর ১২.৩০-০১.০০ মিঃ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ভ্রমণ।

দূপুর ০১.১৫-০১.৩০ মিঃ ফুলবাড়ি চা বাগান ভ্রমণ।

দূপুর ০২.১৫-০২.৪৫ মিঃ মাধবপুর লেক ভ্রমণ।

দূপুর ০৩.১৫-০৪.৩০ মিঃ নুরজাহান চা বাগান, লেবু বাগান, ও আনারস বাগান ভ্রমণ।

দূপুর ০৪.৫০-০৫.১৫ মিঃ বিকেলের হাল্কা নাস্তা (চা+রুটি+কলা)।

বিকেল ০৫.১৫ মিঃ ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা।

রাত ১০.০০-১০.৩০ মিঃ ঢাকায় পৌঁছা। ট্যুর সমাপ্ত।

ট্যাগ: